ডয়েচ এমন একটি ভাষা যেটা শিখতে গেলে যে কেউই প্রথমে ভড়কে যান। এটার পেছনে অবশ্য যুক্তি সংগত কারণ আছে বলেই এমনটা ঘটে। আমার আড়াই বছরের জার্মান জীবনে যতটুকু ডয়েচ ভাষা শিখেছি সেখান থেকে কিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে ভাগাভাগি করতে ইচ্ছে হলো। আমার মতে ডয়েচ শিখতে হলে যে কাউকেই নিচের টিপস গুলোকে মাথায় রাখতে হবে।

১) শুরুতে যে জিনিষটি মাথায় রাখতে হবে তাহলো কোন দেশের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালবাসা। আপনি জার্মানী আসবেন এবং সেখানে কিছুদিন থাকবেন সুতরাং সেই দেশটির প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা থাকতেই হবে। এটি না থাকলে আপনি ভাষাটা যতই শিখতে চান; পারবেন না। আমি অনেক ভাল ছাত্রদের জার্মানী থেকে জার্মানীর প্রতি উন্নাসিক ভাব দেখেছি। আপনি যদি ক্যারিয়ারের প্রতি সচেতন হন তবে অবশ্যই জার্মানীর সংস্কৃতির প্রতি আপনার ভালবাসা থাকতে হবে। ভালবাসা থাকা মানে তাকে গ্রহন করতেই হবে সেটা নয়; কমপক্ষে শ্রদ্ধাটুকু বজায় রাখলে ভাষা শেখাটা সহয হবে।

এখন কথা হলো শ্রদ্ধা বজায় রাখবেন কিভাবে? আমি সব সময়ই বলি রাজশাহীর মানুষ যদি রাজশাহীর ভাষায় বিশ্বের সব জায়গায় কথা বলতে পারতো তাহলে সে ইংরেজি ভাষা শিখতে যেতোনা। জার্মানরা জাত প্রকৌশলী জাতি। তারা গর্ব করে বলে, ‘ভিয়ার জিন্ড ইনগিনিয়ার’। এর কারণ হলো তাদের বাড়ির গ্যারেজে প্রকৌশলের প্রায় সব জিনিষপত্রেরই মযুদ থাকে। কোন একদিন একটা ছোট কাজ পেলাম। যে বাসায় কাজ পেলাম সেই মালিক স্টূটগার্ট শহরেরই শুধু নয় উনি পুরা জার্মানীরই নামকরা কয়েকজন স্থপতিদের মধ্যে একজন। আমেরিকা, বৃটেন যান গ্রামের যাবার মত। তো উনি আমাকে বললেন, ‘এখানে কাজ করতে হলে ডয়েচ জানা লাগবে। আমরা ইংরেজিকে কেয়ার করিনা। যদিও ইংরেজি জানি’। আসলেই তারা কেয়ার করেনা। সুতরাং আপনি যেখানেই কাজ করেন না কেন আপনাকে ডয়েচ জানতে হবে। বাধ্যতামুলক যে তা নয়। আপনি একদিন মাত্র কয়েকটা ডয়েচ বলে দেখেন। তাদের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারবেন। সুতরাং যেখানেই কাজ করেন বা বাস করেন; জার্মানীতে থাকলে ডয়েচটা শিখে ফেলেন।

২) আপনার অসম্ভব ধৈর্য থাকতে হবে। আমার মত ছ্যাচরা প্রকৃতির না হলে ডয়েচ শেখাটা বোধকরি কঠিন। আমি সব সময় চোখের সামনে যা দেখি পড়ে বুঝার চেষ্টা করি। যেমন ধরেন একদিন কোন একটি বাসার বেড়ার উপর ঝুলানো নোটিশ (ডয়েচে Notice= ফরসিক্ট) দেখলাম। একটা কুকুরের ছবি দিয়ে তাতে লেখা ‘ইশ ভাখে’। দুইদিন দেখে দুইভাবে ভাবলাম। ‘ইশ ভাখে’ কথার অর্থ হয় হবে ‘আমি ঘেউ ঘেউ করি’ অথবা ‘আমি সজাগ’। মিলিয়ে দেখলাম তার অর্থ অবৈধ অনুপ্রবেশ করবেন না; আমি সজাগ’। প্রচুর ভাষা শেখার মাধ্যম আপনার সামনে। আপনি চাইলে বিনা পয়সায় ভাষা শিখতে পারেন। এখানকার চেইনশপের পত্রিকা পড়লেও বোধকরি ভাষা শেখাটা ডাল ভাতের মত। বাসে, ট্রামে, ট্রেনের সুরেলা কন্ঠি ঘোষণা শুনেন, বুঝতে চেষ্টা করেন অথবা প্রশ্ন করেন দেখবেন ভাষা শেখাটা অনেক সহজ। আমি সব সময় শুনি। তাদের উচ্চারণ বুঝতে চেষ্টা করি।

মায়েরা বাচ্চাদের সাথে যখন কথা বলে; আমি কান খাড়া করে শুনি। অনেক কিছু শেখা যায়।

৩) আপনি এখানে যখন ফেসবুক লগিন দেবেন অথবা কোন ওয়েব সাইটে ঢুকবেন দেখবেন নানান ধরণের বিজ্ঞাপণ সামনে আসবে। তাদের প্রায় সবই ডয়েচে। আমি ডয়েচের বিজ্ঞাপণ দেখলেই পড়ি। সেগুলো গুগুলিং করে তার অর্থ বুঝতে চেষ্টা করি। লিখে রাখি। এটা করলে আপনার ভোকাবুলারী বাড়বে। শব্দের সংগ্রহ বাড়বে। আপনি যত নতুন নতুন শব্দ শিখবেন তত ডয়েচের প্রতি আপনার আগ্রহ বেড়ে যাবে। সাথে সাথে আপনি অফিসিয়াল কোন কাজেও সাহস করে ডয়েচে কথা বলার সামর্থ অর্জন করবেন।

৪) জার্মান বন্ধু-বান্ধবী থাকলে তাদের সাহস করে ডয়েচে মেসেজ বা মেইল দেবার চেষ্টা করেন। তাদের সাথে ডয়েচে কথা বলেন। ভুল হলে তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপমাণ করবেনা বা হাসাহাসি করবেনা। আপনার ভুল ধরিয়ে দেবে। প্রশ্ন করেন। তারা উত্তর দেবে। আমার যেমন উম্লাউট ‘ও’, ‘এ’ এবং ‘উ’ তে বিশাল সমস্যা। আমি তবুও যখনই পাই তাদের সাথে কথা বলি। একটা কথা সত্য; তারা জন্মের পর থেকেই ডয়েচে কথা বলে সুতরাং চাইলেই খুব সুচারু ভাবে তাদের মত উচ্চারনে আমাদের কথা বলা সম্ভবনা। একটু আধটু এদিক ওদিক থাকবেই।

লিখেছেন Shah Waez