বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ বর্তমানে MRP Passport এর জন্য বাংলাদেশে এমব্যাসি জার্মানির ওয়েবসাইট দেখুন।

জার্মানিতে আসার পরে আমাদের অনেকেরই পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। আর তখন ভাবনায় পড়ে যাই কি করব? কিভাবে পাসপোর্ট রিনিউ করব । দেশে পাসপোর্ট করতে মোটামুটি যে পরিমাণ ঝামেলা কমবেশি সবারই পোহাতে হয়েছিল , এখানেও কি তেমন হবে নাকি? তাহলে তো অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। নিজের কথাই বলি ৫ বছর আগে ইমার্জেন্সি পাসপোর্ট করতে ৩ বার ঢাকা টু গাজীপুর দৌড়াইতে হইছিল। যাই হোক সে কথা বাদ দিয়ে জার্মানিতে কি করে আপনার পাসপোর্ট রিনিউ করবেন সে কথায় আসি।

আগেই বলে নেই , দেশের কথা ভুলে যান । এখানে পাসপোর্ট রিনিউ করতে তেমন কোন ঝামেলা পোহাতেই হবে না। যেহেতু এখানে সব কিছুই সিস্টেমে চলে তাই বাংলাদেশ এম্বেসিও তেমনি আপনি যদি সব কিছু সিস্টেমেটিক ভাবে করেন তা হলে কোন ঝামেলা ছাড়াই পাসপোর্ট রিনিউ করতে পারবেন। আমি যেখানে থাকি সেখান থেকে বার্লিনের বাংলাদেশ এম্বেসি প্রায় ৬৮০+ কিলোমিটার দূরে। এত দূর থেকে পাসপোর্ট রিনিউ করতে আমার সশরীরে যেতেও হয় নি। এবার আসা যাক কি করতে হবে।

ধাপ-১

প্রথমে বাংলাদেশ এম্বেসি বার্লিনের http://www.bangladeshembassy.de/passportform.pdf

এই লিঙ্কে গিয়ে ফর্মটি ডাউনলোড করুন ।

ধাপ -২

এবার ডাউনলোড করা ফর্ম এর ৪ নাম্বার মানে একদম শেষ পাতায় চলে যান। সেখানে ইন্সট্রাকশন বা নির্দেশনার ৩ নাম্বার ধাপে Renewal of passport এই অংশটা ভাল করে পড়ে ফেলুন।

ধাপ -৩

এবার একদম শেষের Please note the following carefully এই অংশটা ভাল করে পড়ুন।

আবারও বলছি ইন্সট্রাকশন পার্টটা ভাল করে পড়ুন তাহলে আপনি নিজে নিজেই বাকী কাজগুলো করতে পারবেন।

ধাপ -৪

এবার এই ফর্মের পার্ট -১, পার্ট -২ ও পার্ট -৪ ফিলাপ করে ফেলুন। পার্ট -৩ আপনার দরকার নেই তাই ফিলাপ করার দরকার নেই।

ধাপ-৫

পার্ট -১ এর শুরুতেই বাঁপাশের ঘরে যেখানে আপনার ছবি দিতে বলা হয়েছে সেখানে আঠা দিয়ে আপনার এককপি ছবি এড করে দিন।

ধাপ -৬

এবার ছবি সহ ফিলাপ করা ফর্ম ও আপনার বর্তমান পাসপোর্টের ১-৩ নাম্বার পাতা পর্যন্ত ফটোকপি করে নিন ।

ধাপ -৭

এবার আবার আপনার ডাউনলোড করা ফর্মের একদম শেষে Please note the following carefully এই খানে দেয়া জার্মান এম্বেসি এর একাউন্টে পাসপোর্ট রিনিউ ফি ট্রান্সফার করে ফেলুন। ট্রান্সফার ফি পাঠানোর পরে যে কনফার্মেশন পেপার বা ট্রান্সফার পেপার পাবেন সেটার একটা কপিও আপনার পাসপোর্ট আর ফিলাপ করা ফর্মের কপির সাথে দিলে ভাল হয় ।

ফি নিয়ে কিছু কথা-

এখানে ২ ধরনের পাসপোর্টের কথা বলা আছে – ১) ৬৪ পাতা আর ২) ৪৮ পাতা । যেহেতু ইউরোপের মধ্যে ঘুরতে আপনার ভিসা লাগছে না মানে পাসপোর্টের পাতায় বেশি সিল পড়ছে না আর আপনি যদি খুব বেশি দেশে দেশে ঘোরাঘুরি না করে থাকেন তা হলে ৪৮ পাতার পাসপোর্ট নিলে খরচ কম হবে ।শুধু শুধু বেশি পাতার পাসপোর্ট নিয়ে কি করবেন ?

আর ২ ধরনের ফি আছে আর্জেন্ট বা জরুরী আর না হয় নরমাল।

আপনার যদি নিতান্তই ইমার্জেন্সি না হয় তা না হলে নরমাল করাই বেটার । আর পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হবার এক মাস বা দেড় মাস আগে থেকেই যদি আপনি প্রসেস করেন তা হলে নরমালই করা যায়। আমি পেপার্স পাঠানোর ৩ সপ্তাহ বা তার কিছুদিন পরে পাসপোর্ট ফেরত পাই । আমি ভাবছিলাম নতুন পাসপোর্ট দিবে কিন্তু খুলে দেখি আমার পুরানো পাসপোর্টেই নতুন ৫ বছর ডেট সহ রিনিউড সিল দিয়ে ফেরত দিয়েছে। একটা সিল দিয়ে ৯৫ ইউরো নিয়ে নিছে। তার মানে খুব বেশি জরুরী না হলে নরমাল করাই ভাল ।

ধাপ ৮

এবার তাহলে আপনার ফিলাপ করা ফর্ম , সেই ফর্মের ফটোকপি, আপনার পাসপোর্টের ফটোকপি (ধাপ ৬ এ বলা ডকুমেন্টগুলো) আর এম্বেসির একাউন্টে পাঠানো ট্রান্সফার অর্ডারের পেপার আর অরিজিনাল পেপার্স নিয়ে চলে যান ডয়েচে পোস্টের অফিসে। আর যদি এম্বেসি এর আশে পাশে বা বার্লিনের থাকেন তাহলে সরাসরিও এম্বেসিতে গিয়ে জমা দিতে পারেন।

আমি ডয়েচে পোস্ট বা ডাকে পাঠাইছি। যেহেতু আপনার পাসপোর্ট আবার ডাকেই আপনার বাসায় ফেরত আসবে তাই আপনার বাসায় ফেরত পাঠানোর জন্য ফিরতি একটা খামও আপনার ডকুমেন্টের সাথে দিয়ে দিতে হবে। আপনি ডয়েচে পোস্ট বা কুরিয়ারের লোকদের বললে তারাই আপনাকে ফিরতি খামে স্ট্যাম্প দিয়ে দিবে। এবার আপনার সব ডকুমেন্ট আর অরিজিনাল পাসপোর্ট এর সাথে ফিরতি খাম একটা খামের মধ্য দিয়ে পাঠিয়ে দিন। আপনি ডয়েচে পোস্ট বা কুরিয়ারের লোকদের বললে তারাই সব ব্যবস্থা করে দেবে । যেহেতু পাসপোর্ট পাঠাবেন তাই নরমাল ডাকে না পাঠিয়ে ৩-৪ ইউরো খরচ করে রেজিস্টার ডাকে পাঠানোই ভাল ।

এবার আর কি সপ্তাহ ৩-৪ অপেক্ষা করেন। মাসখানেকের মধ্যেই আশা করি পাসপোর্ট ফেরত চলে আসবে। মাস খানেক পার হয়ে যাবার পরেও পাসপোর্ট ফেরত না পেলে এম্বেসির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

ধন্যবাদ।