টাইটেল দেখে অনেকের মনে কোনে হাল্কা শিহরন বয়ে যেতে পারে। কি মজা চিপাগলি দিয়ে নীল কার্ড!

এইবার আসি আসল কথায়। নো মোর ফান।
আজকের এই লেখা একটা স্পেসিফিক সিনারিওতে কীভাবে নীল কার্ডের জন্য এপ্লাই করতে হবে এবং উহার চিপাগলির সাথে পরিচিত হওয়ার উপর বয়ান ।

সিনারিও:

আপনি আপ্নার জারমান মাস্টার্স (এই সিনারিওর জন্য ব্যাচেলর প্রযোজ্য না, দুঃখিত ) এর শেষ পর্যায়ে, লাইক আরেকটু ঠেলা দিলেই শেষ হয়ে যাবে (থিসিস এর এক্সপেরিমেন্ট শেষ, লেখা ফাইনাল হওয়া বাকি)। এখন ঘটনা হইল আপনি খেলার ছলে জবের এপ্লাই করতে গিয়া ইন্টারভিউ এর ডাক পেয়ে বস্লেন এবং চাকরিও পেয়ে বস্লেন (ও মাইরি, অস্থির অবস্থা), কোম্পানিও আপনাকে ছাড়া বাচতে পারবে না। তাদের অমুক মাসের অমুক দিনে আপনাকে চাই ই চাই (নাইলে চাকরি ঝুলাই দিবে)।আপনি গভীর চিন্তায় পরে গেলেন, এখন কি হবে ! আমি কুলহারা কলঙ্কিনি !!আপনার থিসিস জমা দিয়ে মাস্টার্স এর সার্টিফিকেট পাইতে পাইতে, তারপর সেই সার্টিফিকেট নিয়া এপ্লাই করতে করতে, ততদিনে আপনার কোম্পানি আপনাকে চুস মাখেন করে দিবে বলে হুমকি দিচ্ছে (ও নো)। এখন উপায় !!

ইয়েস উপায় একটা আছে, সেইটা হলো আপনার ব্যাচেলর সার্টিফিকেট দিয়ে নীল কার্ডের জন্য এপ্লাই করা।

সবার প্রথমে আপনাকে চেক করে দেখতে হবে বাংলাদেশে আপনার ইউনি প্লাস আপনার ডিগ্রি জারমান সমতুল্য কিনা। সিল্পি এই লিঙ্কে যাবেন, সার্চ ট্যাবে ক্লিক করে বাংলাদেশ আর আপনার ইউনি সিলেক্ট করে যদি দেখেন স্ট্যাটাস H+ তাইলে আপ্নে আলেছ গুট আছেন। আচ্ছা H+ হচ্ছে সেই ইউনিগুলা যাদের ডিগ্রি জারমানে রিককনাইজড। এই H+ স্ট্যাটাস ছাড়া অন্য কোন স্ট্যাটাস জারমানে গ্রহণযোগ্য নয়।

ধরে নিলাম আপনার ইউনি H+। গ্রেট আমরা এক ধাপ আগায় গেলাম আমাদের প্রসেসিং প্রক্রিয়ায়। এরপরের স্টেপটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে আপনাকে যেটা করতে হবে এই লিঙ্ক থেকে এই ফর্মটা ডাউনলোড করে নিতে হবে। তারপর আপনার ভবিষ্যৎ কোম্পানির সুন্দরি / সুন্দর এইচ আরকে বলতে হবে এইটা ফিলাপ করে দাও দয়া করে, সাথে কোম্পানির একটা কষা ছিল মেরে দিতে বলবেন। এই ফর্মটা রেডি হয়ে গেলে কাজ মোটামুটি শেষ। এইবার বলি ফর্ম এর কাহিনী। এই ফর্মটা আসলে জার্মান ল্যাবর মিনিস্ট্রিতে যাবে দেন ঐখান থেকে ওরা আপনার জব কন্ট্রাক্ট প্লাস এই ফর্মটা চেক করে আপনার কোম্পানির এভরিথিং দেখে একটা গ্রিন সিগনাল দিয়ে দিবে আউস্ল্যান্দারবেহরদেতে। এই ভেরফিকেশন হইতে ১০/১২ টা ওয়ার্কিং ডে লাগে কিন্তু জার্মান সরকারি অফিসগুলা যে ঢিলার ঢিলা তাই হাতে একটু সময় নিয়ে এপ্লাই করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। দেন সেখান থেকে এইটা যাবে বার্লিনে। সেখানে আপনার নীল কার্ড প্রিন্ট হবে। একটা বেপার যাদের হাতে অলরেডি জার্মান ডিগ্রির সার্টিফিকেট আছে তাদের এই ফর্মটা ফিলাপো করা লাগবে না অতিরিক্ত ২/৩ সপ্তাহ ওয়েটও করা লাগবে না। কারন জার্মান ডিগ্রি থাকলে এই ফর্ম ভেরিফিকেশনের দরকার নাই। জার্মান সার্টিফিকেট দেখাইলে সব ঠাণ্ডা (হু লু লু ইমো হবে )।

চাকুরি নিয়ে সরাসরি ব্লু-কার্ড ভিসায় জার্মানিতে আগমন, আমার অভিজ্ঞতা

এই লিঙ্কের ফ্লো চার্টটা ভালো করে দেখলেই বুঝতে পারবেন সবকিছু (আশাকরি)।

এখন এমন হইতে পারে আপনি ভিসা অফিসে গিয়ে বললেন, আমার মাস্টার্স শেষ হইতে আর কিছুদিন বাকি কিন্তু আমি আমার দেশের ব্যাচেলর ডিগ্রি দিয়ে এক্ষনি নীল কার্ড এর জন্য এপ্লাই করব, এই কথা শুনে ভিসা অফিসারের মাথা চক্কর দিলো। বলে বস্লো জার্মান ডিগ্রি ছাড়া এক পাও আগাবো না (আমার ক্ষেত্রে ঠিক এমনটাই হইছিলো)। এই ক্ষেত্রে তারে সুন্দর করে একটা বয়ান দিবেন যে আমি তোমার কাছে মামা বাড়ীর আবদার করতে আসি নাই, আইনে যা আছে তাই বলতেছি। এই লিঙ্কে § 19a Blaue Karte EU এর সেকশন 1(a)তে বলা আছে হয় জার্মান ডিগ্রি অথবা রিককনাইজড ফরেন ডিগ্রি হলেই চলবে।

আরেকটা ওয়ে আছে সেইটা হইলো আপনার দেশী ডিগ্রিকে এসেছ করে নেয়া। এই এসেছমেন্ট চাইলে যে কেউ করতে পারেন যেকোনো সময় বাট একটু পয়সা খসবে।এই লিঙ্কে হিসাব-পাতি দেয়া আছে। এইটা করা থাকলে সুবিধা হইল উপরের ল্যাবর মিনিস্ট্রির ঐ ফর্মটা ফিলাপ করা লাগবে না, কারন আপনার দেশী ডিগ্রী অলরেডি ভেরিফাইড। আরো বিস্তারিত ইনফো পাবেন এই দুই লিঙ্কে 1 2

আমি উপরের পন্থা অবলম্বন করে নীল কার্ড হাসিল করে ছিলাম এবং আমার কোম্পানির দেয়া সময়ে জবে জয়েন করেছিলাম। জবে জয়েন করার দেড় মাস পরে আমি আমার মাস্টার্স সার্টিফিকেট হাতে পাই। আমি যদি ততদিন ওয়েট করে বসে থাকতাম আমার জব কন্ট্রাক্ট নিশ্চিত তদ মাখেন করতো।


বাংলাদেশে থেকে জার্মান ব্লু কার্ড এবং ভিসা পেতে হলে

পাদটীকা:
যারা আমার এই পোস্ট দেখে আনন্দে আকু পাকু করতেছেন এই ভেবে যে, তাইলে তহ হইলই, মাস্টার্স এর খেতা পুড়ি এখনি লেহা পড়া বাদ দিয়ে জবের ধান্দা করি। তাদেরকে বল্বো আপনাদের জন্য এক বদনা সমবেদনা। চুপচাপ পড়াশোনায় মন দেন। আমি আমার ভিসা অফিসার এবং আমার কোম্পানি দুই জনকেই বুঝাইতে সমর্থ হইছিলাম যে আসলেই আমার ডিগ্রি অল-মোস্ট শেষ (আমার সুপারভাইজারের কাছ থেকে লিখিত চিঠি নেয়া লাগছিলো, যেটাতে স্পষ্ট বলা ছিল অমুক মাসের অমুক তারিখে আমি অফিসিয়ালি আমার মাস্টার্স থিসিস সাবমিট করব)