Khaled Rahman Rabbi

সিজিপিএ ২.৯১৩ এবং আমার জার্মান ভিসা পাওয়ার গল্প।

My Profile:

BD University: Sylhet Agricultural University
B.Sc. Program: Agricultural Economics and Business Studies
Graduation Completed: July, 2018
CGPA: 2.913
Paper Published: 0

Job Experience: None
Masters: Not Completed
IELTS score : 6 ( L-7, R-5, W-5, S-7)
German Language Level: 0
Scholarship: No

Applied To : 11 Universities
REJECTED: 7 Universities
ACCEPTED: 4 Universities
ACCEPTED by the Universities:

01. UNIVERSITY OF KASEEL
02. BIELEFELD UNIVERSITY
03. BTU COTTBUS
04. OVGU MAGDEBURG

Enrolled in: Brandenburg Technical University Of Cottbus
Subject : Environmental & Resource Management
Applied via uni-assist: 12th of May
Sent papers : 30th of May
Uni-assist forwarded my papers: 20th of June
Offer letter received : 8th of July

Visa interview : 20th of August
Email received : 23rd of september
Visa received : 24th of September
Arrived in Germany: 2nd of October
Enrolled In Desired University: 4th of October

***ভিসা ইন্টারভিউ বাকি সবার মতোই ছিলো তাই এই এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে লিখে লিখা লম্বা করতে চাচ্ছিনা।

যতটুকু সহজে মিনিট দশেকেই কথা গুলো লিখে দিলাম তত সহজ ছিলোনা পুরো জার্নিটা। অনেক গুলো নির্ঘুম রাত, শেয়ার না করা অনুভুতি, পরিবারের প্তিটা মানুষের আমাকে টেনশন, ব্লক এমাউন্ট জোগাড়ের গল্প আর ভালো কিছুর জন্যে অধীর অপেক্ষা। একা কিছুই সম্ভব হয়নি।

সবকিছুই সম্ভব হয়েছে উপরওয়ালার কৃপা এবং আমার পরিবারের প্রত্যেকটা মানুষের আমার জন্যে করা সেক্রিফাইসের বদৌলতে। আলহামদুলিল্লাহ।

আর কিছু ভালো মানুষ আমাকে খুব কাছে থেকে সাহায্য করেছেন। কি রাত? কি দিন? এই মানুষগুলোকে কল/ম্যাসেজ দিতে দিতে আমিই অনেক সময় হাপায় যেতাম কিন্তু তারা বিরক্ত হয়নি। ক্যাম্পাসের সিনিয়র ভাই Marshal Marsh প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটা স্টেপে আমাকে বুঝানো থেকে শুরু করে এখনও পাশে আছেন। অনেক ইনফরমেশন ভাই নিজে থেকেই বলতো। আমিও ইচ্ছামত যখন তখন ভাইকে জ্বালাইছি।

Shahrul Alam ভাইকে কে যে কি পরিমান জ্বালাইছি।ওফার লেটার পাওয়া থেকে একই ফ্লাইটে করে ইস্তানবুল পর্যন্ত ভাই আমাকে সহ্য করে পরে হামবুর্গের প্লেনে উঠে Kiel University তে চলে যায়। ভাই আর আমি একই সাথে এপ্লাই করি এবং ভিসাও কয়েকদিন আগে পরে হাতে পাই।

Mahedy Hasan Bappy ভাই ও মাহবুব ভাই বার্লিন থেকে রিসিভ করে নিয়ে আসা থেকে এখন পর্যন্ত সবকিছুতেই উনাদের হেল্প পাচ্ছি। BTU এর অফার লেটার পাওয়ার পর থেকেই মেহেদী ভাইকে জ্বালাইতেছি এখনও চলছে, চলবে। আজকের এই লিখাটাও উনার রুমে মুরগির মাংস দিয়ে পেটচুক্তি ডিনার করে এসে আমার রুমে বসে বসে লিখছি।

এই গ্রুপের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। অনেক বড় বড় কনফিউশনের খব সহজ সল্যুশন পেয়েছি। সবার আন্তরিকতার প্রশংশা যতই করি কম হবে। গ্রুপটা ছিলো বলেই আমার মত ছাত্র যাকে কম সিজি এর কারনে অনেক কিছু ফেস করতে হয়েছে সেও জার্মানিতে পড়ার স্বপ্ন দেখতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট/আরটিকেল এবং যেকোন কনফিউশনে কেউ না কেউ এগিয়ে আসবেই, এই জিনিসটা সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে এবং এটা অনেক এফেক্টিভ।

সবশেষে বলি, অনেকেই বলেন লো সিজিপিএ দিয়ে কিচ্ছু হবে না। লো সিজিপিএ হোল্ডার হলে আপনার পক্ষে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহন করা সম্ভব না,অফার লেটার পাওয়া যাবে না, ভিসা দিবে না হাবিজাবি অনেক কিছুই শোনতে হয়।

প্রথমেই বলতে চাই “যদি স্বপ্ন দেখার মতো দেখে থাকেন এবং আপনার মনের প্রবল ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবটুকু এফোর্ট দিলে স্বপ্ন সত্যি করা সম্ভব। আপনাকে কিছু স্পেসিফিক ইউনিভার্সিটির লিস্ট করতে হবে যেসব ইউনিভার্সিটিতে সিজিপিএ এর ধরাবাধাঁ নিয়ম নাই। আরেকটা ছোট্ট টিপ্স , নিজের প্রোফাইল নিজেই ইভালুয়েশন করে নিজের লিমিটেশন বুঝা। এখানে সোজা কথা হচ্ছে, আপনি তো জানেন যে আপনার প্রোফাইল এবং সিজিপিএ কেমন?? এই লো সিজিপিএ নিয়ে জার্মানীতে পড়তে চান তাও আবার সেই ইচ্ছা যদি হয় সেরা ১০ ইউনিভারসিটির মাঝে একটা তাহলে আপনিই আপনার পথ শুরুতেই কঠিন করে ফেলবেন। আপনার এই গরিব মার্কা সিজিপিএ দিয়েও আপনার কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছানো আর দশজনের মতোই সম্ভব। বাকিটা উপরওয়ালার দয়া।

আমি এখানে আমার মতো যারা লো সিজিপিএ ওয়ালা গরীব পাবলিক তাদের জন্যেই মূলত এই কথাগুলো লিখেছি। অবশ্যই আপনার সিজি যত উপরে থাকবে আপনার জন্যে এডমিশন পাওয়াটা সহজ হবে। তবে যারা জার্মানিতে এসে একটা ভালো ইউনিভারসিটিতে পড়তে চায় কিন্তু সিজিপিএ নিয়ে টেনশনে আছে তাদেরও তো একটা স্বপ্ন আছে, নিজেকে নিয়ে কিছু ভাবে তারাও। তারা কি করবে? অবশ্যই বসে থাকা উচিত নয়। চেষ্টা চালিয়ে যেতে দোষ কি? আরেকটা কথা, এখানে আপনি যে ইউনিভারসিটি থেকেই পাশ করে বের হোন না কেনো আপনার যদি যোগ্যতা থাকে তাহলে ফিউচারে জব একটা না একটা হয়েই যাবে। এটা আমি বিশ্বাস করি। তাই সবসময় র‍্যাঙ্কিং নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি আমার কাছে একটু অহেতুক মনে হয়। দেশে বসে রেঙ্কিং নিয়েই চিন্তায় পরে থাকলে আপনার এপ্লাইও করা হবেনা, জার্মানে এসে পড়ার স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে।

তবে হ্যা!! ইটা সত্য যে সিজি লো হলে কিন্তু বাকিদের মতো আপনার পথটা এতো সহজ সহজ হবেনা। এটা আগে থেকেই মেনে নিয়েই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আর মনে রাখবেন, এই যোদ্ধে টিকে