বাইরে পড়াশোনার জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে অনেক রকম ডকুমেন্টের দরকার পরে. অনেকগুলো ডকুমেন্টের মধ্যে একটি হচ্ছে লেটার অফ মোটিভেশন (letter of motivation) কিংবা লেটার অফ ইনটেন্ট (letter of intent) কিংবা পার্সোনাল স্টেটমেন্ট (personal statement) কিংবা স্টেটমেন্ট অফ পারপাস (statement of purpose). নাম ভিন্ন হলেও এসবগুলোর কাজই প্রায় এক রকম এবং উদ্দেশ্যও এক. বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় যে এই ডকুমেন্টটি নিয়ে অনেকের মধ্যেই ব্যাপক রকমের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করে. আসলে এই দ্বিধা-দ্বন্ধের মুলে কাজ করছে ডকুমেন্টটির লেখা নিয়ে আমাদের চারপাশে প্রচলিত অনেক রকম কথাবার্তা. আসলে এই ডকুমেন্টটি লিখার তেমন কোনো সুনির্ধারিত নিয়ম নেই. তবে হা, বেশকিছু সাধারণ নিয়ম-কানন রয়েছে. পার্সোনাল স্টেটমেন্ট কিংবা লেটার অফ মোটিভেশন কিংবা লেটার অফ ইনটেন্ট এর মধ্যে আসলে তেমন গুণগত কোনো পার্থক্য নেই. এই লেটারটি লিখার অনেকগুলো উদ্দেশ্য রয়েছে. 
তবে একদম প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনি যে জায়গায় আবেদন করছেন তাদেরকে আপনার সম্পর্কে একটি ভালো ধারণা দেয়া. এই ধরণের লেটারের জন্য অনেক রকম কন্ডিশন দেয়া থাকে অনেক সময় – যেমন একটি নির্ধারিত শব্দসংখ্যার মধ্যে লিখতে হবে, আবার কিছু কিছু প্রশ্ন দেয়া থাকে, যেগুলোর উত্তর প্রধানের মাধ্যমে লেটারটি লিখতে হবে ইত্যাদি. তবে যে রকম কন্ডিশন দেয়াই থাকুক না কেন, মোটামুটি বেশকিছু জিনিস আপনাকে মাথায় রাখতে হবে লেটারটি লিখার সময়- 
১. লেটারটি প্যারা করে লেখা ভালো. মূলত প্রধান তিনটি প্যারা থাকবে- একটি ছোট ভূমিকা, বডি (যেটা কয়েক প্যারা হতে পারে) এবং সবশেষে একটি উপসংহার থাকবে. 
২. লেটারটির কনটেন্ট প্রস্তুতির সময় নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে- 
* কি করেছি? (What I have done) 
* কি করতে চাই? (What I wish to do) 
* কোথায়, কেন এবং কোন প্রোগ্রাম এ আবেদন করছি? (Where, why and for which program I am applying) 
* করেছি এবং করতে চাই এর সাথে আবেদনের সম্পর্ক (Love triangle – relationship among done, to do and applying) 
৩. লেটারটি আপনি প্রথম চেষ্টাই একদম পারফেক্ট লিখতে পারবেন এমন না. আপনাকে প্রথমে একটি খসড়া দাঁড় করতে হবে. তারপর সেই খসড়ার প্রতিটি বাক্যকে দেখতে হবে আমি আর কত সুন্দর করে সাজাতে পারেন. এই রকম করে দুই-তিন বার লিখার পর, একটি ফাইনাল ড্রাফট প্রস্তুত করতে হবে. 
৪. ফাইনাল ড্রাফটি অবশ্যই ভালো কাউকে দিয়ে চেক করে নিবেন. তারপর উনি কিছু ফিডব্যাক দিবেন এবং আপনি আবার সেই ফিডব্যাক অনুযায়ী আপনার লেখাটি ফাইনাল এডিট করে নিবেন. আর যদি নিতান্ত পক্ষে কাউকেই না পান তাহলে অনলাইনে ginger নামক গ্রামার চেক এবং প্যারাফ্রেসিংর একটি সাইট আছে . যেটা ফ্রি কিন্তু লিমিটেডভাবে ব্যবহার করতে পারেন.
যেকোনো রাইটিংএ বার বার চেষ্টা করার বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ. লেখার ক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় দুইটা অন্তরায় হচ্ছে লেখার প্রতি আমাদের আন্তরিকতার অভাব আর ধৈর্য্য. কিন্ত আমাদের চেষ্টা করতে হবে, অনুশীলন করতে হবে. মনে রাখবেন, practice makes permanent. সবার সফলতা কামনা করছি.

নূর-আল-আহাদ
বিবিএ (ইউনিভার্সিটি অফ ঢাকা) ১৪ তম ব্যাচ 
এমবিএ (ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া) 
ফিনান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষক (জাপান)