আমি গত বছরের ডিসেম্বরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করি, এখন আমি Karlsruhe, Germany তে Frontend Engineer হিসেবে কাজ করি।

(মূল লেখক –> গোলাম রব্বানী)

(ফেসবুকে লেখাটি দেখতে চাইলে –> এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।)

অনেকদিন ধরে শেয়ার করব করব বলে করা হচ্ছিল না। কারণ মিলিয়ে লিখতে পারছিলাম না। বাংলাদেশ থেকে খুব কম লোকই জার্মানি/ইউরোপ আসে জব নিয়ে। যেখানে ইন্ডিয়ানরা এসব ক্ষেত্রে আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে । যাদের দক্ষতা আছে কিন্তু নিজের উপর আস্থা নাই, তাদের ইউরোপের দেশগুলোতে চাকরিতে আবেদন করতে উৎসাহিত করার জন্য লিখছি।অনেকে মনে করেন জব নিয়ে জার্মানিতে আসা খুব কঠিন। এর জন্য ৫/১০ বছরের অভিজ্ঞতা লাগে না আবার খুব ট্যালেন্টেড হওয়াও লাগে না। শুধু একটু কষ্ট করে সুন্দর করে অ্যাপ্লাই করলেই হয়। ব্যাপার টা ভার্সিটির প্রফেসর ম্যানেজ করা থেকেও অনেক অনেক সহজ।(যদি আপনি আসলেই কাজ পারেন)।
যাইহোক, আমার প্ল্যান ছিল GRE আর TOEFL দিব, আর এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম , পরীক্ষার তারিখ ও নিয়ে নিছিলাম। হঠাৎ মাথায় আসল ইউরোপে জব নিয়ে যাওয়া যায় কিনা দেখি । কারণ আমি শর্টকাট খুঁজছিলাম।

-_- কারণ স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে হইলে ১ বছর লাগবে যদি জব পাই তাহলে লাগবে ৩/৪ মাস এমন একটা চিন্তা মাথায় ঘুরছিল তখন (আসলে ব্যাপারটা এতটাও সহজ ছিল না )। আর USA/Canada র চেয়ে ইউরোপের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল বেশি তখন (পাশেই মধ্যপ্রাচ্য, যাইহোক কয়েকটা জব এ অ্যাপ্লাই করার পর রেসপন্স দেখে আমি আর লোভ সামলাতে না পেরে GRE আর TOEFL পরীক্ষার তারিখগুলি বাতিল করে দিই আর যে ৫০% টাকা ফেরত পাই তা দিয়ে আমি মেস এর ভাঁড়া দিই! আমার মনে হয় আমি হাজারের উপরে জবে অ্যাপ্লাই করেছিলাম আর ৫০ টার উপরে কোম্পানিতে interview দিছিলাম। নীচে কিছু স্ক্রিনশট দিলাম

আমার জন্য এই সংখ্যা টা একটু বেশিই লাগছে। কারণ আমি ইন্টার্ভিউ দিতে দিতে অনেক কিছু শিখছি আবার অনেক গুলা জব এ এমনিই অ্যাপ্লাই করেছি, যদি লেগে যায় টাইপ আরকি!

আমি ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশে একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ শুরু করি। এদিকে, গত বছরের আগস্ট থেকে আমি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চাকরির জন্য আবেদন করেছি। দেখতে থাকি কোথায় কি opportunity আছে। এর মধ্যে মাঝে মাঝে interview র ডাক পাই। interview দিতে থাকি আর ফেইল করতে থাকি। আর ওইখান থেকে শিখে পরবর্তী ইন্টার্ভিউর প্রস্তুতি নেই। গত ডিসেম্বরেই একটা এস্তনিয়ান কোম্পানি তে ৫ টা interview দেয়ার পর তারা তাদের অফিস সফরের জন্য আমাকে তিন দিনের জন্য স্পনসর করে। বিমানের টিকিট, থাকার জায়গা, সমস্ত খাবার খরচ এস্তোনিয়ান কোম্পানিটি বহন করবে। আমার ভিসার সাক্ষাৎকারটি ছিল জার্মান দূতাবাসে।কারণ এস্তোনিয়ার শেঞ্জেন ভিসা পেতে জার্মান দূতাবাসের দরকার পড়ে। কিন্তু ভিসা পাই নাই। কিছুটা হতাশ হয়ে যাই আর একটু গ্যাপ দেই। মানে অ্যাপ্লাই কম করি। এরই মধ্যে, আগস্টে, ঢাকায় বেশ কয়েকটি কোম্পানিতে আবেদন করেছিলাম। সেখান থেকে বেশ একটা ফোন আসে। আমি ভাবলাম, বসে না থেকে কাজ করলে আমার অভিজ্ঞতা হবে। যাই হোক না কেন, কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দেবার পরে চাকরী পেয়েছিলাম। তারপরে আমি কোম্পানিটিতে কাজ চালিয়ে যাই। একই সাথে, আমি অনলাইনে জার্মানির বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরির জন্য আবেদন করি। যেহেতু এস্তোনিয়াতে হয়নি, তাই আমি স্থির করেছিলাম যে আমি জার্মানিতেই চাকরীর জন্য আবেদন করব। যদি ইউরোপর অন্যান্য দেশেও অ্যাপ্লাই করতে থাকি অল্প স্বল্প।

শেষমেশ এপ্রিলে বর্তমান কোম্পানিতে ইন্টার্ভিউর ডাক পাই এরপর একে একে ৪/৫ টা ইন্টার্ভিউ দিই। মে মাসের শুরুতে জব অফার পাই। এরপর বেতন + সুবিদাদি আলোচনা করে ভিসার প্রক্রিয়া শুরু করি। কোম্পানিই সব কিছুতে হেল্প করছিল। কিন্তু সব কিছু শেষ হওয়ার পর জার্মান দূতাবাসে ইন্টার্ভিউর সময় পেতে বিপত্তি লাগে। প্রায় ২০ দিন পর তারিখ পাই এরপর ১ সপ্তাহের মধ্যে ভিসা পেয়ে যাই। কারণ আমার কাগজপত্র সব আগে থেকেই কোম্পানি রেডি করে দিয়েছিল। এরপর আগস্টের ২৬ তারিখ চলে আসি। কত টাকা লাগছে? আর আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানির দেয়া টেম্পোরারি এপার্টমেন্টে (যেটার মাসিক ভাঁড়া ২১০০ ইউরোর মত ) আছি নতুন বাসা খুঁজে পাওয়া পর্যন্ত ২ মাসের মত। প্লেনের টিকেট, ভিসা ফি, এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল পর্যন্ত যাতায়াত খরচ সব কোম্পানি বহন করছে, সাথে ১ মাস এর বেতন এর সমপরিমাণ টাকা (ট্যাক্স ফ্রি) শুরুতে দিয়ে দিছে।

আমার কাজের অভিজ্ঞতা বলতে কলেজে পড়ার সময় থেকে ফ্রিল্যান্সিং করে আসছি । আমি বিশ্ববিদ্যালয় থাকতে ছয় মাস একটি বেসরকারী কোম্পানিতে পার্ট টাইম চাকরি করি। আর ইন্টার্ভিউ দেয়ার সময় একটা সফটওয়্যার কোম্পানি তে তখন প্রায় ৩ মাসের মতো হয়েছিল https://rabbani.dev

আর হ্যাঁ, জার্মানি তে জব ভিসায় আসতে IELTS/TOEFL, German Language Test কিছুই লাগে না বিঃদ্রঃ লেখাটা আইটি রিলেটেড ফিল্ড এ যারা আছে তাদের জন্য প্রযোজ্য।তবে অন্যদেরও কাজে লাগবে আসা করি।

No photo description available.
No photo description available.
No photo description available.
mm

By Golam Rabbani

Hello, I am Golam Rabbani, Did my bachelors degree from Daffodil International University in Software Engineering. Currently Living in Karlsruhe and working as a Frontend Engineer.

2 thoughts on “রিসেন্ট গ্র্যাজুয়েট হয়েও সরাসরি ব্লু কার্ড নিয়ে আমার জার্মানি আসার অভিজ্ঞতা”

Leave a Reply