জার্মানীতে অনেক ইউনিভার্সিটিতে ইউনিএসিস্ট এর মাধ্যমে এপ্লাই করতে হয়.ইউনিএসিস্ট এর মাধ্যমে এপ্লাই করতে হলে নির্দিষ্ট কিছু ফি দিতে হয়.ইউনিএসিস্ট এর ফি দুইভাবে দেয়া যায়

১. ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক ট্রান্সফার
২. ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ড

বাংলাদেশ থেকে ভিসার আগে ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাঠানো খুবই কঠিন.ব্যাংক থেকে টাকা পাঠানো যেহেতু খুব কঠিন আপনি দ্বিতীয় অপশনটির কথা চিন্তা করতে পারেন.কিন্তু আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ড নেই,আপনি কিভাবে ক্রেডিট (Credit) কার্ড দিয়ে টাকা পাঠাবেন ? এক্ষেত্রে আপনার জন্য সহজ সমাধান হচ্ছে ডিবিবিএল ভার্চুয়াল কার্ড.ভার্চুয়াল কার্ড হচ্ছে অনেকটা ক্রেডিট (Credit) কার্ডের মতো যেখানে আপনি নির্দিষ্ট পরিমান টাকা আগে থেকে জমা রাখতে পারবেন এবং কার্ডের নাম্বার ব্যবহার করে আপনার জমাকৃত টাকা খরচ করতে পারবেন.


Uni-assist এপ্লিকেশন ফিস দেয়ার সহজ পদ্ধতি – NRB Commercial Bank


ভার্চুয়াল কার্ড করার জন্য যেসব ডকুমেন্ট লাগবে সেগুলো হলো :

১. ইউনিএসিস্ট পেমেন্ট চেয়ে আপনাকে যে পিডিএফ ফাইলটি ইমেইল করেছে তার প্রিন্টেড কপি.এই কপিতে যেখানে Uni Assist আর টাকার এমাউন্ট এর কথা বলা আছে সেই অংশগুলো হাইলাইট করে নিয়ে যাবেন.যেখানে আপনার নাম,আপনি যে ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করছেন তার নাম লেখা থাকবে সেই অংশটুকুও হাইলাইট করতে ভুলবেন না.
২. আপনি যে ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করেছেন সেই ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটের যে পেইজে Uni Assist এর মাধ্যমে এপ্লাই করতে বলা হয়েছে সেটার প্রিন্টেড কপি. Uni Assist যেখানে যেখানে লেখা সেখানে হাইলাইট করে নিয়েন.
৩. DAAD এর ওয়েবসাইটের যে পেইজে Uni Assist এর মাধ্যমে এপ্লাই করতে বলা হয়েছে সেই পেইজের প্রিন্টেড কপি. এখানে Uni Assist যেখানে যেখানে লেখা হাইলাইট করে নিয়েন.
৪. আপনি স্কুলে বা ইউনিভার্সিটিতে সর্বশেষ যে পরীক্ষা দিয়েছেন তার সার্টিফিকেট এর এক কপি ফটোকপি.(অনেকের কাছেই হয়তো সার্টিফিকেট চায়নি কিন্তু আমার কাছে চেয়েছিলো.আমি ব্যাচেলরের সার্টিফিকেট এর ফটোকপি দিয়েছিলাম)
৫. আপনার অরিজিনাল পাসপোর্ট এবং পাসপোর্ট এর এক কপি ফটোকপি.
৬. আপনার এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি.

এখানে শুধু অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়েছে। তবে যেকোন কিছু করার আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে দেখে, শুনে, বুঝে করবেন। ধন্যবাদ।

উপরে উল্লেখিত সবগুলো ডকুমেন্ট নিয়ে ডাচ বাংলা ব্যাংকের যেকোন শাখায় যাবেন.সেখানে গিয়ে বলবেন আপনি একটি ভার্চুয়াল কার্ড করতে চান এবং জেনে নেবেন ভার্চুয়াল কার্ডের জন্য আপনার কোথায় যোগাযোগ করা উচিত.ভার্চুয়াল কার্ডের দায়িত্বে যিনি আছে তার কাছে গিয়ে আপনি বলবেন আপনি জার্মানীতে একটি ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করেছেন এবং এপ্লিকেশন ফি আপনি ভার্চুয়াল কার্ডের মাধ্যমে দিতে চাইছেন.এরপর আপনার সকল ডকুমেন্ট আপনি তাকে দেখাবেন তবে শুরুতেই দেখাবেন ইউনিএসিস্ট এর পেমেন্ট এর ফর্মটি.ব্যাংকের কর্মকর্তা আপনাকে একটি ফর্ম পূরণ করতে দেবেন,আপনি সেটি পূরণ করবেন.তারপর নির্দিষ্ট পরিমান টাকা জমা দিলে আপনাকে একটি ভার্চুয়াল কার্ড দেয়া হবে যেখানে আপনি যে টাকাটা জমা দিয়েছেন সেই টাকাটা জমা হবে.আপনি যখন টাকা জমা দেবেন প্রয়োজনের চেয়ে অবশ্যই একটু বেশি জমা রাখবেন কারণ ইউনিএসিস্ট যেদিন টাকা কাটবে সেদিন ইউরোর রেট বেশিও হতে পারে.আমার ক্ষেত্রে ব্যাংকের কর্মকর্তা নিজেই টলারেন্স এর কথা মাথায় রেখে কিছু টাকা বেশি রাখতে বলেছেন.ইউনিএসিস্টে আমার দেয়ার দরকার ছিলো ৭৫ ইউরো এবং সেই হিসেবে আমার টাকা রাখার কথা প্রায় ৬৬০০ টাকা কিন্তু আমি রেখেছিলাম ৭০০০ টাকা.কারণ আমি যদি ৬৬০০ টাকা রাখি আর ইউনিএসিস্ট যখন টাকা কাটবে তখন যদি ৭৫ ইউরো এর রেট ৬৬৫০ টাকাও হয় ইউনিএসিস্ট আপনার কার্ডের টাকা নিতে পারবে না.সেক্ষেত্রে ইউনিএসিস্ট কয়েকবার টাকা নিতে গেলে কার্ড ব্লক হয়ে যেতে পারে এবং ইউনিএসিস্টকে পেমেন্ট দিতে দেরী হতে পারে.ডেডলাইন পার হয়ে গেলে ইউনিএসিস্ট পেমেন্ট পেলেও আপনার এপ্লিকেশন তারা প্রসেস করবে না.ইউনিএসিস্ট টাকা কেটে নেয়ার পর যদি আপনার কার্ডে ব্যালেন্স থেকে যায় সেক্ষেত্রে ডাচ বাংলা ব্যাংকে গেলেই আপনি বাকি টাকা রিফান্ড পাবেন.ভার্চুয়াল কার্ড করা শেষ!


Uni-assist এপ্লিকেশন ফিস দেয়ার সহজ পদ্ধতি – NRB Commercial Bank


এবার www.uni-assist.de/downloads/zahlung_eng.pdf এখানে গিয়ে ইউনিএসিস্ট এর ক্রেডিট কার্ড ফর্মটি ডাউনলোড করুন এবং প্রিন্ট করুন.ফর্মে ভিসা কার্ড আর মাস্টার কার্ড এর একটা অপশন আছে.ডিবিবিএল ভার্চুয়াল কার্ড ভিসা কার্ডের মত কাজ করে সতরাং ভিসা কার্ডের পাশে টিক দিন. (ভিসা কার্ড নাকি মাস্টারকার্ড নিশ্চিত হওয়ার জন্য আপনি অবশ্য কার্ড আনার সময় ব্যাংক থেকেই জেনে নিতে পারেন এটা ভিসা কার্ড নাকি মাস্টারকার্ড.অনেকের কার্ডে লেখাই ছিলো ভিসা কার্ড,কিন্তু আমার কার্ডে এমন কিছু ছিলোনা). তারপর Amount লিখুন ,Card Holder এর নাম লিখুন.যেহেতু ভার্চুয়াল কার্ড আপনার নামে ইস্যু করা হয়েছে তাই Card Holder এর জায়গায় আপনার নাম লিখুন.ভার্চুয়াল কার্ডে একটি ১৬ ডিজিটের কার্ড নাম্বার থাকে,Card No হিসেবে ভার্চুয়াল কার্ডের ১৬ ডিজিটের কার্ড নাম্বারটি লিখুন.CVV2 এর জায়গায় ভার্চুয়াল কার্ডের ৩ ডিজিটের সিকিউরিটি কোডটি লিখুন.তারপর সিগনেচার করে এই ফর্মটি অন্যান্য পেপারস এর সাথে পাঠিয়ে দিন ইউনিএসিস্ট এর ঠিকানায়.মনে রাখবেন ইউনিএসিস্ট এর ক্রেডিট কার্ড ফর্ম এর ফটোকপি বা স্ক্যান করা কপি না, আপনি যে কপিটা ফিলাপ করলেন সেই অরিজিনাল কপিটাই আপনাকে পোস্ট করে পাঠাতে হবে.এরপর ডাচ বাংলা ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনে ইমেইল করে জানিয়ে দেবেন যে ইউনিএসিস্ট আপনার কার্ড থেকে টাকা কেটে নেবে.ইমেইল করবেন [email protected] অথবা [email protected] এই ঠিকানায়.আপনার কাজ শেষ ! এবার ইউনিএসিস্ট এর কনফার্মেশনের জন্য অপেক্ষা করুন.

সতর্কতা:
১. ভার্চুয়াল কার্ড ইউনিএসিস্ট এর ফি দেয়ার জন্য নির্ভরযোগ্য একটি মাধ্যম.যারা ভার্চুয়াল কার্ডের মাধ্যমে পে করেছেন তারা বেশিরভাগই কোন সমস্যা ছাড়াই পে করতে পেরেছেন.কিন্তু গ্রুপে দেখেছি ভার্চুয়াল কার্ডের মাধ্যমে পে করতে গিয়ে দু-একজন সমস্যায়ও পড়েছিলেন.আমার ক্ষেত্রেও একটা ঝামেলা হয়েছে.আমি গত ২৫শে জুন বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল কার্ড এর টাকা জমা দিয়ে কার্ড নিয়ে আসি.আমাকে বলা হয়েছিলো রবিবার সন্ধ্যার পড়ে কার্ড একটিভ হবে.সাধারনত যেদিন আপনি টাকা জমা দিয়ে কার্ড আনবেন তারপরের দিন সন্ধায় কার্ড একটিভ হয়.আমার ক্ষেত্রে কার্ড নেয়ার পরের দুইদিন ছিলো শুক্রবার,শনিবার.তাই আমাকে বলা হয়েছিলো রবিবার সন্ধায় কার্ড একটিভ হবে.দুর্ভাগ্যজনকভাবে কার্ড আর একটিভ হয়নি.আমাকে আজকে (৩০শে জুন) বিকেলে ডিবিবিএল থেকে ফোন দিয়ে বলা হয়েছে আমার কার্ড আগামী বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) একটিভ হবে ! আমার এপ্লিকেশনের লাস্ট ডেট আগামী ১৫ই জুলাই.আমি যদি বিকল্প উপায় ভেবে না রাখতাম আমি হয়তো বিপদে পড়ে যেতাম.সেক্ষেত্রে আপনি যদি ডেডলাইন এর অন্তত একমাস আগে ইউনিএসিস্ট এর এপ্লিকেশন এর কাজ শেষ করেন তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়.এর মধ্যে ইউনিএসিস্ট যদি কার্ড থেকে থেকে টাকা না নিতে পারে তারা আপনাকে জানাতে পারবে এবং আপনিও ডাচ বাংলা ব্যাংককে ব্যাপারটা জানাতে পারবেন এবং ইউনিএসিস্ট আপনার কার্ড থেকে টাকা নেয়ার জন্য আবার চেষ্টা করতে পারবে.সময়টা আপনাকে রাখতে হবে, তা নাহলে কিছুটা ঝুকি থেকেই যায় !

২. গ্রুপে অনেককেই বলতে শুনেছি ডাচ বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাদের বলছেন ইউনিএসিস্ট এর পেমেন্ট এর জন্য তারা ভার্চুয়াল কার্ড ইস্যু করেননা ! আমার ক্ষেত্রে “ইউনিএসিস্ট এর পেমেন্টের জন্য আমরা ভার্চুয়াল কার্ড ইস্যু করিনা” এমন কিছু তারা একবারও বলেননি.এটা যদি আপনাকে বলা হয়ে থাকে চিন্তার কিছু নেই.হয়তো ব্যাংকের কর্মকর্তা এই বিষয়ে জানেন না.আপনি তাকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করবেন.আপনি যে ব্রাঞ্চে গিয়েছেন সেই ব্রাঞ্চে যদি শেষ পর্যন্ত ভার্চুয়াল কার্ড করতে না পারেন,ডিবিবিএল এর অন্য কোন ব্রাঞ্চে যাবেন.তবে আগেই যদি বড় কোন ব্রাঞ্চে যান তাহলে ভালো হবে.কারণ এসব ব্রাঞ্চ থেকে হয়তো আগে কেউ ইউনিএসিস্ট এর পেমেন্ট দিয়েছেন এবং ব্রাঞ্চ এর কর্মকর্তা হয়তো এই ব্যাপারে অভিজ্ঞ.আপনাকে কোন প্রশ্নের মুখে পড়তে হবেনা.

এখানে শুধু অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়েছে। তবে যেকোন কিছু করার আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে দেখে, শুনে, বুঝে করবেন। ধন্যবাদ।