প্রথমেই অভিনন্দন জানাই তাদেরকে, যারা ইতিমধ্যে ডয়েচ ভিসুম পেয়ে গেছেন। আর যারা ইন্টারভিউ কিংবা ভিসার জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের উদ্দেশ্য বলছি, “ধৈর্য্য হারাবেন না । আপনার জন্য ভাল কিছু অপেক্ষা করছে।”

ভিসা পাওয়ার পরে দুইটা জিনিসই আমাদের মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে। কি কিনব। আর কোন এয়ারলাইন্সে টিকেট কাটব। এই দুইটা ব্যাপার যুগের পর যুগ ধরে প্রবাসে আগত বাঙ্গালী ছাত্রছাত্রীদের মাথা নষ্ট করে ফেলছে। তারা জনে জনে অনলাইনে কিংবা ফোনে নক করে জিজ্ঞেস করতে থাকে, “ভাই কি কিনব, কোথা থেকে কিনব, কেমনে আসব, কই আসব ইত্যাদি।” এইসব কোমলমতি (!!) ভাইবোনদের বলছি, বাংলাদেশে যা পাওয়া যায়, তার প্রত্যেকটা জিনিসই জার্মানীতে পাওয়া যায়। তাই আপনি যদি একটা হ্যান্ডব্যাগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে একটা জিন্স আর টি-শার্টের উপরে জ্যাকেট পরে জার্মানী চলে আসেন, ততেও কোন সমস্যা হবার কথা না। কিন্তু মন তো তা বোঝে না। আর মনের কথা পরে, বিদেশে আসার সময় মুরুব্বিরা পারলে বালতি বদনাও (!!) ব্যাগে ঢুকিয়ে দেয়। তাই আসলে খালি হাতে আসার কোন উপায় নেই।

এবার আমার অভিজ্ঞতা বলি। আমি বাসার বড় ছেলে। প্রথম দেশ ছেড়ে এতদূরে পাড়ি দিচ্ছি। এজন্য আমার আম্মা আমার ব্যাগে জীবন ধারনের জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসই দিয়ে দিসে। আমি মোটামুটি নিশ্চিত, যে পরিমান জিনিসপাতি আমার আম্মা দিয়েছে, তা দিয়ে আমি মিঊনিখের রাস্তায় ২-৪ মাস খুব নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করতে পারতাম !!! (যদি না জার্মানীর পুলিশ ভাইয়েরা আমাদের দেশের পুলিশভাইদের মত এত সহজ সরল হত !!)। ব্যাগ খোলার পরে আমি নিজেও হতবাক হয়ে যাই, যখন একটা আর.এফ.এল এর বদনা আর একটা বালতি সাইজের মগ আমার ব্যাগের ভেতর থেকে উকি দিতে থাকে !! যাই হোক, ডানকে মাই আম্মাজান। আর এতসব জিনিস উনি তার পরম দক্ষতায়, মাত্র দুইটা বড় ব্যাগ আর একটা হ্যান্ড লাগেজের ভেতরে আটিয়ে ফেলেছেন। এইসব গাট্টি বস্তা যখন এয়ারপোর্টের বোর্ডিং কাউন্টারে জিনিসপাতি ওজন করাইলাম, তখন ওয়েট মেশিনে ৬৮ কেজি টিক টিক করতেসিল !!!(আমার এয়ারলাইন্সের ওয়েটলিমিট ছিল ৪৬ কেজি)। এক পরিচিত আঙ্কেল ছিল বলেই, এই যাত্রায় বেচে গেসি। নাইলে, আমি সিওর, এয়ারপোর্টে বাইন্দা রাখত।

************************************************************************************************

একই রকম আর্টিকেল 

জার্মানির ভিসাপ্রার্থী নতুন ছাত্রদের জন্যে কিছু শপিং টিপস (জার্মানি আসার আগে এবং পরে)

************************************************************************************************

যাই হোক, আমার আম্মাজানের প্রদত্ত বেশিরভাগ জিনিসই আমার ওয়ারড্রবে পড়ে আছে। অনেক কিছুই ব্যাবহার করা হয় নাই। অনেকেই হয়তো ভাবতেসেন, আম্মার দেয়া জিনিস আমার হয়তো পছন্দ হয় নাই। এজন্য ফেলে রাখছি। আসল ব্যাপারটা বলি।

জার্মানী আসার পর প্রথম কয়েকদিন সেই পার্ট এ ছিলাম। প্রত্যেকদিন নতুন নতুন ড্রেস পরি। বঙ্গবাজারের অরিজিনাল হুগো বসের সোয়েটার (!!) পরে আমার সেই ভাব। পলওয়েল মার্কেটের ওরিজিনাল এডিডাসের কেডস !! ও এম জি! লাইফ ইজ সো বিউটিফুল! যাক, রাজার ধনও ফুরিয়ে যায়, আমার ভাবের, মানে নতুন জামা কাপড়ের ষ্টকও একে একে ফুরিয়ে গেল গেল একদিন। ব্যাপার না, এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধোয়ার সব জিনিসপাতি নোট করে নিলাম। আমি গ্রামের ছেলে। জীবনেও ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধুই নাই। ফেইসবুকে “মাই ফার্স্ট ওয়াশিংমেশিন” টাইপের একটা স্ট্যাটাস দিয়া কাপড় ধুইতে গেলাম। সাথে নিয়ে গেলাম এক অভিজ্ঞ বন্ধুকে, যে কিনা আমার আগে একবার কাপড় ধোয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে !! বন্ধুর সুপরামর্শে এবং টাকা বাচানোর জন্য যাবতীয় সব টি-শার্ট, জিন্স, বিছানার চাদর এক মেশিনে ঢুকিয়ে ঢুকালাম। এরপরে ১ ঘন্টা পরে মেশিন খুলে দেখলাম, সব সাদা টি-শার্টগুলো হাল্কা গোলাপী, সবুজ, নীলবর্ন ধারন করেছে। আর অন্য কালারের কাপড়গুলো অদ্ভুত রঙ ধারন করেছে। প্রথমে মন খারাপ হলেও পরে ভাবলাম, আরে কি আছে জীবনে। এটাও একটা ফ্যাশান। বিভিন্ন কালারের কাপড় থাকা তো খারাপ না। এরপর সব কিছু ড্রায়ারে দিয়ে আসলাম। ঘন্টাখানেক পরে কাপড়গুলো সব বাসায় নিয়ে আসলাম। রাতে এক ফ্রেন্ডের বাসায় দাওয়াত। ধোয়া কাপড় গুলা থেকে একটা মাঞ্জা মারা টি-শার্ট গায়ে দিলাম। আয় হায়। এডি কি !!! আমি কি এক মাসে হাতি হয়ে গেছি নাকি। যে টি-শার্ট আগে গায়ে পরলে ঢলঢল করত, সেটা এখন পুরা স্কিন টাইট (বলার অপেক্ষা রাখে না, আমার কিউট ভুড়িখানা এরই মাঝে দৃশ্যমান !!)। ভাবলাম, আরে একটা কাপড় গেসে তো কি হইসে। আরেকটা ট্রাই করলাম। পর্যায়ক্রমে দেখলাম, আমার সব টিশার্টই মিডিয়াম থেকে স্মল এবং এক্সটা স্মলে পরিনত হইসে। পৃথিবীর ইতিহাসে কাপড় ধোয়ার পরে জন্য কেউ এত কষ্ট পাইছে বলে মনে হয় না। রাগ করে গেলামই না নয়া বন্ধুর বাসায়।

************************************************************************************************

একই রকম আর্টিকেল 

আসার সময় কি সাথে নিয়ে আসবেন?

************************************************************************************************

এইটা তো গেল টিশার্টের ব্যাপার। বেডের ঊপর বিছালাম ধোয়া বিছানার চাদর। কিন্তু কিছুতেই ওই চাদর দিয়ে বিছানার অর্ধেকের বেশি ঢাকতে পারলাম না। এই চাদর দিয়ে একটা বেবি খাট ঢাকা যাবে কিনা, এই নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। তবে ভাল থাকার মধ্যে যে জিনিসটা ছিল, তা হল জিন্সের প্যান্ট। এগুলো মোটামুটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরেছি।

তাহলে কি করা যায়? কিছুই কি আনব না দেশ থেকে? এইসব নিয়েই আজকে কিছু টিপস দেব। আমি এই লেখায় কোনটা কি পরিমান আনব, এই নিয়ে কোন লিস্ট দিব না। কোন জিনিস কোথা থেকে কিনলে ভাল হবে, তারই একটা ধারণা দেব।

প্রথমেই বলি ইলেকট্রনিকস জিনিসপাতির কথা। সবাই এই ব্যাপারটা নিয়ে সবার শেষে কথা বলে। কিন্তু আমার মনে হয় প্রবাসজীবনে এই জিনিসটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন। আমি ভাত না খেয়ে এক সপ্তাহ কাটায় দিতে পারব। কিন্তু ইন্টারনেট ছাড়া একদিন চলাও আমার জন্য কঠিন হয়ে যাবে। আর এইদেশে আসার পরে ল্যাপটপ আর মোবাইল ফোন, এই দুইটা জিনিস আপনার কাছে গার্লফ্রেন্ড/বয়ফ্রেন্ডের চেয়ে প্রিয় জিনিসে পরিণত হবে, এটা আমি বাজী ধরে বলতে পারি। প্রথমেই বলি ল্যাপ্টপের কথা। জার্মানীতে সব পড়াশোনাই ল্যাপ্টপ ভিক্তিক। ক্লাস শেষে সব লেকচারই অনলাইনে আপ্লোড করে দেয়া হয়। তাই পড়ালেখার ব্যাপারে এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আর নাই। এছাড়াও বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীদের সফটওয়ারের কাজ অথবা রিপোর্ট সাবমিশান পূরোটাই কম্পিঊটারের কাজ। তাই একটা ভাল ল্যাপটপের বিকল্প কিছুই নাই।

************************************************************************************************

একই রকম আর্টিকেল 

এয়ার টিকেট, এয়ারলাইন্স ও ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ে কিছু কথা

************************************************************************************************

এখন কথা হল, ল্যাপটপ কোথা থেকে কিনব। বাংলাদেশে যদি কার হাই অথবা মিডিয়াম কনফিগারেশনের ল্যাপটপ থাকে, তাহলে এটা নিয়ে আসতে পারেন। তবে আনার আগে কোন সমস্যা থাকলে সেটা সারিয়ে আনবেন। ব্যাটারী পরিবর্তন বা অন্য কোন সমস্যা যদি এখানে এনে ঠিক করতে চান, তাহলে রিপেয়ার চার্জ দিয়ে নতুন একটা ল্যাপটপ কিনে ফেলতে পারবেন। তাই এই ব্যাপারে সাবধান।

আর যদি নতুন ল্যাপটপ কেনার ইচ্ছে থাকে, তাহলে আমি বলব, বাংলাদেশ থেকে না কিনে সরাসরি এখানে এসে কেনাটাই ভাল। এখানে বাংলাদেশের চেয়ে প্রোডাক্ট কোয়ালিটি অনেক ভাল পাবেন। আর ওয়ারেন্টি পাবেন ১/২ বছরের। এছাড়া বেশ কিছু প্রোডাক্টে স্টুডেন্ট ডিসকাউন্টও থাকে।

************************************************************************************************

একই রকম আর্টিকেল 

প্রথম জার্মানি আসছেন? কিছু উপদেশ!

************************************************************************************************

ল্যাপটপের পাশাপাশি আরেকটা গুরুত্বপুর্ন জিনিস হল মোবাইল। দেশে থাকতে মোবাইল মানে ছিল, ফোন ধরা, ফোন করা, ফেসবুকিং করা আর গেমস খেলা। মোবাইল যে কত কাজে লাগতে পারে এটা ডয়েচল্যান্ড আসার আগে কিছুই জানতাম না। এই বিদেশের রাস্তায় মোবাইলই আপনাকে রাস্তা চেনাবে।  এখানে পথেঘাটে, মাঠেময়দানে, সবজায়গায় মোবাইলই হবে প্রিয় বন্ধু। তাই একটা ভাল স্মার্টফোন থাকা খুবই জরুরী। কারো যদি ভাল কোন স্মার্টফোন থাকে, তাহলে তা নিয়ে আসলেও চলবে। (এখানে ভাল বলতে সিম্ফোনী বা ওয়াল্টন বুঝাই নাই !! এই ব্র্যান্ডের সেটগুলো অনেকসময় ওয়াইফাই/মোবাইল ডাটা সাপোর্ট করে না)। আর যদি কেনার প্লান থাকে, তাহলে জার্মানীতে এসে কেনাটাই ভাল। এখানে কন্ট্রাক্টে পছন্দের মোবাইল কিনতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে একটা প্যাকেজ সহ কিনতে হবে। মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হবে। তবে আপনি চাইলে একবারেও কিনে নিতে পারেন কোন কন্ট্রাক্ট ছাড়া।

কন্ট্রাক্ট ছাড়া ল্যাপ্টপ/মোবাইল কেনার জন্য আমার পছন্দের সাইটগুলো ক্রমানুসারে দিলাম।

https://www.notebooksbilliger.de/

http://www.mediamarkt.de/

http://www.saturn.de/

আর কন্ট্রাক্টে সাধারণত ল্যাপ্টপ কেনা যায় না। কেনা গেলেও বেশ ঝামেলা আছে। তবে ট্যাব কিংবা ফোন কিনতে পারবেন এই সাইটগুলো থেকে।

http://www.base.de/

http://www.eteleon.de/

এছাড়া টি-মোবাইল, Vodafone সহ অন্য কোম্পানীগুলো বিভিন্ন ধরণের কন্ট্রাক্টে মোবাইল/ট্যাব বিক্রি করে থাকে।

************************************************************************************************

একই রকম আর্টিকেল 

Student Universe : বাচ্চা-কাচ্চাদের জন্য সল্পমূল্যের বিমান টিকেট!

************************************************************************************************

এবার একটা মজার ব্যাপার বলি। এখানে কোন ইলেকট্রনিক জিনিস কেনার পরে পছন্দ না হইলে, ১৫ দিনের মাঝে ফেরত দেয়া যায়। এক্ষেত্রে পুরো টাকাই ফেরত পাবেন। কোন টাকা কেটে রাখবে না। ধরেন একটা মোবাইল কিনলেন, তারপরে ইউজ করে ভাল লাগল না। সাথেসাথেই জিনিসটা ফেরত দিয়ে আসতে পারবেন। কোন চিন্তা নাই। (বিঃদ্রঃ ব্যাপারটা কখনোই বাংলাদেশে গিয়ে ট্রাই করবেন না !! একটা মাইরও মাটিতে পড়বে না !!)

এখন আপনি দেশে বসেই আপনার পছন্দের ল্যাপ্টপ কিংবা মোবাইলের বাজেট করে ফেলতে পারেন খুব সহজেই।

আর বাদবাকী ইলেক্ট্রিক জিনিস যেমনঃ পেন্ড্রাইভ, পোর্টেবল হার্ডড্রাইভ, ক্যালকুলেটর, রাউটার এসব জিনিস দেশ থেকে নিয়ে আসতে পারেন বা এখানে এসেও কিনতে পারেন। তবে আমার মত যারা মুভি আর সিরিয়ালখোর, তাদের উদ্দেশ্যে বলি। এখানে সব মুভি বা সিরিয়াল বা মিউজিক ভিডিও অনলাইনে স্ট্রিমিং করে দেখতে পারবেন। আর ইউনিভার্সিটি কিংবা ডর্মে ইন্টারনেট আনলিমিটেড। তাই হার্ডডিস্ক ভর্তি করে মুভি বা সিরিয়াল আনার কোন দরকার নাই। এর চেয়ে বরং প্রয়োজনীয় সফটওয়ার এবং গেমস আনতে পারেন। যদিও এখানে ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে বেশিরভাগ ইঞ্জিনিয়ারিং সফটওয়ারের ওরিজিনাল ভার্সন পাওয়া যায়। তবে ব্যাকআপ রাখা সবসময় ভাল। কারণ এদেশে টরেন্ট ডাইনলোড অবৈধ। ( এই একটা জিনিসের জন্য আমি জার্মানীকে দেখতে পারি না !!)। শুধু তা-ই না, ধরতে পারলে বিশাল ফাইন করে দিতে পারে। আপনি চাইলেও যে কোন গেম বা সফটওয়ার ডাউনলোড করতে পারবেন না। তাই হাতের কাছে রাখা ভাল।

************************************************************************************************

একই রকম আর্টিকেল 

এয়ার টিকেট এবং খুঁটিনাটি

************************************************************************************************

এবার আসি জামাকাপড়ের কথায়। আমার অভিজ্ঞতা তো প্রথমেই লিখলাম। বাংলাদেশের কাপড়গুলোর বাজে অবস্থা হবার প্রধান কারণ হল, বাংলাদেশের বেশিরভাগ কাপড়ই মেশিন ওয়াশেবল না। তার কারণে ধোয়ার সাথে সাথেই রঙ ওঠা শুরু হয়। কিংবা ছোট হয়ে যায়। তাই দেশ থেকে কাপড় কেনার সময় বঙ্গ বা আজিজের লট থেকে না কেনাটাই ভাল। আমার জানামতে Westecs বা Estacy সহ বেশ কয়েকটা ব্র্যান্ড মেশিন ওয়াশেবল কাপড় বিক্রি করে থাকে। তাই আজিজ থেকে ১৫-২০ টা টি-শার্ট না কিনে ভাল ব্র্যান্ডের ৫-৭ টা ভাল টিশার্ট কেনাও ভাল। তবে এখানে টিশার্ট জিনিসটাই সবচেয়ে বেশি পরা হয়। তাই যত বেশি টিশার্ট আনা যায়, ততোই ভাল। সব ঋতুর জন্য আদর্শ পোষাক। তবে সার্ট এখানে খুব একটা পরা হয় না। তবে ২-৪ টা নিয়ে আসা ভাল।

বাংলাদেশে থাকতে এক ভাই বলেছিল, জার্মানীতে এক জিন্স দিয়েও জীবন চালানো যায়। উনার কথা তখন বিশ্বাস করি নাই। এখানে আসার পরে আমার অভিমত, সম্ভব। প্রথমত এখানের বাতাসে ধুলাবালি অনেক কম। এছাড়া ঘামও কম হয়। ফলে কাপড়চোপড় খুব একটা ময়লা হয় না। তাই অনায়েসে একটা জিন্স দিয়ে অনেক দিন কাটাতে পারবেন। আর বাংলাদেশের জিন্সের কোয়ালিটি অনেক ভাল। তাই আমি দেশ থেকে জিন্স নিয়ে আসাটা প্রেফার করি। তবে খুব বেশি জিন্স না আনাটাই ভাল। ৫-৬ টা জিন্স দিয়ে জার্মানিতে ২-৩ বছর কাটাই দিতে পারবেন। তবে জিন্স কেনার সময় খেয়াল রাখবে, পকেট যেন ছোট না হয়। আর এদেশে মেয়েরা পায়ের দিকে চাপা জিন্স পরে। আমাদের দেশেও কিছু সুবোধ বালক এই ধরনের জিন্স পরা শুরু করেছে !!! তাই এই ধরণের স্টাইলিশ জিন্স না কেনার পরামর্শ রইল।

************************************************************************************************

একই রকম আর্টিকেল 

জার্মানি পৌঁছার পরে প্রাথমিক দৌড়-ঝাঁপ!

************************************************************************************************

এদেশে যে জিনিসটা ছাড়া বাচবেন না, তা হল জ্যাকেট। শীত, গ্রীস্ম, বর্ষা সব ঋতুতে জ্যাকেটই হল অবলম্বন। আর ভিতর দিয়ে যত ফিটফাটই হোন না কেন, উপর দিয়ে সদরঘাট হইলে কিন্তু কোন লাভ নাই। ভাল একটা জ্যাকেট কিন্তু আপনার ব্যাক্তিত্ব প্রকাশেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই ভাল একটা জ্যাকেট কেনা খুবই জরুরী। জ্যাকেট লাগে দুই ধরণের। একটা হল সামার আরেকটা উইন্টার জ্যাকেট। প্রথম পরামর্শঃ বাংলাদেশ থেকে কোন রকম ভোম্বলদাস মার্কা জ্যাকেট আনবেন না। না। না। না। এগুলা দেখতে খুবই বাজে। আর প্রচন্ড ভারী। এখানে মোটামুটি মাঝারী দামের মধ্যেই C&A, H&M, Newyorker কিংবা Jack & Jones থেকে জ্যাকেট কিনতে পারেন। আর বেশি বাজেট থাকলে Jack wolfskin কিংবা North face থেকে কিনতে পারেন। আর একটা ভাল উইন্টার জ্যাকেট কিনলে ২-৩ বছর নিশ্চিন্তে চলে যাবে। তবে দেশ থেকে ২-৩ টা ভাল ব্রান্ডের সামার এবং রেইন জ্যাকেট নিয়ে আসবেন। আর এখানে এসে এডিডাস কিংবা নাইকি থেকে একটা ভাল সামার জ্যাকেট কিনে নিলে পুরো এক সামার নিশ্চিন্তে কাটাতে পারবেন।

এবার বলি জুতার কথা। এখানকার লোকেরা জুতা ছাড়া স্যান্ডের পরে তাকাইলে এমন একটা দৃষ্টিতে তাকায়, যেন আকাশ থেকে একটা এলিয়েন নেমে রাস্তায় ঘুরাঘুরি করতেসে। এখানে খালি পায়ে চলাফেরা করলে লোকজনের কোন সমস্যা নাই। কিন্তু জুতা ছাড়া দেখলে কেমন করে যেন তাকায়। সত্যি কথা বলতে কি, এখানে সামারের ২-১ মাস ছাড়া বাকী সময় জুতা ছাড়া চলা একদমই অসম্ভব। তাই ভাল ২-১ জোড়া জুতা থাকা আবশ্যক। বাংলাদেশ থেকে নিত্য ব্যাবহারের জন্য ২-১ জোড়া কেডস, স্যান্ডেল নিয়ে আসতে পারেন। কিন্তু সস্তা ফুটপাতের জুতা না কেনাটাই ভাল। কারণ শীতে জুতার সোল সংকুচিত হয়ে ফেটে যায়। উইন্টারে ব্যাবহারের জন্য ভারী জুতা বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। এটা এখানে এসে কিনতে হবে। তবে কিছু পয়সাপাতি জমাতে পারলে এডিডাস, নাইকি, রিবোক কিংবা পুমার একজোড়া অরিজিনাল জুতা এখান থেকে কিনে নেয়া ভাল। এগুলা অনেক টেকসই এবং আরামদায়ক।

আর বাদবাকি আন্ডারগার্মেন্টস, বেল্ট, মোজা, সুয়েটার, পরার প্যান্ট, হুডি ইত্যাদি জিনিসপত্র দেশ থেকে নিজের প্রয়োজনমত নিয়ে আসবেন। এখান থেকে কিনলেও কোন সমস্যা নাই।

অনেকের ধারণা যে, জার্মানীতে সব জিনিসের দাম অনেক বেশি। এই ব্যাপারটা নিয়ে কিছু কথা বলি। আসলে জার্মানীতে সর্বনিম্ন পার্টটাইম কাজের সেলারি হল ঘন্টায় সাড়ে ৮ ইউরো। যদি আয় আর ব্যায়ের সামঞ্জস্য করি, তাহলে ওদের হিসেবে দাম বেশি নয়। আমরা বাংলাদেশ থেকে আসাতে সব জিনিসের দামকে বাংলা টাকায় হিসাব করি। তাই অনেক বেশি লাগে। ইউরোপ আসার পরে প্রথম কাজ হল, সব জিনিসের দামকে ১০০ দিয়ে গুন করে বাংলাদেশের দামের সাথে তুলনা করা ছাড়তে হবে। এক গ্লাস কোকের দাম ম্যাকডোনাল্ডসে ১ ইউরো ১৯ সেন্টস। মানে ১১৯ টাকাইয় এক গ্লাস কোক !! ভার্সিটিতে অনেক বেলা উপোস ছিলাম, ৩ ইউরোর ডোনারের দামকে ১০০ দিয়ে গুন করার জন্য। ভাবতাম, ৩০০ টাকা দিয়ে এক বেলার খাবার !! কেমনে !! এই টাকার কনভার্শনটা মন থেকে ধ্রুত মুছে ফেলতে হবে। নাহলে জার্মানীতে চলা খুবই কঠিন হয়ে যাবে।

************************************************************************************************

একই রকম আর্টিকেল 

মাত্র পৌঁছালাম জার্মানীতে, এখন আমি কী করব?

************************************************************************************************

আর জার্মানীর সুপারস্টোর এবং বড় দোকানগুলোতে অনেকসময় ছাড়/মূল্যহ্রাস চলে। তাই, একটু চোখকান খোলা রাখলে, খুব সহজেই পছন্দের জিনিস অল্পদামে কিনে ফেলা সম্ভব।

তবে জার্মানীতে সবচেয়ে সস্তায় জিনিস পত্র পাওয়া যায় অনলাইনে। এখানে আপনার যাচাইয়ের সুযোগও আছে। জিনিস পছন্দ না হলে ফেরত দেয়া যায় এবং সাইজ ও পরিবর্তন করা যায়। আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, ঝামেলা কম। ১০ দোকান ঘুরে জিনিস কেনার চেয়ে অনলাইনে কিনে ফেললে আপনার ঘরে পৌছে দেবে।

সব জিনিসের জন্য সেরা সাইট হল: http://www.ebay.de/

তবে এখান থেকে জিনিস কিনতে হলে ইবে গ্যারান্টি দেখে কেনা উচিত। কিন্তু দামী ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র অনলাইনে না কিনে, সবাসরি কেনাই ভাল।

আর জামাকাপড় কেনার জন্য সেরা সাইট: http://www.sportsdirect.com/

এটা ইউকে ভিক্তিক সাইট হলেও জার্মানীতে ফ্রি শিপমেন্ট দেয়। আর এদের জিনিস বেশ সস্তা এবং ভাল। এছাড়া অসংখ্য অনলাইন সপ আছে যেখানে ব্যাবহার করা জিনিস মানে সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস কিনতে পারবেন।

আর এখানে খাতা, কলমের বেশ দাম। তাই বাংলাদেশ থেকে বেশি করে কলম, পেন্সিল আরো আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র নিয়ে আসা ভাল। খাতার দাম বেশি হলেও, অফসেট কাগজের দাম বাংলাদেশের মতই। তাই কাগজ কিনে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

কসমেটিক্স কিংবা শেভিং কিট দেশ থেকে নিয়ে আসা যায়। তবে এখানে এইসব জিনিসের দাম তেমন বেশি না। আর কোয়ালিটি অনেক ভাল । তাই খুব বেশি পরিমান কসমেটিক্স দেশ থেকে আনার দরকার নাই।

************************************************************************************************

একই রকম আর্টিকেল 

প্রথমবারের মত বিদেশ ভ্রমণের বৃত্তান্ত এবং নানাবিধ টিপস !

************************************************************************************************

এইবার বলি রান্নার কথা। আমার মত যারা রান্নায় ব-কলম আছেন, তাদেরকে বলি, রান্না কোন ব্যাপারই না। সবকিছু মিশিয়ে ইনপুট দিলে একটা না একটা আউটপুট আসবেই। তাই এই যুগে রান্না নিয়ে চিন্তা করবেন না। আর কিছু না পারলে ইঊটিউব তো আছেই। চিন্তা কি। তবে এখানে হাড়িপাতিলের দাম বেশ ভালই। কিন্তু এতবড় হাড়িপাতিল বাংলাদেশ থেকে আনার কোন মানে নাই। তবে প্রাথমিক ব্যাবহারের জন্য প্লেইট, মগ, চামচ এইসব নিয়ে আসতে পারেন। তবে যা অবশ্যই আনবেন, তা হল মশল্লা। কারণ অনেক শহরেই আমাদের দেশীয় মসল্লা খুবই কম পাওয়া যায়। তাই ১-২ মাসের জন্য মসল্লার সঞ্চয় নিয়ে আসবেন।

এইদেশে আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া তেমন কোন মেডিসিন দেবে না। তাই কিছু প্রাথমিক ঔষধ নিয়ে আসবেন। অনেক সময় এয়ারপর্টে ঔষধ নিয়ে আটকাতে পারে। তাই পরিচিত কোন একজন ডাক্তারকে দিয়ে একটা প্রেসকিপশান লিখিয়ে নেবেন এবং নিজের সাথে রাখবেন। বলা তো যায় না, কখন কি হয়। আর সব ডকুমেন্টের কয়েক কপি নোটারী করে আনা ভাল। পরে অন্য কোন ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করতে কাজে আস্তে পারে। এখানে ছবি তোলা খুবই ব্যয়বহুল। তাই বেশ কিছু ছবি বাংলাদেশ থেকে প্রিন্ট করে আনা ভাল। আরেকটা গুরুত্তপূর্ন ব্যাপার হল, কারো যদি দেশে থাকার সময়, কোন মেজর অপারেশন বা অসুখ হয়, তাহলে ওই সংক্রান্ত কাগজগুলো নিয়ে আসবেন। বলা তো যায় না, কখন কি হয়।

************************************************************************************************

একই রকম আর্টিকেল 

সিটি রেজিস্ট্রেশানের নতুন নিয়ম এবং আমাদের করণীয়

************************************************************************************************

শপিং তো শেষ। এবার সবকিছু বাক্সবন্দী করতে হবে। সাধারণত এয়ারলাইন্সগুলো দু’টা বড় ব্যাগ আর একটা হ্যান্ড লাগেজ এলাঊ করে। তাই ভাল মজবুত দেখে ব্যাগ কেনা ভাল। কারণ, দুই নম্বর ব্যাগ কিনে পরে চাকা ভেঙ্গে গেলে ভীষণ বিপদে পড়বেন। এটা বাংলাদেশ না, যে কুলি ডাক দেবেন। আর সাহায্য করার মত কাউকে পাবার সম্ভাবনাও কম। তাই আগেভাগে প্রস্তুত থাকাটা ভাল।

সব শেষ। এবার জার্মানী যাব। কিভাবে যাব। যেভাবে বিমান দুর্ঘটনা হচ্ছে, তাতে করে বাসে বা হেটে যাওয়াটা ভাল !!! কিন্তু কি আর করা। বাস কোম্পানীগুলা খুবই দুষ্টু। জার্মানীতে ডাইরেক্ট নাই !!! তাই প্লেন ছাড়া উপায় নাই।

বাংলাদেশ থেকে বেশ কয়েকটা এয়ারলাইন্স জার্মানী আসে। এমিরেটস, ইতিহাদ, কাতার, টার্কিশ, কুয়েত, বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সহ বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্স নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে। ঢাকা থেকে আপনার গন্তব্যের শহরের কাছাকাছি এয়ারপোর্টের ফ্লাইট রুট আপনি গুগলে খুজলেই পাবেন। কিংবা এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইটে ঢুকেও সরাসরি খোজ করতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে অনলাইন টিকেট কাটা বেশ ঝামেলার। এজন্য এজেন্সীগুলোই ভরসা। আপনার পরিচিত লোকজনকে জিজ্ঞেস করে নিকটস্থ এজেন্সীগুলো যাচাই করাটাই ভাল।

************************************************************************************************

একই রকম আর্টিকেল 

বিমানবন্দর থেকে আপনার শহর: সাশ্রয়ী ভ্রমণ

************************************************************************************************

এখন প্রশ্ন হল, কোন এয়ারলাইন্সে যাওয়া ভাল। প্রথমবারের মত বিদেশে যাবার সময়, সাথে নেয়ার মত প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসই থাকে। তাই, যে এয়ারলাইন্সের লাগেজ এলাওয়েন্স বেশি থাকে, তেমন এয়ারলাইন্সে ভ্রমন করাটাই ভাল। ধরুন আপনার এয়ারলাইন্সের সর্বোচ্চ লাগেজ এলাওয়েন্স যদি ৩০ কেজি। ২ টা ব্যাগের ওজনই ১০ কেজির মত হয়ে যায়। তাহলে তেমন বেশি কিছু নেয়ার সু্যোগ থাকে না।

তবে বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ লাগেজ এলাওয়েন্স দেয় টার্কিশ এয়ারলাইন্স আর এমিরেটস। এরা সর্বোচ্চ ৪০ কেজি পর্যন্ত মেইন লাগেজের এলাওয়েন্স দেয়। আর হ্যান্ড লাগেজ সর্বোচ্চ ৮ কেজি। তবে এদের মধ্যে টার্কিশ এয়ারলাইন্স ওজনের ব্যাপারে কিছুটা শিথিল এবং ভাড়াও কিছুটা কম থাকে।

 

আর মাঝেমাঝেই বিভিন্ন এয়ারলাইন্স কোম্পানীগুলো বিভিন্ন ওফার দেয়। যদি ভাগ্য ভাল থাকে, তাহলে খুব কম খরচেই জার্মানী চলে আসতে পারবেন। তবে একটা জিনিস বলে রাখি, যত বিলাসবহুল বিমানই হোক না কেন, দেশ ছেড়ে আসার সময়ের কষ্টটুকু কোন কিছু দিয়েই লাঘব করা সম্ভব না।

 

আপনাদের জার্মানিতে আগমন শুভ হোক। এই কামনা করি।

Tousif Bin Alam

Student of Master in Power Engineering.

Technical University Munich.