বেশ কিছুদিন হল, ভিসা হাতে পেয়েছি। ডর্ম রেডি। প্লেনের টিকেটও কনফার্ম। ৪ঠা আগস্ট জার্মানির দিকে রওনা দিব ইনশাআল্লাহ। ভিসা ইন্টারভিউ এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করব করব বলে আর করা হয়ে উঠে নি। চাকরিটা এখনও ছাড়া হয়নি যার কারনে সময় করে উঠতে পারি নি। যাই হোক, অবশেষে কিছু একটা লেখার সুযোগ পেলাম। হয়ত আমার মত যেসব সাধারন “আইলসা” প্রকৌশলী আছেন, তাদের জন্য কিছুটা উপকারে আসবে।

আমার ইন্টারভিউর শুরুটা এবং শেষটা যাচ্ছেতাই ছিল। আমাকে টোটাল তিনবার কাউন্টারে ডেকে নিয়ে ধমক দিয়ে আবার পিছনে পাঠায় দিসে। ছোট একটা ডিটেইলস দিয়ে শুরু করি।

Interview Date: 22/06/2017
Interview Time: 9:30 AM
Called me on (1st time): 11:00 AM
Counter Number: 04 (রুক্ষ মেজাজের খিটখিটে একটা বাংলাদেশী মেয়ে)

প্রথমে বাংলাদেশী দেখে একটু অবাক হয়ছি। অন্যান্য মানুষদের সাথে তার কথোপকথোন দেখে আরো অবাক হয়ছি। মারাত্মক একটা খিটখিটে মেয়ে। তো, যাই হোক, আমাকে ডাকা হলে, আমি কাউন্টারের সামনে আমার পুরো ফাইল নিয়ে চলে গেলাম। কোন ডকুমেন্টসই বের করি নাই, ভেবেছিলাম, ভিসা অফিসার চাইলে বের করে দিব। আমি আসলে জানতাম না যে, এগুলো আগে থেকেই গুছিয়ে নিয়ে যেতে হয়। আমার ডকুমেন্টস গুলো গুছানোই ছিল বাট বের করা ছিল না আর ওদের অর্ডার অনুযায়ীও ছিল না।

VO: You did not organize your papers?
Me: Nobody told me to organize any papers.
VO: What? What should anybody tell you to do? Didn’t you go through the website?
Me: No.
VO: Just go and organize your paper according to this list. I will call you later. (একটা লিস্ট ধরায় দিল, আর অনেক রাগ হয়ে ছিল, বুঝলাম না, এত রাগ হওয়ার মত তো কিছু করি নাই আমি। ওনার অন্য কোন সমস্যা ছিল বোধহয়।)

যাই হোক, ফাইল গুছানোর আধা ঘন্টা পরে আবার ডাকল। আমি আবার গেলাম। এবার সে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠসে। আর রাগে আমার কাগজগুলোই হাত থেকে ফেলে দিসে।

VO: ওফফ!! এটা কি করে নিয়ে আসছেন আপনি? আমি আপনাকে বলসি, এই লিস্ট অনুযায়ী মেইন কপির একটা সেট বানান আর ফটোকপির দুইটা সেট বানান। (এবার রাগে তার বাংলা বের হয়ে আসছে। )

VO: I’m giving you 10 minutes to do that and if you can’t I will cancel you today’s interview.
আমি আবার সব ফাইল গুছালাম। এবার আমাকে ডাকল ১ ঘন্টা পর। আমি আবার গেলাম। এবার প্রথমবারের মত সে আমার সব ডকুমেন্টস দেখা শুরু করল।

VO: Ow!! You are DAAD scholar?
Me: Yes.
VO: And you didn’t organize your paper!
Me: Smiled!
মোটামুটি ৪/৫ মিনিট ডকুমেন্টস দেখার পর প্রশ্ন করল,
VO: So, which university are you going?
Me: Bauhaus Universitat Weimar.
VO: And which subject?
Me: Natural Hazards and Risks in Structural Engineering.
VO: How many semesters?
ME: 4
VO: How many credits?
ME: 60.
VO: In which subject did you complete your graduation?
ME: Civil Engineering.
VO: What is the relation between your intended subject and Civil Engineering?
ME: You know, civil engineering has five distinct divisions, Structural, Geotech, Water Resource, Transportation and Environment. Among these divisions structural engineering is considered to be the cardinal part of civil engineering. My intended subject is the best fit for a civil engineer.
VO: Why did you choose this subject?
ME: Because, I want to grow my career as a structural engineer. You know what; I did my thesis work on structural engineering. (এই কথাটা পাকনামি করে আগ বারায় বলসি, না বল্লেও পারতাম)
VO: Ow really. What was your thesis title?
ME: Comparative analysis between flat plate and edge supported commercial structures.
VO: What will be your thesis in the Germany?
ME: I have not planned yet. But I have a plan to work on sustainable eco building designing. (এই জায়গায় একটু ব্র্যাগ করসি আরকি)
VO: Ok, write down here, “I have received my passport.” (Passing me one of those Visa application forms)
ME: Wrote and passed back.
VO: Ok, put your fingers on the machine.
VO: Here is your deposit slip.

ডিপজিট স্লিপে দেখলাম ব্যালেন্স এর ঘরে শূন্য লেখা। আমি জানতাম-ই না যে ডাড এম্বাসি ফি-ও কভার করে। ইভেন, স্কলারশিপ ব্রসিয়ারেও এটা লেখা ছিল না।

Me: Why the balance is Zero? Don’t I need to pay the embassy fee?
VO: No, you don’t. DAAD is covering your embassy fee.
ME: Ow, thank you. I did not know that. Don’t you need the passport?

এটা নতুন নিয়ম, এখন আর পাসপোর্ট তাদের কাছে রাখে না। ভিসা হলে তারা ফোন দেয় এবং পাসপোর্ট নিয়ে যেতে বলে। পাসপোর্ট নিয়ে গেলে ওরা ভিসা প্রিন্ট করে পাসপোর্ট-এ পেস্ট করে দেয়। (ভিসা আনতে গেলে অবশ্যই দুপুর ২টার মদ্ধে যাবেন, ২.৩০এর পরে আর এম্বাসিতে ঢুকতে দেয় না। যদিও আমি ভিসা এনেছি ৩.০০ টার সময়, তখনো অনেক কাহিনি করে এম্বাসিতে ঢুকেছি। 😀)

VO: No, you keep it.
Me: When will I come for the Visa?
VO: You will be informed.
ME: Ow, Ok. And sorry for the earlier botheration in organizing my papers.
VO: No, its okay. Smiled!! (honestly, মেয়েটার হাসিটা যথেস্ট সুন্দর ছিল)

আমি বের হয়ে প্রায় রাস্তায় নেমে এসেছি তখন এক এসিস্ট্যান্ট আমাকে ডেকে বলে, “আপনি সাইন করেন নাই, ম্যাডাম আপনাকে ডাকে।“
আমি আবার এম্বাসিতে ঢুকলাম।

VO: Why don’t you sign after writing “I have received my passport”?
Me: You didn’t tell me to do so.
VO: (পুরাই বিরক্ত) Ok ok, please, sign it in here.
Me: Signed and passed back. May I go now? All formalities done?
VO: Yes, you can go.

ঠিক কাটায় কাটায় ৭ দিন পরে এম্বাসি থেকে ফোন দিয়ে বলল, আপনার ভিসা ইস্যু হয়ছে, রবিবারে এসে নিয়ে যাবেন। সাথে পাসপোর্ট আর ডিপজিট স্লিপ নিয়ে আসবেন। আমি উত্তেজনায় সময়টা জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি।

আমি রবিবারে এম্বাসিতে যাই সকাল ১১টায়। গেইট থেকে আমাকে বলল, “ভিসা ইস্যু হইসে তো এখন কেন আসছেন? যে ফোন দিসে তার কাছ থেকে টাইম জেনে নিতে পারেন নাই? আপনি ২টার পরে আসেন।“

ওনাদের কথা আমার কাছে কনভিন্সিং মনে হল না, তাই ওখানে দাড়িয়েই এম্বাসি নাম্বারে ফোন দিলাম। এক মহিলা ফোন ধরল।

এই মহিলা আরেক চিজ। ১০ মিনিটে সে আমাকে পুরা পাজেল্ড করে দিসে। আপ টু ডেট ইনফরমেশন ছাড়া কেমনে এরা এম্বাসি কল সেন্টারে চাকরী করে, আল্লাহ-ই ভাল জানেন।

আমিঃ আমাকে ফোন দেয়া হয়েছিল, আমার ভিসা ইস্যু হয়েছে। আমি ভিসা রিসিভ করতে কখন আসব?
মহিলাঃ সেটা আমি কিভাবে বলব? আপনাকে যে ফোন দিয়েছে তাকে জিজ্ঞেস করেন নাই?
আমিঃ জি না, তাকে জিজ্ঞেস করতে ভুলে গিয়েছি।
মহিলাঃ তাহলে তো আর কিছু করার নেই।
আমিঃ তাহলে আমি কার সাথে যোগাযোগ করব? আমি কখন আসব, এটা তো আমাকে জানতে হবে।
মহিলাঃ আচ্ছা আপনাকে পাসপোর্ট পিক করার টাইম দিয়েছে কখন?
আমিঃ পাসপোর্ট মানে? পাসপোর্ট তো আমার কাছে। আমি ভিসা নিতে এসেছি।
মহিলাঃ পাসপোর্ট আপনার কাছে থাকলে আপনাকে ভিসা দিবে কিসে? পাসপোর্ট তো থাকবে ভিসা অফিসারের কাছে।
আমিঃ কিন্তু ইন্টারভিউ-এর সময় তো পাসপোর্ট আমাকে ফেরত দিয়ে দেয়া হয়েছে।
মহিলাঃ আপনি কোথাও ভুল করছেন, পাসপোর্ট কেন আপনার কাছে থাকবে?
আমিঃ ভিসা অফিসারতো আমার পাসপোর্ট আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে।
মহিলাঃ কি আজব কথা বলতেসেন, আপনাকে পাসপোর্ট কেন ফিরিয়ে দিবে, আমি আপনার কথা কিছুই বুঝতে পারছি না। আচ্ছা ওয়েট করেন।

এরপর একজনকে ফোন ট্রান্সফার করল এবং সে বলল আপনি ২টার পরে এসে ভিসা নিয়ে যাবেন বলেই সে ফোন রেখে দিল।

পরে ৩টার সময় গিয়ে আমি ভিসা নিয়ে আসি…

এম্বাসির গেটম্যানদের ব্যবহার অতিরিক্ত খারাপ। ইন্টারভিউর দিন, সবাইকে ডাকা হলেও আমাকে ডাকা হয়নাই, আমি জানতে গেলে আমার কোন কথা না শুনেই বলল, আপনাকে ডাকা হয়েছে, আপনি দেরি করে আসছেন, (যদিও আমি ১.৫ ঘন্টা যাবত ওইখানেই দাঁড়িয়ে ছিলাম) আজকে আপনার ইন্টারভিউ হবে না। আরেকদিন ডেট নিয়ে আসেন।

পরে অনেক রিকোয়েস্ট করার পরে লিস্ট চেক করে দেখল, আসলেই আমাকে ডাকা হয়নি।

এম্বাসির কল সেন্টারের ব্যবহার-ও খুব একটা ভাল না। কখনো ফোন দিয়ে দেখতে পারেন, অনেকটা ধমক দিয়ে কথা বলে। আমি জীবনেও কোন কল সেন্টারের কথা এমন শুনিনি।

যাই হোক, হতে পারে এমনটা শুধু আমার সাথেই হয়েছে। দিন শেষে ভিসা হাতে পেয়েছি, আর কি লাগে।

পরিশেষে বলব, যারা ভিসা ইন্টারভিউ তে যাচ্ছেন বা যাবেন, খুবি ভাল করে হোমওয়ার্ক করে যাবেন, ভিসা অফিসার-রা খুব বেশী যাচাই বাছাই করে। অন্যান্যদের তুলনায় আমাকে কোন প্রশ্নই করে নাই, বাট বাকি যাদের দেখলাম, একেবারে নাস্তানাবুদ করে ছারছে। যাই হোক, আমি ভয় দেখাচ্ছি না, শুধু ফ্যাক্টটা শেয়ার করলাম, কনফিডেন্ট থাকুন, সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকুন, আল্লাহ-কে স্মরণ করুন, আপনার রিযিকে জার্মান খাবার থাকলে কারো সাধ্য নেই যে আপনার ভিসা আটকাবে…

আমার এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন…

সংক্ষেপে আমার প্রোফাইলটা শেয়ার করছিঃ

Intended University: Bauhaus Universitat Weimar.
Semester: Winter 2017
Subject: Natural Hazard and Risks in Structural Engineering
Funding: DAAD scholarship (Covering: Accommodation, Semester Fee, Research Costing, Health Insurance, Travel Insurance, Plane Fare, Embassy fee)
Graduated From: Stamford University Bangladesh
Subject: Civil Engineering
CGPA: 3.71
IELTS: 6.5 (L: 7.0, R: 6.5, W: 6.0, S: 6.5)
GRE: 300 (Q: 160, V: 140, AWA: 3.0)
Publications: 0
Professional Experience: 3 Years.