কথায় বলে, নামে নয় কাজেই পরিচয়। এই কলাম পড়ার আগে ধরে নিন, নামেই অনেক কিছু হয়। এমনও হতে পারে, নামের কারণেই আপনার বিভিন্ন আবেদনপত্র পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। আপনি যদি পাশ্চাত্যের কোনও দেশে থাকতে চান আর আপনার নাম যদি স্ট্যান্ডার্ড ফরম্যাটে না থাকে, তাহলে বলতে হয়, নাম সংশোধন আপনার জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। তাই যতই পরিশ্রম, দীর্ঘসূত্রিতা, প্রশাসনিক জটিলতা থাকুক না কেন; এই কাজে প্রচণ্ড সাহস আর ইচ্ছাশক্তি নিয়ে আজই আপনার নেমে পরা উচিৎ। যতই দেরী করবেন, মনে করতে থাকবেন আপনার গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো চলে যাচ্ছে; আর এক একটি সনদ আপনার বর্তমান নামে ইস্যু হওয়ার সাথে সাথে আপনার কাজও অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

নামের কোনও স্ট্যান্ডার্ড যদি ধরতে চান, তাহলে বলতে হবে এটা পুরোপুরি দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। এখানে সংস্কৃতি, ধর্ম, দেশ, ভাষা অনেক প্রসঙ্গই চলে আসবে। আর অবশ্যই এগুলোতে নানা মুনির নানা মত আছে এবং এবং ওইধরনের বিতর্ক সাধারণত কখনও শেষ হয় না। তবে এখানে আলোচনার বিষয়বস্তু মূলত পাশ্চাত্য সভ্যতায় বর্তমানে যে নামকে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরা হয় তা নিয়ে। তাই পাশ্চাত্য দেশীয় নামের ফরম্যাট খেয়াল রেখে যারা নাম সংশোধন বা পরিবর্তন করতে চান, এই লিখা শুধু তাদের জন্যই।

আলোচনার সুবিধার্থে ছয়ভাগে এই আলোচনাটিকে ভাগ করা হলঃ
১। নাম কেন সংশোধন বা পরিবর্তন করবেন
২। বাংলাদেশে নাম সংশোধন বা পরিবর্তন
৩। জার্মানিতে নাম সংশোধন বা পরিবর্তন
৪। বিবিধ আলোচনা (যারা কিছুটা মুক্ত-আলোচনা গ্রহণ করতে পারেন, এটি শুধু তাদের জনই)
৫। নাম সংশোধনের কিছু প্রস্তাবনা (উদাহরণসহ)
৬। শেষকথা

 


১। নাম কেন সংশোধন বা পরিবর্তন করবেন

বাংলাদেশী নামের বর্তমান দৃশ্যপট। নিম্নে কিছু উদাহরণঃ

 আব্দুল কাদের এমডি রবিউল ইসলাম / এ কে এম রবিউল ইসলাম
প্রথমেই চিন্তা করে দেখুন, আপনার যদি এই নাম হয়, তাহলে প্রথম নাম (first name/ Vorname) এবং পারিবারিক বা শেষ নাম (family name/ Nachname) কি লিখবেন। আপনি যদি চিন্তা না করে রাখেন, তাহলে পাসপোর্ট বানাতে গেলে ওখানকার লোকজনই আপনার নামের অংশগুলো নির্ধারণ করে দিবে। আপনার নামের প্রথম অংশ হবে, আব্দুল কাদের এমডি রবিউল / এ কে এম রবিউল; শেষ অংশ হবে, ইসলাম। আর এই প্রথম নামই আপনাকে সবসময় পাশ্চাত্য দেশগুলোতে যেকোনো ধরনের ফর্ম পূরণ করার লিখতে হবে। প্রথম সমস্যা হল আপনাকে তারা যে কি বলে ডাকবে তা নিয়ে কিছুটা থতমত খেয়ে যাবে, যদি ইনফরমালি ডাকতে যায়। আরেকটা ব্যাপার হল, বাস্তবে কিন্তু আপনার নামে আপনার কোনও পারিবারিক নাম নেই। ফরমালি ডাকতে গেলে, আপনাকে সবসময় Mr. Islam বা Herr Islam ই ডাকা হবে, যা আদৌ কোনও বংশের নাম নয়। আরেকটি ব্যাপার, আরবি ভাষা নিয়ে কিছুটা আপনার যদি জানা থাকে, তাহলে এটাও জানা দরকার, আব্দুল কাদের (আবদ্-উল-কাদের) এবং রবিউল ইসলাম (রাবি-উল-ইসলাম) কোনও আলাদা নাম নয়। দুটোই যুক্তশব্দ। কাজেই যুক্তশব্দের প্রথম অংশকে first name এবং দ্বিতীয় অংশকে family name হিসেবে ব্যাবহার করা অযৌক্তিকই বটে।

 নাসরিন সুলতানা চৈতি
নাসরিন সুলতানা পর্যন্ত তাও ঠিক ছিল। ইচ্ছা হল, আর আপনার বাবা-মা আদর করে ডাকনামখানি (এই ডাকনামের সংস্কৃতি অন্যান্য দেশে একটু বিরলই বটে) সুন্দর করে সব সনদপত্রে লাগিয়ে দিলেন। এখন আপনার family name হয়ে গেলো চৈতি। তার মানে দাঁড়ালো, আপনি আর আপনার মা আর আপনার বোন সবাই Ms. Choity, আপনার বাবা বা ভাই সবাই Mr. Choiti, এক কথায় আপনি চৈতি বংশের মেয়ে। অন্য যত পুরুষ বা স্ত্রীবাচক নামের শেষে ডাকনাম আছে, এই উদাহরণটি সবগুলোর জন্যই প্রযোজ্য।

 এমডি খায়রুল আযাদ
এই MD এর উদাহরণ আগে আসলেও আলোচনা করা হয় নি। বাংলাদেশের মুসলিম পরিবারের খুব কম ছেলেই আছে, যাদের নামে এটা লাগানো হয় না। সম্ভব যদি হয়, তো একটু গুগল করে দেখুন। MD মানে হল Doctor of Medicine আর Managing Director । ব্যাপারটা আরও মজার হয়, আপনি যদি প্রকৌশলী হন। আপনি তখন লিখেন Engr. Md. Khayrul Azad। চিন্তা করে দেখুন। আপনাকে নিয়ে সবাই টানাটানি শুরু করে দিবে! আপনি একই সাথে একজন প্রকৌশলী আর একজন ডাক্তার!! 😀 এটা যে কত হাস্যকর তা পাশ্চাত্য দেশগুলোতে গেলে অনেকেই টের পান। MD দিয়ে আপনি যদি মুহাম্মাদই বুঝাতে চান, তাহলে হয় পুরো মুহাম্মাদ লিখুন, নাহয় পুরোটা বাদ দিয়ে দিন। ব্যক্তিগতভাবে বাদ দেয়াটাকেই আমি সমর্থন করব, যদি আপনি পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে আসতে চান। এটার কারণ আশা করি আমাকে বুঝিয়ে দিতে হবে না। আর এখানেও প্রথম উদাহরণের কথা চলে আসলো। খায়রুল আযাদ (খাইর-উল-আযাদ) কিন্তু যুক্তশব্দ।

 কাজী মুহাম্মাদ আবেদ বিন আজিজ / কে এমডি আবেদ বিন আজিজ
এখানে অনেকগুলো সমস্যা বিদ্যমান। প্রথম সমস্যা, পারিবারিক নাম শেষে না এসে শুরুতে এসে গেলো। দ্বিতীয়ত, এমডি আছে, কিন্তু Doctor of Medicine ডিগ্রি নেই। তারপর পাসপোর্ট হিসেবে, first name: কে এমডি আবেদ বিন, আর surname: আজিজ। ওদের লেগে যায় প্যাঁচ, নামটা যে কি সেটা ধরতে ঝামেলা তো হয়ই। আবার ওদিকে আবেদ-বিন-আজিজ যুক্তশব্দ, যার মানে আজিজের ছেলে আবেদ। এটাকে first name আর surname দিয়ে ভাগ করাটাও বেশ অযৌক্তিক। আর সবশেষে, surname হল আজিজ, যেটা পারিবারিক নামতো নয়ই, বরং বাবার first name। সুতরাং, যেখানে নাম হওয়া উচিৎ ছিল আবেদ কাজী, সেখানে বুঝে নিন, কি জগা-খিচুড়ি অবস্থা!!

আরও বিস্তারিত কিছু আলোচনা করা হবে ৪ নাম্বার কলামে। অস্পষ্ট ব্যাপারগুলো আরও বিস্তারিত আলোচনার চেষ্টা সেখানে করা হবে।

name correction GermanProbashe

মোদ্দাকথা, সাড়-সংক্ষেপ হলঃ

১ক। নামের প্রথম অংশ (first name / Vorname ) হবে একটি বা দুটি আলাদা শব্দের নাম (যুক্তশব্দ নয়) দিয়ে, যেগুলো দিয়ে আপনাকে পরিবারে অথবা বন্ধুমহলে সম্বোধন করা হয়।

১খ। নামের শেষ অংশ (surname / family name / Nachname / Familienname/Name) হবে আপনার পারিবারিক বা বংশের নাম। এই নাম দিয়ে আপনাকে অফিসিয়ালি ডাকা হবে। যেমনঃ Mr. Khan, Ms. Chowdhury, Mr. Kazi, Ms. Torofdar।

একটি কারণ, পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে এমন কোনও ফর্ম বলতে গেলে নেই, যেখানে আপনাকে আপনার নাম আর আপনার পারিবারিক নাম আলাদা করে লিখতে হবে না।

 


২। বাংলাদেশে নাম সংশোধন বা পরিবর্তন

আপনার যদি এখনও কোনও পাসপোর্ট না থাকে এবং আপনি যদি এখনও এসএসসি/ ও-লেভেল এর জন্য রেজিস্ট্রেশন না করেন, তবে শুধু জন্ম-সনদ পরিবর্তন (বর্তমানে online birth certificate করাই উত্তম) করে নিলেই হবে। আর অন্য কোনও কিছু না করলেও হয়তো নাম পরিবর্তন নিয়ে ঝামেলা হবে না। এক্ষেত্রে নিজেদের সাথে বিদ্যালয়-কর্তৃপক্ষের বোঝাপড়ার উপরই সব নির্ভর করবে। অন্যথায় নিম্নলিখিত কর্মপন্থা অনুসরণ বাঞ্ছনীয়ঃ

২ক। নামের এফিডেভিট (name affidavit)
এফিডেভিট যদিও উন্নত দেশগুলোতে এক পাতাতেই দেখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশে আইন অনুযায়ী ১০০ টাকার ২ টি স্ট্যাম্পে তার মানে ২ পাতাতে লিখে আবেদন করতে হয়। এফিডেভিট এর স্যাম্পল দরকার হলে এখানে কমেন্টে জানাতে পারেন, দেয়ার চেষ্টা করা হবে। যদি দেশের বাইরে থাকেন বা পরবর্তীতে যেতে চান, তাহলে এফিডেভিট ইংরেজিতে করাই ভালো। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে আপনি ১৮এর নীচে বা ১৮এর উপরে যাই হোন না কেন, এফিডেভিট আপনার অভিভাবকের দ্বারা করাতে হবে (ব্যাপারটা যদিও যুক্তিতে মেলে না)। তাছাড়া এর বাইরে, আপনার বয়স ১৮ বছরের উপরে হলে, এফিডেভিট আপনি নিজেই করতে পারবেন। এ ব্যাপারে ভালো জানার জন্য, অভিজ্ঞ কোনও উকিলের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

এফিডেভিটের জন্য লাগবেঃ
 ১০০x২=২০০ টাকার স্ট্যাম্প
 স্ট্যাম্পে (legal size page) প্রিন্ট নেয়ার জন্য, কম্পিউটারে বাংলা বা ইংরেজি আবেদনের ফরম্যাট
 ১৮এর নীচে আপনার বয়স হলে, এফিডেভিটে সংযুক্ত করার জন্য আপনার অভিভাভকের এক কপি বায়োমেট্রিক ছবি
 ১৮এর উপরে আপনার বয়স হলে, এফিডেভিটে সংযুক্ত করার জন্য আপনার এক কপি বায়োমেট্রিক ছবি
 ১৮এর নীচে আপনার বয়স হলে, এফিডেভিটে আপনার অভিভাভকের স্বাক্ষর
 ১৮এর উপরে আপনার বয়স হলে, এফিডেভিটে আপনার আপনার স্বাক্ষর
 উকিলের স্বাক্ষর, সিল, আর উনার ফি
 নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও সিল (আর উনার সহকারীর ফি!! দুঃখজনক হলেও বেশীরভাগ ক্ষেত্রে সত্য!)
 নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সিল আপনার ছবির উপরে থাকবে, অন্য পাতাতেও উপরে থাকবে। সবশেষে আরেকটি সিলে আপনার নথিভুক্তির নাম্বার ও তারিখ দেয়া হবে। নথিভুক্তির নাম্বারটি প্রথম পাতাতেও লিখা হয়।

২খ। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি
যেকোনোও জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন জারি করতে হবে। ইংরেজি পত্রিকা হলে দেশের বাইরে প্রমাণ দেখানো সহজ। যেদিন ওই পত্রিকা বের হবে, সেদিনই যত বেশী সম্ভব ওই পত্রিকাটি কিনে নিন। এটার ফরম্যাট দরকার হলে কমেন্টে জানাতে পারেন, দেয়ার চেষ্টা করা হবে।

২গ। জন্মসনদ সংশোধন
জন্মসনদ সংশোধন করতে গেলে, জন্ম-নিবন্ধকেরা সাধারণত নতুন একটি সনদ দিয়ে দেয়। এখানের কাজ তুলনামূলক সহজ। আপনার এলাকার জন্ম-নিবন্ধকের (ওয়ার্ড কমিশনার অফিস / চেয়ারম্যান অফিস) সাথে আগে থেকে যোগাযোগ করে নিন। একটি আবেদন-ফর্ম পূরণ করতে হয় এবং সাথে আপনার এফিডেভিটের ও পত্রিকার বিজ্ঞাপনের কপি সাধারণত চাওয়ার সম্ভাবনা আছে। অনলাইন করে নিতে পারলে আরও ভালো হয়। অনলাইনে জন্মসনদ হয়েছে কিনা এখানে দেখে নিতে পারেনঃ http://bris.lgd.gov.bd/pub/?pg=verify_br

২ঘ। এসএসসি/ এইচএসসি সনদ সংশোধন
নাম সংশোধনের যত কাজ আছে, ভালো করে মনে রাখবেন, এটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। কাজেই যথেষ্ট পরিমাণ ইচ্ছাশক্তি থাকলেই এই কাজে নামা ভালো। আরেকটি কথা, পাসপোর্ট সংশোধন করতে গেলে যথাসম্ভব চেষ্টা করুন, এসএসসি সনদ ছাড়াই করা যায় কিনা। একটু চেষ্টা করলেই সম্ভব। আর পাসপোর্ট সংশোধন হয়ে গেলেই জার্মানিতে আপনার নাম সংশোধনের অন্য সব কাজ হয়ে যাবে। কাজেই জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ সংশোধন অথবা অন্য কারণে যদি দরকার না হয়, তবে এই শ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ কাজে বুঝে শুনে নামাই ভালো। আমি নিজে যেহেতু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে সংশোধন করিয়েছি, তাই ওখানকার ব্যাপারেই উল্লেখ করব।
এসএসসি বা বোর্ডের অন্য সনদ সংশোধন করতে গেলে আপনাকে অবশ্যই নাম ও বয়স সংশোধন কমিটির সামনে দাঁড়িয়ে আপনার নাম সংশোধনের কারণ অথবা যুক্তিগুলো উপস্থাপন করতে হবে। নাম সংশোধন কমিটিতে থাকেন সাধারণত বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব, বিদ্যালয় পরিদর্শক, কলেজ পরিদর্শক এবং বোর্ডের বাইরে থেকে আসা বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ অথবা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা।

শিক্ষা বোর্ডে যা যা দরকার হয়ঃ
(প্রতি নাম সংশোধনের জন্য একটি করে, যেমনঃ এসএসসির জন্য একটি, এইসএসসির জন্য একটি কপি)
 এফিডেভিটের সত্যায়িত কপি
 পত্রিকার বিজ্ঞাপন (মূল কপি দিতে পারলেই ভালো)
 পূর্বনামের এসএসসি / এইসএসসি সনদের কপি
 পাসপোর্ট সাইজের ছবি
 ৮০০ টাকা (যেই ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হবে, সেই ব্যাংকের সময়সূচী জেনে গেলেই ভালো। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের নিচতলায় সোনালী ব্যাংক বহদ্দারহাট শাখার একটি বিভাগ আছে, যারা প্রতিদিন অনেক আগে ভাগেই লেনদেন বন্ধ করে দেয়।)
 পূরণকৃত ও আবেদনকারীর স্বাক্ষরিত নাম সংশোধনের আবেদনপত্র। আর সাথে এসএসসির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এইসএসসির ক্ষেত্রে কলেজের অধ্যক্ষের স্বাক্ষর। (বিদ্যালয়ে এবং কলেজে জমা দেয়ার জন্যও অতিরিক্ত এফিডেভিটের ও পত্রিকার বিজ্ঞাপনের কপি রাখুন)

নাম ও বয়স সংশোধনের জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব মূলত দায়িত্বশীল। সাধারণত একজন অফিস সহকারী তার অধীনে এগুলো তত্ত্বাবধানে সবসময় নিয়োজিত থাকেন। তার কাছ থেকেই মোটামুটি সব তথ্য পাওয়া যায়। আপনার নাম সংশোধন যদি বানান ভূল জাতীয় কিছু হয়, সেক্ষেত্রে ব্যাপারটা কিছুটা সহজতর হয়। তা নাহলে কমিটি থেকে ‘না’-উত্তর আসার সম্ভাবনা অনেক বেশী। আপনার নাম পরিবর্তন যদি বড় ধরণের হয়, সেক্ষেত্রে আপনাকে কিছু বেশী কাজ করতে হতে পারে। আর দেশের আইন অনুযায়ী যেহেতু আপনার নাম সংশোধনের অধিকার আছে, তাই আপনিও আইনের আশ্রয়ের পথ তৈরি করে রাখুন। আপনি যদি জার্মানি থেকে দেশে গিয়ে নাম সংশোধন করতে চান, তাহলে আপনার হাতে সময় অবশ্যই খুবই কম থাকার কথা। আর একবার দেশে বেড়াতে গেলে একবারের বেশী নাম সংশোধনের মিটিং পাওয়ার কথাও না। শিক্ষা বোর্ডে এই মিটিংগুলো সাধারণত দেড় থেকে আড়াই মাস পরপর একবার হয়। আপনি তাই বোর্ডে অফিস সহকারীকে জানিয়ে রাখতে পারেন যে, নাম সংশোধন কমিটি যদি আপনার নাম অনুমোদন না করে, সেক্ষেত্রে আপনি আইনি ব্যবস্থা নিতে যাবেন। তখন হয়তো ব্যাপারটা সহজ হতেও পারে। কারণ মামলা-মোকদ্দমাকে তাদেরও একটু এড়িয়ে চলার চেষ্টা করার কথা। আরেকটি সাবধানতা, অচেনা দালাল ধরে প্রতারিত হবেন না। বাইরের কারও এখানে আদৌ কিছু করার সামর্থ্য আছে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

নাম সংশোধনের কমিটিতে একটি নির্ধারিত দিনে সবাইকে ডাকা হয়। আপনার ক্রমিক নাম্বার হিসেবে সেখানে আপনাকে প্রবেশ করতে হবে। কমিটির মুখোমুখি হওয়ার আগে আপনার নামের পরিবর্তনের পক্ষে সবগুলো যুক্তি তৈরি করে নিন। আর অবশ্যই আপনার সব প্রামাণিক মূল কাগজপত্র একটি ফাইলে করে নিয়ে যেতে পারেন, যেন কমিটিকে দেখানো সহজ হয়। এই আর্টিকেলের ১, ৪, ও ৫ নম্বর অংশ পড়ে নিলে আশা করি যুক্তি দিতে আপনার কষ্ট হবে না। বিভিন্ন রকম যৌক্তিক এবং ক্ষেত্রবিশেষে অযৌক্তিক প্রশ্নও করা হতে পারে। তাই নিজেকে পুরোপুরি তৈরি রাখুন। তবে অবশ্যই ভদ্রতা ও শালীনতার সাথে কমিটিকে উত্তর দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

কমিটি আপনার নাম সংশোধন অনুমোদন করেছে কিনা, তা পরের দিনই সাধারণত আপনি জানতে পারবেন। শিক্ষা বোর্ডের নোটিশে অথবা অফিস সহকারীর কাছ থেকে এ ব্যাপারে জানতে পারবেন। যদি ‘না’ হয়, তাহলে পুনর্বিবেচনার জন্য আবার আবেদন করতে পারবেন। আমার ক্ষেত্রে প্রথমবার ‘না’ ছিল এবং দ্বিতীয়বারে সফল হয়েছি। আপনি যদি জার্মানির অধিবাসী হন এবং দ্বিতীয়বার যদি আবেদন করেন, তাহলে এর সুবিধা আর অসুবিধা দুটোই আছে। অসুবিধা হল, পরের মিটিং ধরতে হলে পরের বার আপনাকে জার্মানি থেকে ওই অফিস সহকারীর সাথে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের তারিখ ওভাবে ঠিক করে আসতে হবে। আর সুবিধাটা হল মধ্যবর্তী সময়ে আপনার একবার জার্মানিতে আসার কারণে এখানকার অনেক কাগজপত্রই নতুন নামে হয়ে যাবে। সেগুলো দ্বিতীয়বার আবেদনের সময় দেখাতে পারবেন এবং তা ভালই কাজে দেয়।
কমিটির উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে এবার এসএসসির / এইসএসসির নতুন সনদ, ট্রান্সক্রিপট, রেজিস্ট্রেশান কার্ড, আর প্রবেশ পত্র প্রতিটির জন্য আলাদা আলাদা আবেদন করতে হবে এবং ব্যাংকে আলাদা আলাদা ফি জমা দিতে হবে। আবেদনপত্রগুলোও এক একটি এক এক অফিসে ক্ষেত্রবিশেষে জমা দিতে হয়।

এবার দীর্ঘ প্রতিক্ষা! রেজিস্ট্রেশান কার্ড যদি চলে আসে, তবে আপনার নাম সংশোধনের যে নোটিশ শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে পাবলিশ হয়েছে অথবা বোর্ড থেকে দেয়া হয়েছে, সেটি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কলেজের অধ্যক্ষের স্বাক্ষর আপনার রেজিস্ট্রেশান কার্ডে নিয়ে নিন। এক কপি আপনার কাছে রেখে আরেক কপি বোর্ডে জমা দিয়ে দিন এবং একই সাথে শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে আপনার নাম সংশোধনের আবেদনও করে দিন।
এই অনলাইন সার্ভারে আপনার নাম সংশোধন হলেই, আপনি জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য সাধারণত আবেদন করতে পারবেন।

২ঙ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ সংশোধন
এক এক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম এক এক রকম হওয়ার কথা। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে কয়েকবার দেখা করেছিলাম। এসএসসির সনদ সংশোধন হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনও লাভ হয় নি। ব্যাচেলর যেখানে করেছেন, সেখানেরও নাম সংশোধন করলে বড় সুবিধাটা হল, এক্ষেত্রে আপনাকে পরবর্তীতে সিভিতে birth name / Geburtsname আর যোগ করতে হবে না। তবে আপনি জার্মানিতে বসবাসরত হলে আপনার বিশ্ববিদ্যালয় সনদ সংশোধন বাধ্যতামূলক নয়, কারণ পাসপোর্ট সংশোধনে এটি বাঞ্ছনীয় নয়।

আমাকে প্রথমে রেজিস্টার বরাবর আবেদন করে একাডেমিক শাখা থেকে নাম সংশোধনের নোটিশ জারি করাতে হয়েছিল। নোটিশ জারি হওয়ার পর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বরাবর আবেদন করে পরীক্ষা শাখা থেকে সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলন করা যায়। এগুলোর জন্যও ব্যাংকে নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়েছিল।

২চ। পাসপোর্ট সংশোধন
পাসপোর্ট সংশোধন করতে গেলে তারা স্বভাবতই এসএসসির সনদের সংশোধন দেখতে চাইবে। আর বাংলাদেশের সিস্টেম অনুযায়ী শিক্ষাবোর্ডে যেহেতু ১৮ মাসে বছর হয় (আর দুর্নীতির কথা নাহয় নাই বললাম), তাই ওই প্রতীক্ষা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। নামের এফিডেভিট, পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি, জন্ম সনদ, এগুলো পাসপোর্ট সংশোধনের আবেদনের সাথে যুক্ত করে জমা দিয়ে দিতে পারেন।

পাসপোর্ট অফিসের লোকজনেরা কেউ কেউ আপনাকে এই সুযোগে ঘুরাতেও পারে। এই অবস্থায় আপনি দালালের কাছে যেতে বাধ্য হবেন, আর এতে তাদেরও লাভ। তবে শুরুতে সব কাজ নিজে করার চেষ্টা করাই ভালো, তাহলে পাসপোর্টে সব সঠিকভাবে আসার সম্ভাবনা ভাল থাকে। কিন্তু নিতান্তই নিরুপায় হলে, যা করার তাই আপনাকে হয়তো করতে হবে। খেয়াল রাখবেন আবার, সব দালালকে দিয়ে কিন্তু সব কাজ হয় না।
পাসপোর্টের নাম সংশোধনে পুলিশ তদন্ত হয়। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স হলে পাসপোর্ট ও ইস্যু হয়ে যাবে। আর পাসপোর্ট তদন্তকারী পুলিশদের দুর্নীতিও আশা করি সবার জানা আছে। জরুরী পাসপোর্ট হলে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে হয়ে যাওয়ার কথা। আর পাসপোর্ট হয়ে গেলেও আপনার আগের নামের পাসপোর্টও আপনার কাছেই ভ্যালিড অবস্থায় থাকবে। তাছাড়াও আগের পাসপোর্ট দিয়েই আপনার জার্মান ভিসা এবং আর ওই পাসপোর্ট দিয়েই আপনাকে জার্মানিতে ফেরত আসতে হবে।

২ছ। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন
আমার নতুন পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জার্মান রেসিডেন্স কার্ড, health insurance card, EC cards, credit cards, office ID card, university ID card, IELTS certificate কোনও কিছুই বাকি রাখিনি প্রমাণ হিসেবে দেখাতে এখানে। আগারগাও এর ইসলামিক ফাউনডেশনের সাত তলায় নির্বাচন কমিশনের অফিসে বেশ কয়েকবার নিজে গিয়ে সব প্রমাণ দেখানোর চেষ্টাও করেছি। এসএসসি সনদ ছাড়া কোনও লাভ হয় নি। কাজেই এসএসসি সনদ অনলাইনে সংশোধন হওয়ার পরেই আপনি এখানে আবেদন করতে পারবেন। আপনার নিজ নিজ এলাকার নির্বাচনী অফিসে গিয়েই আবেদন করতে হবে। সেখানে প্রমাণস্বরূপ নিদেনপক্ষে নামের এফিডেভিট, পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি, এসএসসির নতুন সনদের কপি জমা দিতে হবে। আর হ্যাঁ, সুযোগ-সন্ধানী লোক অবশ্যই এখানেও আছে।

২জ। ড্রাইভিং লাইসেন্স সংশোধন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
যদি ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে থাকে আর সংশোধন করাতে চান, তাহলে হয়তো তেমন কঠিন কাজ নয়। আমার নামের এফিডেভিট, পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি, আর নতুন পাসপোর্ট, এ তিনটি দিয়েই কাজ হয়ে গিয়েছিল। একটা নির্ধারিত ফি আর আবেদন ফর্মের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযোজিত করে দিন।

 


৩। জার্মানিতে নাম সংশোধন বা পরিবর্তন

জার্মানিতে নাম সংশোধন করতে গেলে, শুধু আপনার (২চ)পাসপোর্ট সংশোধনই যথেষ্ট। আর তার কারণেই (২ক)নামের এফিডেভিট, (২খ)পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, (২গ)জন্মসনদ সংশোধন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে (২ঘ)এসএসসি সনদ সংশোধন দরকার হতে পারে। নাম সংশোধন হলেও আপনার পূর্বের social insurance number / Sozialversicherungsnummer এবং tax ID / Steuer ID পরিবর্তন হবে না। আর ভাল হয়, যদি নাম পরিবর্তনের জন্য দেশে ভ্রমনের আগে একবার Meldeamt, Auslaenderbehoerde, health insurance, আর আপনার সংশ্লিষ্ট কর্মস্থল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে জানিয়ে নিন। তাহলে পরবর্তীতে সেক্ষেত্রে সন্দেহের উদ্রেকটা কম হবে। আর এখানে শেষ নাম পরিবর্তন খুবই সাধারণ ব্যাপার। কারণ বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মেয়েরা বিয়ের পরে স্বামীর পারিবারিক নাম নিজের নামে যুক্ত করে নেয়।

৩ক। প্রথমে যেতে হবে Meldeamt বা Buergerbuero তে। সেখানে গিয়ে প্রথমে আপনার নাম সংশোধনের সব প্রমাণ দেখাতে হবে। তারা সবকিছুর ফটোকপি করে রাখবে। এরপর নতুন নামের একটি Meldebescheiningung আপনি পাবেন।

৩খ। এরপর যেতে পারেন Auslaenderbehoerde তে। সেখানে নতুন পাসপোর্ট আর Meldebescheinigung দেখালে, আপনার Aufenthaltstitelkarte নতুন করে দেয়ার জন্য তারাই উদ্যোগ নিবে। এখানে নতুন তেমন কিছুই নেই। স্বাভাবিকভাবে যেভাবে আগে Aufenthaltstitelkarte নিয়েছিলেন, সেভাবেই হবে এবারও।

৩গ। এরপর যাওয়া যেতে পারে Krankenversicherung এ। সেখানে ও নতুন পাসপোর্ট আর Meldebecheinigung দেখালে কাজ হয়ে যাওয়ার কথা।

৩ঘ। এরপর যাওয়া যেতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ে। একইভাবেই পাসপোর্ট দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েও আপনার নাম সংশোধন হয়ে যাবে। Students’ office এ গিয়ে সাধারণত যোগাযোগ করতে হয়। তবে নাম সংশোধনের আগে থেকেই আপনার কোর্স কো-ওরডিনেটর প্রফেসরকে জানিয়ে রাখা ভাল। নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পরপরই হয়তো আরও একবার জানিয়ে দিতে পারেন। আর অবশ্যই আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড নতুন করে বানিয়ে নিতে ভুলবেন না যেন।

৩ঙ। আপনার কর্মস্থলেও আপনার পাসপোর্ট দেখিয়ে নাম সংশোধন করিয়ে নিতে পারবেন।

৩চ। ব্যাংকে আর ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিতে সংশোধনের জন্য তাদের চাহিদামত কাগজপত্র দেখিয়ে নিন।

 

 


৪। বিবিধ আলোচনা (যারা কিছুটা মুক্ত-আলোচনা গ্রহণ করতে পারেন, এটি শুধু তাদের জনই)

৪ক। বাংলাদেশী বেশীরভাগ নামেরই কোনও ফরম্যাট নেই। কোনও নিয়মেরও বালাই নেই। সরকার থেকে শিক্ষাবোর্ড অথবা জন্ম-নিবন্ধকের দ্বারা সবাইকে একটা নিয়ম অনুসরণের নির্দেশ দেয়ারও কোনও গরজ নেই।

৪খ। সবচেয়ে বেশী করুণ অবস্থা বাংলাদেশী মুসলিম পরিবারগুলোতে। যেখানে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় আদৌ শেষ নাম বা পারিবারিক নাম বলতে কিছুই নেই। আরবি যুক্ত-শব্দ দিয়ে গঠিত এগুলোর সাধারণত পুরোটাই প্রথম নাম।

৪গ। আরেক সমস্যা হল ডাক নামের উপদ্রব। এই ডাবল-আইডেন্টিটির সংস্কৃতি অন্যান্য দেশে বিরল। দেখা গেলো আপনাকে সবাই চিনে এক নামে, আর কাগজ-পত্রে আপনি পুরোই আরেক মানুষ।

৪ঘ। ডাকনামও কেউ কাগজে-কলমে ব্যাবহার করেন, আবার কেউ ব্যাবহার করেন না। যারা ব্যাবহার করেন, তারাও দেখা যায় নামের শুরুতে যুক্ত না করে লাগিয়ে দেন নামের শেষে।

৪ঙ। পারিবারিক বা বংশের নামের ব্যাবহারেরও কোনও স্ট্যান্ডার্ড নেই মুসলিম পরিবারগুলোতে। খান, ভুঁইয়া, চৌধুরী ইত্যাদি নামের শেষে ব্যাবহার হলেও কাজী, শেখ, সৈয়দ প্রভৃতি ব্যাবহার হচ্ছে নামের শুরুতে।

৪চ। আরেকটি হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে, আরবি যুক্ত নামের একটি অংশ ধরে সম্বোধন চালু করা। উদাহরণস্বরূপ, ‘……উদ্দিন’, ‘……উর-রাহমান’, ‘আব্দুল……’, ‘আব্দুর…’, ‘আবু……’, ‘উম্মে…’, ‘…উল-ইসলাম’, এগুলোসহ অনেক আরবি নামই যুক্ত নাম। এর মধ্যে ধরুন, একজনের নাম লিখা হয় সাইদুর রাহমান। আরবি অর্থ বিচারে যেটা হবে, সাইদ-উর-রাহমান। এখন সবাই তাকে দেখা যাচ্ছে সম্বোধন করছে সাইদ অথবা সাইদুররাহমান না বলে, সাইদুর দিয়ে। ধরুন আপনার নাম ‘সাগর’। এখন সবাই যদি আপনাকে ‘সাগরকে’ অথবা ‘সাগরের’ বলে সম্বোধন করে, এটা শুনতে কেমন দেখায়! বাংলাদেশীদের এধরণের সম্বোধন দেখলে আরবরা মনে হয় না, না হেসে বসে থাকতে পারবে। আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, এই ধরণের নাম গুলোকে আলাদা করে লিখা তো হচ্ছেই, সেই সাথে অনেক সময় first name এবং family name হিসেবে আলাদা করা হচ্ছে, যেটি অযৌক্তিক। উদাহরণস্বরূপ, কিছু আরবের ক্ষেত্রে দেখা যায়, নাম হচ্ছে এভাবে, ‘আব্দুলআজিজ আল-মুসায়ি’। এক্ষেত্রে first name হিসেবে আব্দুলআজিজ, আর family name হিসেবে আল-মুসায়ি লিখাটা যৌক্তিক। কিন্তু নামকে আব্দুল আজিজ লিখে, সেখানে আব্দুলকে প্রথম নাম আর আজিজকে পারিবারিক নাম বানানো অযৌক্তিক।

৪ছ। বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, ও খ্রিস্টান পরিবারগুলোতে গড়পড়তা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই শুদ্ধ নামের ফরম্যাট ব্যাবহার হয়। তাই সেখানে পরিবর্তনের দরকার হয় না। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি, পারিবারিক নামটা এই যুগে যেখানে শুধুমাত্র পরিচয়ের ব্যাপার, সেখানে কিছু কিছু হিন্দু পরিবারে এটা এখনও বর্ণ-মর্যাদার ব্যাপার। একি ধরণের চামড়ার রঙের আর গড়নের মানুষের মধ্যে, শুধুমাত্র পূর্বপুরুষের পেশা কি ছিল সেটা নিয়ে পারিবারিক নাম দিয়ে বর্ণবৈষম্য করে তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ করে দেয়া, স্বয়ং জার্মান-নাজিদের মধ্যেও বিরল ছিল বৈকি! আরেকটি ব্যাপার যেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ না হলেও অগ্রাহ্যও করা উচিৎ নয়, সেটি হল বৌদ্ধ পরিবারগুলোর বেশীরভাগকে ‘বড়ুয়া’ দিয়ে চিহ্নিতকরণ। আধুনিক যুগের মানুষের কাছে যেহেতু ধর্ম-পরিচয়টা খুব বড় কিছু নয়, সেক্ষেত্রে এখানেও গণহারে সবাইকে ‘বড়ুয়া‘ দিয়ে চিহ্নিত না করে, নিজ নিজ পারিবারিক নাম দেয়াটাই হয়তো সমীচীন। তবে এখানে যদি কারও বিশ্বাসগত ব্যাপার থাকে, সেখানে আঘাত করাটা মোটেও লেখকের উদ্দেশ্য নয়।

৪জ। মুসলিম পরিবারগুলোর আরেকটি ব্যাপার হল, আরবি নামকেই সবসময় মনেপ্রাণে সম্মান করা। সেক্ষেত্রে এটা ভুলে যাওয়াও উচিৎ নয়, ইসলাম আসার আগে আরবে শুধু খ্রিস্টান, ইহুদী, ও পৌত্তলিকরাই ছিল, আর তাদের নাম আরবিই ছিল। বর্তমানেও আরবে অনেক খ্রিষ্টান আছে, এবং আরবি নাম তাদের মধ্যে থাকাটাও অস্বাভাবিক নয়। আরবি নাম তাই ধর্মের চেয়েও বেশী তাদের আরব সংস্কৃতিরই প্রতিনিধিত্ব করে। বিস্তারিত ইতিহাস জানতে চাইলে হয়তো এখানে দেখতে পারেনঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Arab_Christians. আপনি আপনার সন্তানের নাম আরবিতে রাখতে পারেন, অথবা চাইনিজ জাপানিজও রাখতে পারেন। এটা পুরোপুরিই আপনার ব্যাপার। তবে আপনি যে সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করেন, নামও সেই সংস্কৃতির হলেই সুন্দর দেখায়। আপনার নাম শুনেই সাধারণত পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে প্রথমে অনুমান করার চেষ্টা করা হয়, আপনি কোথা হতে এসেছেন। আর বিশেষ করে আপনি যদি জার্মানিতে আসতে চান, তবে মনে হয় না, এখানে আপনি আরব সমাজের প্রতিনিধিত্ব করতে চান। কারণটা কি, সেটা আপনি নিয়মিত জার্মানির খোঁজ নিলেই বুঝতে পারবেন।

৪ঝ। MD দিয়ে যে Doctor of Medicine বুঝায়, সেটা নিয়ে এর আগে অল্প আলোচনা হয়েছে। এখানে আরেকটু আলোচনা করতে চাইছি। বাংলাদেশী মুসলিম পরিবারগুলোতে দেখা যায় যে, নামের সাথে মুহাম্মাদ বা আহমাদ লাগানো অত্যাবশ্যক ধরা হয়। আরবে মুহাম্মাদ বা আহমাদকে কখনও নামের টাইটেল হিসেবে ধরা হয় না, বরঞ্চ নাম হিসেবেই ধরা হয়। যেমন ধরুনঃ মুহাম্মাদ আল-সাব্বানি, আহমাদ ইবনে সাইদ। এই দুই নামের ক্ষেত্রে; প্রথম জনের নাম মুহাম্মাদ আর তার পারিবারিক নাম আল-সাব্বানি। দ্বিতীয় জনের ক্ষেত্রে; তার নাম আহমাদ আর তার বাবার নাম সাইদ।

৪ঞ। আরব উপদ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে সাধারণত ‘…বিন…’, ‘…বিনতে…’, ‘…ইবনে…’, ‘…ইবনুল…’, আর ‘…ইবন…’ দিয়ে নাম দেখা যায়। এই ধরণের নামের প্রথমে থাকবে আপনার প্রথম নাম আর শেষে থাকবে আপনার বাবার প্রথম নাম। এরকম নামের কোনও অংশই পারিবারিক নামের মধ্যে ফেলার উপায় নেই। উদাহরনঃ সাইফ বিন হাশিম। এখানে সাইফ নামে আপনাকে ডাকা হয়, আর হাশিম নামে আপনার বাবাকে ডাকা হয়। কাজেই সাইফ কে প্রথম নামে বসানো গেলেও, বিন হাশিম কে পারিবারিক নামে বসানোর উপায় নেই। কারণ আপনার পারিবারিক নাম আপনার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনী সবাই পাবে। যদি ‘বিন-হাশিম’কে পারিবারিক নাম হিসেবে ব্যাবহার করেন, তাহলে তারা সবাই হাশিমের ছেলে-মেয়ে হয়ে গেলো। আর আপনি আপনার ছেলে-মেয়েকে অন্তত আশা করি আপনার বাবার ছেলে মেয়ে বলতে চান না। সেক্ষেত্রে, আপনি যেহেতু সাইফ, ধরে নেই আপনার ছেলে হবে ‘ওয়ালিদ’, আর তার পুরো নাম হবে ‘ওয়ালিদ ইবনে সাইফ’। তাহলে এবার বুঝে নিন, এধরণের নাম থেকে কেন পারিবারিক নাম পাওয়া সম্ভব নয়।

৪ট। আরবের দেশগুলোতে আমাদের দেশের অনেকেই আছেন। তাদের কাছ থেকে বেশ ঘটনাই শুনা যায়, বাংলাদেশিদেরকে সেখানে কি পরিমাণ অপদস্থ করা হয়। এমনকি কিছুদিন আগে ধর্মের ধ্বজাধারী একটি দেশ আইন করে বাংলাদেশীদেরকে বিয়ে করা তাদের নাগরিকদের জন্য নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। যদি তাদের কেউ পাশ্চাত্যের দেশগুলোতেও এসে থাকেন, তাহলে হয়তো আপনি নিজেই একটি তুলনা দাঁড় করাতে পারবেন, কে আসলে কতটা বর্ণবাদী আর বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আর আপনার যদি নিজেরই বিবেক থাকে, তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন, আপনার নামের দ্বারা আপনি কোন সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করতে চান।

৪ঠ। আরও আশ্চর্যজনক ব্যাপার হল, ফার্সি এবং উর্দু নামগুলোকে ইসলামিক নাম মনে করা। আরবির ক্ষেত্রে তাও নাহয় অনেকে নিজেদের ধর্মের উৎপত্তিস্থল আর ধর্মগ্রন্থের যুক্তি দিয়ে সেটাকে পবিত্র ভাষা মনে করার যুক্তি দেন। অথচ বাংলাদেশী অনেক মুসলিম পরিবারে দেখা যায়, উর্দু এবং ফার্সি নামের বাহার এবং এগুলোও নাকি মুসলিম নাম!! ইরানের লোকদের আদি ধর্ম ছিল জরাথুস্ট্রবাদ, আর ইসলাম আসার পরে সেখানে এখন শিয়া ও সুন্নি দুই ধরণের মুসলিমই আছে, যারা একে অপরকে মুসলিম বলে স্বীকার করে না। এদের সবার নামই ফার্সি। আর পাকিস্তানেও যে ইসলাম উৎপত্তির সময়কাল থেকেই এসেছে, সেটাও নয়। তারপরও উর্দু হয়ে যাচ্ছে ধর্মীয় নাম! একটু গুগল করলেই ফার্সি আর উর্দু নামগুলো পেয়ে যাবেন, আর আমাদের বাংলাদেশীদের মধ্যেও যে তা গণহারে প্রচলিত, তা বুঝতে পারবেন।

৪ড। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, দক্ষিন আমেরিকার দেশগুলি, রাশিয়া, ইউরোপের সমস্ত দেশে (বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডস এর কিছু বিরল উদাহরণ ছাড়া), চীন, জাপান, কোরিয়া, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আফ্রিকার অনেক দেশেই (মুসলিম দেশগুলো সহ), সিরিয়া, লেবানন ইত্যাদি অনেক দেশেই নামের স্ট্যান্ডার্ড ফরম্যাটের প্রচলন দেখা যায়। একটা ছোট তফাৎ যেটা লক্ষণীয়, সেটা হল দূরপ্রাচ্যের (চীন, কোরিয়া, ভিয়েতনাম প্রভৃতি) দেশগুলোতে পারিবারিক নামগুলো নামের শুরুতে লিখা হয়। কিন্তু, তারা যখনই পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে আসে, নিজেদের নামগুলোকে স্ট্যান্ডার্ড ফরম্যাট অনুযায়ী উল্টে দেয়। ধরুন একজন চাইনিজ ব্যক্তির নাম ‘Xing Shuyu’। কিন্তু যখন সে জার্মানিতে আসে, তখন তার নাম হয়ে যায় ‘Shuyu Xing’। সারাদিন সবাই পাশ্চাত্ত্যের দেশগুলোকে গালি দিলেও, বেলা শেষে হয়তো তারাও বুঝে, ভাল জীবন আসলে ওখানেই। তাই, যশ্মিন দেশে যদাচারই শ্রেয়। 

৪ঢ। বাংলাদেশী অনেক পরিবারের সবচেয়ে বড় সমস্যা যেটা দৃষ্টিতে পরে, তা হল আত্মপরিচয়ের সংকট। বাংলাকে হিন্দুয়ানী ভাষা উপাধি দিয়ে, নিজেদের নাম থেকে তা বিদায় করে আরবি, ফার্সি, উর্দু এসব ভাষার নাম চালু করা। দুঃখজনক হলেও সত্য, নিজেদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি থাকার পরেও আমাদেরকে নিজেদের নামের দ্বারা অন্য সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করতে হয়।

৪ণ। আরেকটি ব্যাপার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার নাম দেখে শুরুতে কেউ যদি ধর্ম-পরিচয়ের সন্ধান না পায়, এটা পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে খুবই ভাল। কাজেই আপনি যদি ধার্মিক না হয়ে থাকেন, নামকে সেকুলারাইযড করতে দোষ নেই। অন্তত এই একটি কারণেও হয়তো, আপনি অনেক চাকরীর আবেদনের প্রত্যাখ্যান থেকে বেঁচে যেতে পারেন। একটু নিজের মাথা খাটালেই বুঝতে পারবেন, একজন লোককে জার্মানরা যদি তাদের কোম্পানিতে নিতে চায়, তাহলে তারা এটাও চিন্তা করবে যে, এই লোক কর্মক্ষেত্রে তার পরিধি কত বাড়াতে পারবে আর মানুষের সাথে কত সহজে মিলেমিশে কাজ আদায় করে নিতে পারবে। তাই নামও আপনার এমন হওয়া চাই, যেটাতে সাধারণত এখানকার লোকেরা বিকর্ষণটা কম অনুভব করে।

 

 


৫। নাম সংশোধনের কিছু প্রস্তাবনা (উদাহরণসহ)
নাম পরিবর্তন যত সাধাসিধা হবে, আপনার প্রশাসনিক ঝামেলায়ও তত কম জড়াতে হবে। আবার ন্যূনতম পরিবর্তনও দরকার, যেটাতে আপনার নাম সঠিক ফরম্যাটে আসে। এখানে কিছু প্রস্তাবনা দেয়া হচ্ছে। অনেকের হয়তো এখনও অপরিষ্কার থাকতে পারে, নামকে কিভাবে সংশোধন বা পরিবর্তন করা উচিৎ। তাই নীচের উদাহরণগুলো দেখে আপনিও কিছু ধারণা নিয়ে নিন। প্রতি লাইনের প্রথমে বর্তমান নাম এবং পরে প্রস্তাবিত নামঃ

 কাজী জাফর উদ্দিন > জাফর কাজী

 শেখ মোহাম্মাদ সাইদ > সাইদ শেখ

 নাসরিন ভুঁইয়া শিল্পী > শিল্পী ভুঁইয়া

 সৈয়দ রাশিদ বিন কামাল > রাশিদ সৈয়দ

 মুস্তাক চৌধুরী নির্ঝর > নির্ঝর চৌধুরী

 হুমায়ুন আজাদ নীরব > নীরব হুমায়ুন আজাদ > নীরব আজাদ

 আবু হেনা মোঃ রফিকুল্লাহ > (দুঃখিত, কোনও প্রস্তাবনা দেয়া সম্ভব না, পারিবারিক কোনও নাম থেকে থাকলে সেটা আপনার নির্বাচিত প্রথম নামের সাথে যুক্ত করে নিন।)

 মোঃ আবদুল্লাহ > আবদুল্লাহ খান (যদি আপনার পূর্বপুরুষের কেউ খান হয়ে থাকেন)

 মোজাম্মেল হক শান্ত > শান্ত হক

 মোঃ শামসুদ্দিন > শামস তালুকদার (যদি পূর্বপুরুষের কারও নামে তালুকদার থেকে থাকে)

 মোসাম্মাৎ সাদিয়া আফরিন শম্পা > শম্পা আফরিন > শম্পা তরফদার (যদি পূর্বপুরুষের কেউ তরফদার হয়ে থাকে)

 রায়হানা বিনতে জামাল > রায়হানা খান (যদি পারিবারিক নাম খান হয়ে থাকে)

 


৬। শেষ কথা

পাশ্চাত্যের দেশে স্ট্যান্ডার্ড নামের গুরুত্ব এর আগে যথেষ্ট আলোচনা করা হয়েছে। আর প্রক্রিয়াও এখন মোটামুটি পরিষ্কার। এ কাজটিতে অনেক দীর্ঘসূত্রিতা আছে মনে করে অনেক আরামপ্রিয় জনগনই পিছিয়ে পরবেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তারপরও যারা এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন আর জার্মানিতে থাকেন বা আসতে চান, তাদের জন্য কিছু টিপসঃ

৬ক। আপনি এখনও দেশে থেকে থাকলে কাজ আজই শুরু করে দিন। দেশ ছেড়ে চলে আসার পর কাজটি আরও কঠিন হয়ে পরবে। এসএসসির সনদের কাজ কঠিন মনে হলে, শুধু পাসপোর্ট পর্যন্ত সংশোধন করেই থেমে যেতে পারেন, আপনি যদি চান। আর যদি আরেকটু ইচ্ছাশক্তি থাকে তো প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদও (যদি এর জন্য এসএসসির সনদ বাধ্যতামূলক না হয়) সংশোধন করিয়ে নিতে পারেন।

৬খ। আপনি বর্তমানে জার্মানির অধিবাসী হলে, শুধু পাসপোর্ট পর্যন্ত সংশোধনই কিন্তু যথেষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ সংশোধন করতে না পারলেও সমস্যা নেই। সেক্ষেত্রে চাকরী বা যেকোনোও জায়গায় সিভি জমাদানের ক্ষেত্রে, আপনার জন্মগত নাম (birth name / Geburtsname) হিসেবে পূর্বের নামকে উল্লেখ করে দিন। তাহলে, আপনার ব্যাচেলর এক নামে আর মাস্টার্স আরেক নামে হলেও ব্যাপারটা তারা ধরতে পারবে। অবশ্য, আমার জার্মান মাস্টার্স সনদে আমার বর্তমান নাম ও পূর্বনাম (Geburtsname হিসেবে) দুটোই আলাদা করে উল্লেখ করা ছিল।

৬গ। আপনি বর্তমানে জার্মানির অধিবাসী হলে, ইচ্ছাশক্তি আরেকটু বেশী থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদও সংশোধন করিয়ে নিতে পারেন। এসএসসির সনদ বাধ্যতামূলক না হলে তো দারুণ। কিন্তু সেটা প্রয়োজন হলে, আরও মোটিভেশন নিয়ে ওই কাজেও নামতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ হয়ে গেলে আপনাকে সিভিতে পূর্বনাম উল্লেখ না করলেও চলবে। তবে পূর্বনাম উল্লেখ করার সাধারণত মোটেও কোন নেগেটিভ প্রতিক্রিয়া নেই, তাই মনে সে ব্যাপারেও অভয় রাখতে পারেন। জার্মানিতে বিয়ের পরে অনেকেই তাদের শেষ নাম পরিবর্তন করে এবং এটা খুবই স্বাভাবিক।

৬ঘ। এটা শুধুই চরম মোটিভেশনের লোকদের জন্য। এসএসসির সনদ সংশোধনের পরও যদি আপনার মোটিভেশন থাকে, তাহলে আপনি জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্যও আবেদন করতে পারেন। আপনার পাসপোর্টে যেহেতু জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার সাধারণত উল্লেখ করা থাকে, তাহলে এই সংশোধনের পরে ইমিগ্রেশনেও আপনাকে আর আগের নামের ব্যাপারটা উল্লেখ করতে হবে না। আমাকে ইমিগ্রেশনে পূর্বনাম নিয়ে শুধুমাত্র জিজ্ঞাসা করেছিলো প্রথমদিকে, কিন্তু কখনোই কোনও সমস্যা হয় নি।


আবেদ
জানুয়ারি ২০১৭
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই লিখাতে কারও ধর্ম বা বিশ্বাসে আঘাত করা উদ্দেশ্য নয়। এবং কারও নামকে কটূক্তি করাও উদ্দেশ্য নয়। কাজেই এখানকার কোনও কিছুকেই ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হল। যেকোনও ধরণের গঠনমুলক সমালোচনা স্বাগতম।