প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে এমন একটা সময় আসে যখন তাকে “Necessity” এবং “Passion” -র মধ্যে যেকোন একটা ধরে এগোতে হয়। আমার আজকের লেখা “Passion” -কে নিয়ে। বেশিরভাগ বাঙ্গালী ছাত্র-ছাত্রীর স্বপ্ন থাকে পড়াশুনা শেষ করে একটা Secured জব এবং তার পরবর্তীতে সারাজীবন তুলনামুলুক একটা আনন্দময় জীবন কাটানো । আমারও হয়তো তাই ছিল। আসলে দেশের চলমান জীবনধারা এইভাবে চিন্তা করতে আমাদের বাধ্য করে। দেশের বাইরে আসার পরে মিউনিখের অদূরে Freising নামে একটা সিটিতে আমার পরিচয় হয় আশরাফ ভাইয়ের সাথে। অতি অল্প সময়ে ভাইয়ের সাথে আন্তরিক একটা সম্পর্ক গড়ে উঠে। উনার পুরো নাম মোহাম্মদ আশরাফুর রাহমান। TU Munich জার্মানির সেরা একটা বিশ্ববিদ্যালয় যেখান থেকে ১৭ জন নোবেল পাওয়া এলমনি এবং প্রফেসর শিক্ষা এবং দর্শনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং রাতদিন নিরলস কাজ করে চলছে। মোহাম্মদ আশরাফুর রাহমান TU Munich -এ গুটিকয়েক ভারতীয় উপমহাদেশীয় ফ্যাকাল্টির মধ্যে একজন। তাহলে এতে “Passion” -র কি আছে?

বাংলাদেশে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ফরেষ্ট্রীতে শেষ করার পরে দেশে নানা সরকারি, বেসরকারি চাকরির (So called Hot Job) সুযোগ এবং সবার ভালমন্দ ডিরেকসনে হারানোর আগে নিজের মন কিসে তিপ্ত হবে সেইটা খুঁজেছেন। উনার “Passion” কি বলে সেইটা খুঁজেছেন। তারপরে আর পিছনে দেখা হয়নি। ডবল ডিগ্রি মাস্টার্স করেন জার্মানির TU Dresden এবং ব্রিটেনের University of Wales থেকে Erasmus Mundus সহকারে। University of Manchester, UK থেকে Plant Sciences নিয়ে আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাওয়ার্ডসহ পিএইচডি শেষ করে University of Hull -এ Research Associate হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৫ সালে Humboldt Post-doctoral Fellowship নিয়ে জার্মানিতে ফিরে এসে কাজ শুরু করেন TU Munich -এ। ২০১৮ সাল থেকে Research Associate হিসেবে কাজ শুরু করেন পোস্ট-ডকের পরপরেই। পড়াশুনার এতোগুলা বছরে নানা অর্জন এবং রেস্পেক্টফুল স্কলারশিপের সাথে অনেকবার মিডিয়ার লাইমলাইটে আসেন। TU Munich -র ওয়েবপেইজে উনার অর্জন দেশকে, বিজ্ঞানকে আরও একবার তুলে ধরে বিশ্বদরবারে। গতমাসের জার্মানির জনপ্রিয় পত্রিকা Sued Deutsche -এ “green air conditioning” শীর্ষক উনার Research -র একাংশ ব্যাখ্যা করা হয়। উনি মূলত আরবান গ্রীন স্পেস এন্ড ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস নিয়ে কাজ করেন, তার মধ্যে কুলিং এফেক্টস এস্টিমেশন এ উনি ওয়ান অফ দি পাইওনিয়ার. উনার রিসার্চের বিষয়গুলো ইউরুপের বিভিন্নদেশসহ আমেরিকা কানাডার বিভিন্ন পরিবেশ বিজ্ঞানীদের পথ নিদর্শন করে থাকে। মে মাসে ফিনল্যান্ডে হয়ে যাওয়া বিজ্ঞানী সমাবেশে মোহাম্মদ আশরাফুর রাহমান বাংলাদেশ এবং TU Munich –কে প্রতিনিধিত্ব করেন উনার চলমান রিসার্চের বিসয়বস্তু নিয়ে।

বাংলাদেশের মত উন্নায়নশীলদেশে ন্যাচারাল সায়েন্স নিয়ে কাজ করার প্রবনতা এবং সুযোগ দুই কম তাই উন্নতদেশে থেকে উনার কাজ করে যেতে হচ্ছে। দেশের রিসার্চের মান আরও ভাল হলে এবং সুযোগের পথ খুলে দিলে দেশের নানা পিছয়ে পরা বিষয় নিয়ে কাজ করতে উনার ইচ্ছা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। উনার অনেকগুলা রিসার্চপেপার নতুন ধারার রিসার্চের পথ খুলে দিয়েছে।

আমাদের মতো ঘন বসতি পূর্ণ এবং ক্লাইমেট চেঞ্জ vulnerabel দেশ এ যেখানে সব থেকে বেশি ন্যাচারাল সাইন্স এ রিসার্চ দরকার সেখানে জার্মানি এর মতো দেশ উনাদের মতো অনেক বিজ্ঞানীর Passion এর পেছনে ইনভেস্ট করে যাচ্চে. পূতিগত মুখস্ত বিদ্যা এ বড়জোর অন্যের উদ্ভাবিত টেকনোলজি কেনা যায়, টেকনোলজি উদ্ভাবনের জন্য Passionate হতে হয়. আমাদের নীতি নির্ধারকেরা কি কখনো এটা অনুধাবন করবেন? চীন বা ইন্ডিয়া এর মতো ট্যালেন্ট হান্ট করে উন্নত বিশ্বে রিসার্চ করা মেধাবীদের দেশ এ আকর্ষণীয় অফার দিয়ে দেশকে readymade প্রোডাক্ট উপহার দিতে কত সময়ের দরকার তা জানি না, তবে শুরু টা হোক এটলিস্ট স্কুল লেভেল থেকে বাচ্চাদের যার যার Passion কে অনুপ্রেরণা দেয়া র মাধ্যমে!

Yousuf Dinar
Munich, Germany