জার্মানিতে আসার পর বলতে গেলে আমি সাগরের মাঝখানে ছিলাম কিভাবে কি করব মানে সিটি রেজিস্ট্রেশন,ব্যাঙ্ক একাউন্ট এর ব্লক একটিভ করা,এনরোলমেন্ট,ইন্সুরেন্স আর হাবিজাবি কাজ।

তবে এই জায়গায় আসার পর একজন বড় ভাই #Faysal ভাইয়ের ফ্রেন্ড #Yasir ভাইয়ের হেল্প নিয়ে সব কাজ খুব সহজেই করতে পেরেছি।যাই হউক আজকে যেটা নিয়ে লিখব তাহলো Deutsche ব্যাঙ্ক এর সব ঝামেলা কিভাবে শেষ করতে হবে জার্মানি আসার পর।



প্রথমেই যে কাজ করবেন তা হল আপনি যে বাসায় উঠেছেন ওই বাসার কন্ট্রাক্ট পেপারটা(যদি থাকে),আপনার একাউন্ট+ব্লক এর যে দুইটা কপি ওরা আপনাকে ইমেইল করে দিয়েছিল ওই গুলা আর পাসপোর্ট নিয়ে ওদের ব্রাঞ্চে যাবেন মানে, আপনার একাউন্ট Deutsche ব্যাঙ্কের যে ব্রাঞ্চে ওপেন করেছেন ওই ব্রাঞ্চে,কিন্তু যদি একাউন্ট খোলার সময় কোন ব্রাঞ্চে একাউন্ট ওপেন করবেন তা লিখেন নাই তবে আপনি যে সিটিতে গেছেন ওই সিটির Deutsche ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চে যাবেন।আর যদি কন্ট্রাক্ট পেপার না থাকে মানে আপনি কারো বাসায় বা কোনো জায়গায় উঠছেন Temporary, ওই জায়গার এড্রেস এর ডিটেলস নিয়ে যাবেন কারণ ওদের সব কিছু মেইল এর মাধ্যমে হয় মানে বাসায় চিঠি পাঠায়।

যাই হউক, ব্যাঙ্কে গিয়ে আপনার একাউন্ট+ব্লক এর কাগজ দুইটা দিয়ে বলবেন আপনার একাউন্ট একটিভ করতে চান। তখন আপনার পাসপোর্ট চাইবে Verification এর জন্য এরপর ওরাই বাকি সব কাজ করে দিবে।

এখন অপেক্ষার পালা,ওরা একটা একটা করে মেইল দিবে আপনার বাসার ঠিকানায়, আপনার একাউন্ট যেদিন থেকে এক্টিভ করবেন সেদিন থেকে ২-৩/৪ সপ্তাহের ভিতরে। আমি নিচে যে গুলা দিচ্ছি সে গুলো সিরিয়াল মেইনটেইন না ও করতে পারে তবে চিন্তার কিছু নেই।:D

#প্রথমে যে মেইলটা আসবে সেটা হবে আপনার অনলাইন পিন নাম্বার সম্বলিত চিঠি।আপনি যদি আপনার ল্যাপটপ বা মোবাইলে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করতে চান তবে ওই পিন নাম্বার লাগবে।তাই সাবধানে রাখবেন এই পিন নাম্বারটি।

##এরপর যে মেইলটি আসবে সেটা আপনার TAN(Transaktionsnummern) এর চিঠি।১-১০০ মোট ১০০ টি নাম্বার থাকবে।যখন আপনি অনলাইনে Transaction করতে চাইবেন তখন ওই ১০০ টি নাম্বার থেকে যে কোনো একটি TAN নাম্বার চাইবে।এই TAN নাম্বার গুলো ছাড়া আপনি কোনো একাউন্টে টাকা পাঠাতে পারবেন না।যদি কখনো হারিয়ে যায় তবে ব্যাঙ্ক গিয়ে জানান যত দ্রুত সম্ভব।

সর্বশেষে যে চিঠি(প্রেমপত্র না আবার)আসবে সেটা আপনার Maestro কার্ড এবং সেটার পিন নাম্বার। যদিও কার্ডের পিন নাম্বার পরের দিন এসেছিল আমার ক্ষেত্রে।আপনি এই কার্ড দিয়ে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলতে পারবেন তবে এই কার্ড দিয়ে আপনি যে সবকিছু করতে পারবেন তা না।

যেমন, আমার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে সেটা হলো আমি বাসের টিকেট কিনেছি অনলাইনে কিন্তু কি কারনে জানিনা আমি VOIP এর ক্রেডিট কিনতে পারিনি। সো বলতে পারেন এখনো Experiment চালাচ্ছি 😛

এরপর আরো অনেক মেইল আসবে সেটা নিয়ে আমি লিখছিনা হয়তো অন্য কেউ লিখবেন 🙂

গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো যদি এই ১, অনলাইন PIN ও ২, TAN এবং ৩, Deutsche Bank Maestro কার্ড(ক্রেডিট কার্ড না) ও ৪, কার্ড পিন নাম্বার আসার আগে টাকা তুলতে চান বা ইউনিভার্সিটি’র সেমিস্টার-ফি দিবেন তবে কিভাবে করবেন।?

খুবই সহজ।

মনে করেন,আপনি ইউনিভার্সিটি’র সেমিস্টার-ফি দিবেন তাহলে আপনি যে কাজটা করবেন,আপনার অফার লেটার বা যে ডকুমেন্টসে ইউনিভার্সিটি’র ব্যাঙ্ক ডিটেলস দেয়া ওই কাগজটি নিয়ে ব্যাঙ্কে যাবেন গিয়ে বলবেন আপনি এই একাউন্টে টাকা পাঠাবেন(যত টাকা আপনার সেমিস্টার-ফি)তখন ওরাই পাঠিয়ে দিবে।পাঠাবার আগে আপনার স্বাক্ষর নিবে এবং তখন অবশ্যই ইউনিভার্সিটি’র ব্যাঙ্ক ডিটেলস আর ইউরোর পরিমান দেখে নিবেন।

আবার মনে করেন যে, আপনার হাতে টাকা নেই এদিকে ব্যাঙ্ক থেকে কার্ড আর পিন আসেনি তাহলে একইভাবে ব্যাঙ্কে যাবেন গিয়ে বলবেন আপনার টাকা দরকার তখন ওরাই করে দিবে বাকি কাজ। তবে আপনি ৬৭০ ইউরো এর বেশি তুলতে পারবেন না একসাথে বা পুরো মাসে।

লিখাটি সম্পূর্ণ আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লিখা ও ২-৩ জন মানুষের কাছ থেকে কিছু তথ্য নিয়ে লিখা। যদি কোনো জায়গায় ভুল কিছু লিখে ফেলি তবে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

ধন্যবাদ। শুভ কামনা রইলো নতুন সবার জন্য।

ছবি সূত্রঃ ইন্টার্নেট


আরো পড়তে পারেনঃ