দেখতে দেখতে ১ বছর হয়ে গেল। মনের  মধ্যে নানা রকম শঙ্কা আর  আকাশ সমান স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলাম নতুন ভাষা, নতুন সংস্কৃতি , অচেনা সব মানুষের এই দেশটাতে। স্বপ্নের কতটা বাস্তব হয়েছে জানি না তবে একটা কথা জোর করে বলতে পারি দেশে থাকতে শুধু সিজিপিএ এর পিছনে দৌড়েছি কিন্তু জার্মানি আসার পর কোন কিছু কে গভীর ভাবে জানার আকাঙ্ক্ষাকে মনের মধ্যে ধারণ করতে পেরেছি।  আজ ঠিক এক বছর পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমারই মতো আকাশ সমান স্বপ্ন নিয়ে আপনারাও যাত্রা করেছেন জার্মানির পথে……।। এখানে আসার পর………………

প্রথম যে স্বপ্ন ভঙ্গের গল্পটা শুনবেন তা হল  “ও তুমি ——– সাবজেক্ট এ পড়তে এসেছ? এই সাবজেক্ট এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  এখনও কোন বাঙ্গালি ডিগ্রি নিয়ে বের হতে পারে নি” আমি এই গল্পটার সাথে তখনও একমত ছিলাম না এখনও না। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যাবস্থা হয়ত এতটা উন্নত না তার মানে এই না যে আমারা বাঙ্গালীরা মেধাহীন। খোঁজ নিয়ে দেখেন আপনার আগে হয়ত কেও ডিগ্রি নেবার চেষ্টাই করেনি তারা শুধু ইউরো  কামানোর চেষ্টা করেছে। সো  আশাহত না হয়ে একটু চেষ্টা করেন দেখবেন ডিগ্রি তো পাবেনই ভাল একটা সিজিপিএ ও পেয়ে গেছেন।

আপনার স্বপ্ন ভঙ্গের দ্বিতীয় ধাপ টা তিন মাস পরেই শুরু হয়…। তিন মাসের ভিসা যখনই ১২০ দিনের  ওয়ার্ক পারমিট সহ স্টুডেন্ট ভিসাতে কনভার্ট হয় আপনি ও তখন স্টুডেন্ট থেকে ৩৬৫ দিনের কামলাতে কনভার্ট হয়ে যান। আর  ইউরোর কামানোর নেশা যার মাঝে একবার  ঢুঁকে ডিগ্রির নেশা তার থেকে ১০০ গজ দূরে সরে যাই। তিন বছর পর হয়ত আপনার হাতে ডিএসএলআর, আইফোন আর ব্যাংকে কিছু ইউরো থাকবে কিন্তু ডিগ্রি থাকবে না। তাই আপনি এই পথে হাঁটবেন না। শুধু থাকা- খাওয়ার খরচের জন্য যতটা কাজ করা লাগে ততটা করেন। ইউরো কামানোর জন্য অনেক সময় পাবেন কিন্তু ডিগ্রি কামানোর জন্য আপনার হাতে সময় মাত্র ৩ বছর।

আপনার  স্বপ্ন ভঙ্গের তৃতীয় কারন টা হচ্ছে কালচারাল ডিসপ্যারাটিজ……।। এখানে এসে অনেকে নতুন কালচার কে মেনে নিতে পারে না। একদিকে নিজের কালচার কে মিস করা অন্য দিকে জার্মান কালচার কে মেনে নিতে না পারা এই দুয়ের মাঝে পড়ে হয়ত আপনার মাঝে হতাশার জন্ম নিতে পারে তাই যত তারাতারি আপনি নতুন কালচারের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন ততো তারাতারি জার্মানি তে বসবাস করার মজাটা অনুভব করবেন। আমি আপনাকে বলছি না ওদের কালচার কে আপনার মাঝে  absorb  করে নেন, নিজের কালচার ধরে রেখে ওদের কালচারের সাথে নিজে কে মানিয়ে নেন।

নিজের আপনজন, পরিবার, দেশ সব ছেড়ে এসে হয়ত আপনার একাকীত্ব  অনুভব হতে পারে তাই যত তারাতারি সম্ভব এখানে আপনার কমিউনিটি তৈরি করেন। বাঙ্গালি কমিউনিটি তো থাকবেই সাথে সাথে বেশি বেশি করে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের সাথে বন্ধুত্ব করেন। যত বশি ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টের সাথে মিশবেন ততো বেশি জানতে পারেবন।

দেশের বাইরে এক একজন বাংলাদেশি এক একটা বাংলাদেশ। আমরা প্রত্যেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি। তাই সবসময় মনে রাখবেন আপনার অর্জন দেশের অর্জন আর আপনার অপকর্ম দেশের লজ্জা। তাই এমন কিছু করবেন না যার জন্য বাংলাদেশকে গালি খেতে হয়।

সর্বোপরি জার্মান আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে জার্মান আইন মেনে চলবেন। এটা আপনার দেশ না যে বেআইনি কাজ করে মামা খালুর জরে পার পেয়ে যাবেন। আইনের গ্যাঁড়া কলে ফেঁসে গেলে কেও বাঁচানর নাই।

‘আপনার জার্মান জীবন সফল ও সুন্দর হোক এই কামনাই জার্মানিতে আপনাকে স্বাগতম’