ভিসা পাবার পর যে কাজগুলো করতে হয় তার মধ্যে অন্যতম একটি হল প্লেনের টিকেট কাটা । তার আগে কেনাকাটা ও করতে হবে। কি কিনবেন আর কি কি জিনিস লাগবে তার জন্য দেখতে পারেন এই ডক

  • জার্মানিতে আসার সময় কি কি জিনিস সাথে করে নিয়ে আসবেন ? http://goo.gl/KAbJI8

এবার আসা যাক প্লেনের টিকেট কাটা নিয়ে। অনেকেই এই বিষয়ে জানতে চান। আবার অনেকেরই প্রশ্ন করেন টিকেটের দামের পার্থক্য হয় কেন?

২ বছর আগের কথা বলি, আমার সাথের ৩ জন ফ্রেন্ড ঢাকা থেকে ফ্রাঙ্কফুটের জন্য টিকেট যথাক্রমে ৬৭হাজার, ৭১ হাজার ও ৮০ হাজার টাকায় কেটেছে। যেটি আমি কিনা ৪৮ হাজার টাকায় কেটেছি। যদিও আমি একসপ্তাহের নোটিশে টিকেট কেটেছিলাম। কিন্তু টিকেটের দামের এরকম পার্থক্য হয় কেন?

জার্মানিতে আসার আগে বিশ্বের প্রথম সারির কয়েকটা আন্তর্জাতিক এনজিওর এডমিনে কাজ করা সৌভাগ্য হয়েছিল, আর সে সুবাদের মিটিং,সেমিনার, কনফারেন্স, ফিল্ড ট্রিপের থেকে শুরু করে সব আয়োজনের জন্য প্রায়ই লোকাল ও ইন্টারন্যাশনাল হোটেল বুকিং, ট্র্যাভেল এরেঞ্জমেন্ট , প্লেন টিকেট কাটতে হত। তাই মোটামুটি এ বিষয়ে নিজের ব্যাক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি। প্ল্যানের টিকেটের ব্যাপারটা অনেকটা ঈদের আগে আমাদের বাস, ট্রেন বা পাব্লিক ট্রান্সপোর্টের মত। দেখা যায় ঈদের দিন যত কাছাকাছি চলে আসে টিকেটের দাম ও তত বাড়তে থাকে ,  ঈদের আগের দিনের টিকেটের দাম যেমন চওড়া হয়, প্ল্যানের টিকেটের দামও অনেকটা তেমন ফ্লাইটের দিন যত কাছাকাছি আসে দাম তত বাড়তে থাকে। তাই আপনি যদি এখন আজকের জন্য বা আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে যে কোন দিনের টিকেটের জন্য এয়ারলাইন্সে বা ট্র্যাভেল এজেন্টে ফোন দেন তা হলে তারা আপনাকে বলবে যে তাদের টিকেট নাই বা থাকলেও সেটা অবশ্যাই চওড়া দামের হবে। আবার ফ্লাই করার দিন যত দেরিতে হবে টিকেটের দামও তত কম হবার সম্ভবনা থাকে। তবে সে সময় কোন স্পেশার ফেস্টিভাল, বা প্রোগ্রাম থাকলেও কিন্তু টিকেটের দাম বেড়ে যায়। তাই এ বিষয়গুলোর খেয়াল রাখতে হবে।

প্লেনের টিকেটের ক্ষেত্রে সাধারনত ২ টা ধাপে হয়ে থাকে,(যদিও আমারা মোটামুটি ভিসা পাবার পরে সরাসরি টিকেট কেটে থাকি ) প্রথমে আপনার নির্ধারিত ফ্লাইয়ের দিন নরমাল বুকিং দেয়া হয়। সে বুকিং এর সময় আপনার ফ্লাইট ডিটেলস , খরচ সহ বিস্তারিত তথ্যের সাথে আপনাকে একটা নিদ্রিস্ট ডেট ও টাইম দেয়া থাকে যে ডেট ও টাইমের মধ্যে আপনার টিকেট কনফার্ম না করলে এয়ারলাইন্স আপনার বুকিং অটোমেটিক বাতিল করে দিবে , সে ডেট ও টাইমের পর আপনাকে নতুন করে বুকিং দিতে হবে সে ক্ষেত্রে টিকেটের দাম অবশ্যই বেড়ে যাবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আপনিতো জানেন না আপনার ভিসা কবে পাবেন বা পাবেন কিনা। সে ক্ষেত্রে এমন হতে পারে, আপনি এম্বেসিতে ভিসা ইন্টারভিও এর পরইতো বুঝতে পারবেন আপনি ভিসা পাবেন কি না। আর আপনার সেমিস্টার করে শুরু হচ্ছে সেটাতো আপনি জানেনই ।

মনে করেন আপনি ভিসা পেয়ে যাবার পর করে ফ্লাই করবেন সেটা মনে মনে ঠিক করে একটা টেমপোরারি ডেটে বুকিং দিতে পারেন। যেখানে আপনাকে একটা নিদ্রিস্ট ডেটের মধ্যে আপনার টিকেট কনফার্মের কথা বলবে। আর সে বুকিংটা অবশ্যই বিনামুল্যে হবে। তার মানে এর জন্য আপনাকে কোন পে করতে হবে না। সে টাইমের মধ্যে যদি আপনি ভিসা না পান তা হলে যে দিন আপনার বুকিং বাতিল হয়ে যাবে সে দিন আবার নতুন করে আর একতা বুকিং দিতে পারেন। আসলে আমরা কি করি ভিসা পাবার পর ইমার্জেন্সিতে টিকেট কাটি যেটা কিনা ৭-১৫ দিন আগে , আর তার জন্য আমাদের মোটামুটি নরমাল প্রাইজের চেয়ে বেশি পে করতে হয়। কখনও কখনো ২/৩ গুনও বেশি হয় । আর ভিসা পাবার পর সময় এত কম থাকে যে সে সময় প্রাইজ নিয়ে চিন্তা করাও যায় না। তাই ভিসা ইন্টারভিও দেবার ২০-২৫ দিন পর কয়েকটা এয়ারলাইন্স আর ট্র্যাভেল এজেন্টে খোজ নিতে পারেন।তাদের সাথে কথা বলে পারলে একটা টেমপোরারি বুকিং দিয়ে রাখতে পারেন , অবশ্যই সেটা ফ্রিতে মানে বুকিং এর জন্য কোন পে না করে।

যেহেতু আমাদের ট্র্যাভেল এজেন্টদের সাথে ভাল একটা রিলেশন ছিল, তাই দেখা যেন অনেক সময় ১ দিনের নোটিশেও টিকেট পেয়ে যেতাম নরমাল প্রাইজেই। যেহেতু আমাদের বেশি ভাগ সময়ই শর্ট নোটিছে প্ল্যানের টিকেট কাটতে হত। এমন ও হয়েছে যে রাত ১১ টার সময় হয়ত পরের দিনের ফিল্ড ভিজিটের একটা ইমার্জেন্সি টিকেটের দরকার পরলে সেই মাঝ রাতেই মোবাইলের মেসেজে টিকেট কাটার সুবিধাও পেতাম।

ট্র্যাভেল এজেন্টরা যেহেতু এয়ারলাইন্স থেকে মাসিক বা বছরে অনেক টিকেট কেনে আর এয়ারলাইন্সের সাথে তাদের স্পেশাল চুক্তি করা থাকে তাই তার এয়ারলাইন্স থেকে কমিশন সহ বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে। এ কারনে দেখা যায় ট্রাভেল এজেন্টদের প্রাইজ অনেক সময় সরাসরি এয়ালাইন্স থেকে কেনা প্রাইজের চেয়ে কম হয়। তার মানে এই নয় যে আপনাকে ট্র্যাভেল এজেন্টের কাছেই যেতে হবে।

আবার ও নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলি, ২০১২ তে ব্রাজিলের রিও সম্মেলনের সময় সারা পৃথিবীর থেকে সম্মেলনে যাবার জন্য সম্মেলনের সময় টিকেট পাওয়া একরকম কঠিন হয়ে পড়েছিল । আর যেহেতু সবাই জানে যে সে সময়তা রাশ হবে তাই ট্র্যাভেল এজেন্টগুলো নিজেদের নামে আগে থেকেই টিকেট বুক করে রাখে যেটা তাদের জন্য এয়ারলাইন্স থেকে এক্সটা ফ্যাসিলিটিস, যেটা ব্যবহার করে তারা রাশ টাইমে বেশি দামে টিকেট বিক্রি করে।  আর তখন টিকেট পাওয়া ও অনেক কস্টের ব্যাপার। আমরা যা করতাম ,যেহেতু আমাদের কয়েকটা ট্র্যাভেল এজেন্টের সাথে কন্ট্রাক্ট ছিল, তাই সবার কাছে টিকেট , ফ্লাইট প্যান আর প্রাইজ চেয়ে মেইল করলাম। যার প্রাইজ, ফ্লাইট প্ল্যান ভালছিল তার কাছ থেকে টিকেট নিলাম। আপনাদের জন্যও একই পরামর্শ, আপনার টিকেট কেনার সময় কয়েকটা এয়ারলাইন্স বা ট্র্যাভেল এজেন্টের কাছে থেকে ফ্লাইট শিডিওল নিন সাথে প্রাইজ, যার বা যে এয়ারলাইন্সেরটা সবচেয়ে ভাল সেটাই কনফার্ম করুন ।

টিকেট কেনার সময় প্রাইজের সাথে সাথে যে জিনিসট অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে তা  হল ট্রানজিট টাইম। যেহেতু বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে সরাসরি কোন ফ্রাইট নেই। যদিও  বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রিসেন্টলি ঢাকা টু ফ্রাঙ্কফুট রুটে  নন স্টপ ফ্লাইট চালু করেছে কিন্তু মাত্র সপ্তাহে ২ টা ফ্লাইট আর বিমানের ফ্লাইট টাইম আর সার্ভিস নিয়ে কোন মন্তব্য বা আইডিয়া আমার নেই। যে কথা বলছিলাম, আপনি অন্য যে কোন এয়ারলাইন্সের টিকেট কাটলে আপনাকে নুন্যতম একটা ট্রান্সজিট নিতে হবে তার মানে আপনাকে যাত্রা বিরতি করতে হবে, এমনকি প্লেন বদলাতে হতে পারে। যেমন এমিরেটস এয়ারে এলে দুবাই, কাতার এয়ারে এলে কাতারের দোহায়, ইত্তিহাদ এয়ারে এলে আবু ধাবিতে, তার্কিশ এয়ারে এলে তুরস্কের আঙ্কারায় আপনাকে ট্রান্সিট নিতেই হবে।  প্রশ্ন হল সে ট্রান্সজিট টাইমট কতক্ষন ? যেহেতু ঢাকা থেকে জার্মানিতে আসতে ননস্টপ প্লেনে মোটামুটি বিমান বাংলাদেশের হিসাবে  ৯ ঘন্টার ৫০ মিনিট বা ১০ ঘন্টা মত সময় লাগবে । তার মাঝে আপনাকে যদি ১২ ঘন্টা ট্রানজিটের এয়ারপোর্টে  বসে থাকতে হয় তাহলে আপনার অবস্তা কি হবে দিন শেষে একবার ভাবুন।  তাই টিকেট কনফার্ম করার আগে অবশ্যই আপনার ফ্লাইট প্ল্যানে ট্রানজিট টাইম দেখে নেবেন ।

আর ও একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, আপনার ফ্লাইট জার্মানিতে কখন ল্যান্ড করবে সেটাও দেখে নেওয়া উচিত , দেখা গেল জার্মানিতে আপনি ভোর রাত ৩ টায় এসে নামলেন , আর সে সময়ে যদি আপনাকে কেউ রিসিভ করতে না আসে আর আপনার প্ল্যান যদি থাকে পাব্লিক ট্রান্সপোর্টে যাবার তা হলে হয়ত সমস্যায় পড়তে হতে পারে। যদিও আপনার নিরাপত্তা জনিত কোন সমস্যা হবে না জার্মানিতে সেটা দিনে বা রাতে যখনই হোক, কিন্তু হয়ত দিনের বেলায় বা রাত ১০-১২ পর্যন্ত আপনি হয়ত পাব্লিক বাস বা ট্রেনে যেতে পারতেন, ছোট ছোট শহরের ক্ষেত্রে ভোর ৩ টায় আপনাকে হয়ত ট্যাক্সি নিতে হবে যেটার খরচ আপনাকে শুধু বেশি না কয়েকগুন বেশি দিতে হবে। আর ভোর রাতে আপনি যেখানে যাবেন সেখানে বা যাদের কাছে যাচ্ছে তাদের জন্য ও অনেকটা বিরক্তিকর হতে পারে।

বলে রাখা ভাল , আপনি  ফ্লাই করার সময় আপনার সাথে কতটুকু ওজনের লাগেজ নিতে পারবেন সেটা ও কিন্তু দেখে নিতে হবে। এয়ারলাইন্স ভেদে সেটা কিন্তু ভিন্ন। আর আপনার টিকেটে বলে দেয়া ওজনের চেয়ে আপনার সাথে নেয়া লাগেজের ওজন বেশি হলে তার জন্য আপনাকে পে করতে হবে তা না হলে এয়ারপোর্টে আপনার জিনিস পত্র থেকে কিছু জিনিস ফেলে আসতে হবে। তাই আপনার টিকেটে কনফার্ম করার সময় আপনি কত কেজি ওজনের জিনিস সাথে করে নিতে পারবেন তা অবশ্যই দেখে নেবেন। তা না হলে এয়ারপোর্টে এসে অনাকাঙ্খিত পরিস্তিতির মুখুমুখি হতে হবে।

অনেক ক্ষেত্রে এয়ার টিকেট নিয়ে আমাদের যথাযথ তথ্য না থাকার কারনে অনেক সময়ই ট্র্যাভেল এজেন্টদের কাছ থেকে প্রতারিত হতে হয়। সে দিকটাও খেয়াল রাখবেন।

উপরের লেখাগুলো সব কয়টাই আমরার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা, আমার মতামতের সাথে আপনার মতের মিল নাও থাকতে পারে। তাই আপনাকে আমার মতামত মানতে হবে এমন কোন কথা নেই।  

Association of the travel agents Bangladesh  ( ATAB) থেকে নেয়া বাংলাদেশে এয়ারলাইন্স অফিসের তালিকা ও তাদের  বিস্তারির ঠিকানা নিচে দেয়া হল। এয়ার টিকেটের জন্য খোজ নিতে পারেন।

***ATAB এর মেম্বার ডিরেক্টরিতে  ঢাকা,  চিটাগাং ও সিলেট জোনের প্রায় হাজার খানেক ট্রাভেল এজেন্টের এড্রেস দেয়া আছে।  নিচের লিঙ্কে গিয়ে সেগুলো দেখে নিতে পারেন –http://atab.org.bd/member.html

***AIRLINES OFFICES IN BANGLADESH দেখুন এখানে –

http://atab.org.bd/2012-11-11-07-13-13/airlines-in-bd.html