আজ ২৫ জুলাই, ২০১৫! Bangladeshi Student and Alumni Association in Germany’র চার বছর হয়ে গেল। (যেদিন হলঃ https://goo.gl/fPOgbZ)

সময় কত দ্রুত চলে যায়। মনে হয় এইতো সেদিন গ্রুপটি শুরু হয়েছিল। Ashif Akhtar ভাই ছিলেন আমাদের প্রথম সদস্য! এরপর Rubaiyat Islam Sadat ভাই! এরপর দেখতে দেখতে আজ এর সদস্য সংখ্যা ৪৬,০০০+ এবং এটি পরিণত হয়েছে জার্মানির বুকে সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি গ্রুপে, সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে জার্মানি এবং বাংলাদেশের মাঝে! তাই এই শুভক্ষণে অভিনন্দন সবাইকে! 🙂

গ্রুপের জন্য পোস্ট লেখা, প্রশ্নের উত্তর করা, তথ্য সংগ্রহ করা, আর্টিকেল লেখা, ওয়েবসাইট(www.GermanProbashe.com) রক্ষণাবেক্ষণ করা, ম্যাগাজিন প্রকাশ করা, বাংলাদেশে সেমিনার করা! কী হয় নি! শুধুমাত্র বাৎসরিক একটা সম্মেলনের দাবি অনেকের! আশা করছি সামনের বছর থেকে তাও করতে পারব আমরা। প্রবাস জীবনের শত ঝড় ঝাঁপটা আর ঝামেলা পাড়ি দিয়ে যারা নিয়মিত আমাদের সাথে, আমাদের মাঝে কাজ করেছেন/করছেন, তাদের ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না। আপনারা না থাকলে এই গ্রুপ/ওয়েবসাইট/অর্গানাইযেশন কক্ষনোই এগোতো না।

এই চলার পথ মসৃণ ছিল না তা বলাই বাহুল্য। কী হয়েছে, কী হতে পারত সেই হিসেব আর কষছি না। কিন্তু একটা কথা ছোট্ট করে বলে যেতে চাই। আমরা যারা এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, ব্যক্তিগত জীবনে আমাদের অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। কোন সাফল্যই কখনো সহজভাবে আসে নি। বিভিন্ন কাজের সাথে সাথে কিছু কঠিন পদক্ষেপও আমাদের নিতে হয়েছে। এই ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনার জন্য এই পোস্ট না। শুধু আমার প্রিয় একজন লেখকের উক্তি দিয়েই ক্ষান্ত হলামঃ “শুধু ভাল ভাল দিক নয়, তাঁদের কোনো অন্ধকার দিক থাকলেও সেটাকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা। এই কাজটা করা হবে কোনো প্রতিহিংসা থেকে নয়, তাঁদেরকে অবমাননা করা বা অপমান করার মানসিকতা থেকে নয়। বরং সত্যকে কঠিন এবং নির্মমভাবে তুলে ধরাটাই হবে মূল উদ্দেশ্য। রবি ঠাকুরের ভাষাতেই, সত্য যে কঠিন, সেই কঠিনরে ভালবাসিলাম।

একথা স্বীকার করে নিতেই হবে গ্রুপ শুরু করার সময় আমার ধারণাতেই ছিল না এটা এত বড় হবে। হাজার হাজার মানুষ উপকার করবে হাজার হাজার মানুষের। কিন্তু তা হয়েছে! আমরা এতে আনন্দে আপ্লূত এবং কৃতজ্ঞ। নিজেদের দুঃখকষ্ট নিমেষেই দূর হয়ে যায় যখন দেখি, একজন ছেলে/মেয়ে এজেন্সি/দালাল থেকে মুক্ত হতে পেরেছে! জার্মানির এক শহর থেকে আরেক শহরে গিয়ে কোথায় থাকবে এটা নিয়ে সমস্যায় পড়ছে না! কিংবা প্রবাস জীবনে নিজের মনের কথা কাউকে বলতে না পেরে ম্যাগাজিনে লিখে নিজের ভাবকে ছড়িয়ে দিচ্ছে হাজার হাজার মানুষের মাঝে! ‪#‎তখন_ভাল্লাগেরে_ভাই_বড্ড_ভাল্লাগে‬! 🙂

শেষ করছি এক সপ্তাহ আগে পাওয়া একটি মেসেজ দিয়েঃ-

“রাসেল,তোমাকে ধন্যবাদ! আমি তোমাকে তুমি করেই বললাম কারন আমি জানি তুমি আমার স্কুলফ্রেন্ড “শুদ্ধ সৌরভের (রাজ শাহী ল্যাবরেটরী (২০০২),বুয়েট এবংআর.ডাব্লিউ.টি.এইচ (আখেন)” ছোটভাই তুল্য। সেই তোমার সম্পর্কে এবং তোমার সৃষ্ট এই অসাধারণ ‘বিসাগ'(গ্রুপঃwww.facebook.com/groups/BSAAG/) সম্পর্কে আমাকে বলেছিল যখন তাকে আমি জার্মানীতে পড়াশোনা বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলাম।

সত্যিই তোমাদের জন্য এবং তোমাদের এই ডেডিকেশনের জন্য অনেক বেশী গর্ববোধ করি যখন দেখি তোমরা কি নিঃস্বার্থভাবেই না দেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর কথা ভেবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছ। Hats off to you guys! রাসেল, আমি Summer ‘ 2016 এ (Kempten University of Applied Science, MEE) আবেদন করেছি, আশা করছি এই মাসের মধ্যেই একটা রেসপন্স পাবো। একটা কথাই বলতে পারি, আমি নিজে খুব ভালো বোধ করবো যদি তোমাদের একাংশের মতো ও কিছু করতে পারি এদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য।

আমি আছি ‘বিসাগের”(গ্রুপঃ www.facebook.com/groups/BSAAG/) সাথে, ইন্ শা আল্লাহ্। আবারো ধন্যবাদ তোমাকে। ভালো থেকো।”

আরো একবার তাই বলতে চাই, সবমসয়ই মনে রাখবেন যে এই গ্রুপ/অর্গানাইযেশন “of the people, by the people, for the people, shall not perish from the Earth!” আপনাদের ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধই এর প্রাণ। এগিয়ে যাওয়ার মূলমন্ত্র!

শুভ কামনা এবং ভালবাসা সবার জন্য।

তবু লিখছি তোমাকে আজঃ লিখছি আত্মম্ভর আশায়