বাংলায় একটা প্রবাদ আছেঃ তুমি যে পাত্রে ভাত খাও, সেই পাত্রে “…” কইরো না। কিন্তু ইদানিং দেখা যাচ্ছে কিছু কিছু মানুষের( অবশ্য যদি ওদের মানুষ বলা যায়) ওই “…” করা পাত্রে ভাত খাওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। আপনারা যারা এক ক্লিকে জার্মানি নিয়ে সব কিছু জেনে যাচ্ছেন গ্রুপ থেকে এবং কাজ শেষ হলে বাহিরে গিয়ে বলেন যে গ্রুপের লোকেরা টাকার জন্য সার্ভিস দেয় ওই সব নিমকহারামি দের উদ্দেশে আমার আজকের এই লিখাঃ

-এখানে এক ঘণ্টা কাজ করলে নুন্নতম ৫ ইউরো- ১৫ ইউরো পাওয়া যায়, কিন্তু দিনের পর দিন, রাতের পর রাত যারা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তারানুর মত কাজ করে আপনাদের জার্মানিআসার পথ সুগম করে দিলো তাদের নিয়ে খারাপ কথা বলতে একটু ও কি বুক কাঁপল না?

-এক লাইন ঠিক মত ইংলিশ বলতে পারেন না, আর পারলে ও খুঁজে খেটে খাওয়ার সামর্থ্য নাই, তারা যখন হাতে মোয়া পাওয়ার মত গ্রুপ থেকে সব ইনফো নিয়ে যাওয়ার সময় বলে যান যে গ্রুপের সবাই টাকার জন্য আপনাদের ইনফো দেয়। ওরে হারামি কয় টাকা দিয়েছিস এই গ্রুপের সবাই কে?

-নিজেদের দালালি ব্যবসার সব ইনফো তো গ্রুপ থেকে ই নিয়ে করেন, ওই লাভের কত টাকা আমাদের দিয়েছেন?

আপনাদের কে বলছি, জী হ্যাঁ আপনাকে ই বলছি, যারা আমাদের নিয়ে খারাপ কথা বলেন তাদের কে ই বলছি। কেন আমরা সবাই কে ইনফো দেই জানতে চান? তাহলে শুনুনঃ

– সবাই আপনাদের মত ধান্ধাবাজ না, অনেকে আছে শুধু মাত্র সঠিক দিক নির্দেশনার জন্য যোগ্যতা থাকার পরে ও আসতে পারে না, তাদের কে আমরা সাহায্য করি, দেশের জন্য করি। ওই ছেলেটি বা মেয়েটি শুধুমাত্র বাঙালি বলে ই আমরা সাহায্য করি, কোন বাড়তি লাভের আসায় করি না আপনার মত( আপনারা তো টয়লেটে গেলে ও নিচে তাকাই থাকেন বেশি করে ফেললেন কিনা!!! )

– দালাল মুক্ত দেশ গড়তে চাই, তাই ইনফো দেই । সবার তো বাবার সুদের বা ঘুষের পয়সা নাই। অনেকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা টাকা যখন দালালরা চোখের পলকে হাতিয়ে নেয়, তা দেখে কষ্ট লাগে, তাই আমরা সাহায্য করি।

-বাসা না পেয়ে হতাশ স্টুডেন্ট কে দেখে আমাদের অস্থির লাগে, তাই আমরা সাহায্য করি।

– নতুন দেশে আসা স্টুডেন্ট টা যখন কি করবে ভেবে দিশেহারা হয়ে পরে, তা দেখে আমরা সাহায্য করি।

-আপনারা যখন এখানে এসে বলেন ভাইয়া/ আপু অনেক বিপদে পরেছি, একটু সাহায্য করেন। আপনাদের বিপদে আমরা বসে থাকতে পারি না বলে সাহায্য করি।

আপনাদের মত আর্থিক লাভের আশায় সাহায্য করলে এতদিনে তাঞ্জিয়া আপি, রাসেল ভাই, আনিস ভাই গুলশানে ১০-১২ টা ফ্লাটের মালিক হয়ে যেত। আর বাকিদের অন্তত ২-৩ টা থাকতো। জার্মানি তে কামলা দিতে/কষ্ট করতে কেউ ই পরে থাকতো না।

বিঃদ্রঃ দুঃখিত রাসেল ভাই, তাঞ্জিয়া আপি, আনিস ভাই। মেজাজ খারাপ। কিছু কিছু পাব্লিক গ্রুপ থেকে সব ইনফো নেয় মাগনা তে, কিন্তু বাহিরে গিয়ে বলে আমরা নাকি টাকার বিনিময়ে ইনফো দেই, নিজেদের লাভের জন্য গ্রুপ চালাই।

বিজ্ঞপ্তিঃ