miju alam

মিজু আলম

এই বছরের শেষ থেকে নাকি আর কোনো হাতে লেখা পাসপোর্ট এর মুল্য থাকবেনা। বিদেশে বসবাসরত এবং বিদেশ গমনকারী সকল বাংলাদেশীদের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এম, আর, পি ) বা যন্ত্র পড়তে পারে পাসপোর্ট এ পরিবর্তন করতে হবে। এম, আর, পি বা যন্ত্র পড়তে পারা পাসপোর্টকে ডিজিটাল পাসপোর্ট ও বলা হয়ে থাকে। ইতিমধ্যে সকল নতুন পাসপোর্ট ধারীদের কে এম,আর,পি দেয়া হচ্ছে, কিন্তু সমস্যা হলো যারা হাতে লেখা পাসপোর্ট নিয়ে বর্তমানে দেশের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করছেন। যারা ভাবছেন আপনার হাতে লেখা পাসপোর্ট খানা বার্লিন দূতাবাস থেকে ডিজিটাল পাসপোর্ট এ রুপান্তরিত করবেন তাদের জন্যই আমার এই অভিজ্ঞতার কাহিনী।

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এম, আর, পি ) বা ডিজিটাল পাসপোর্ট নিসন্দেহে সকল বাংলাদেশীদের জন্য একটা সুখবর। হাতের লেখা পাসপোর্ট নিয়ে নিয়ে ঘুরার সময় শেষ হয়ে আসছে। পাসপোর্ট পর্যবেক্ষণকারীকে ও বিভিন্ন  পৃষ্টায় বিভিন্ন তথ্যে খুজতে হবে না, প্রথম পৃষ্টায় ছবি সহ সমস্ত তথ্যে পেয়ে যাবে। আমরা যারা জার্মানিতে বসবাসরত আছি, তাদের জন্য সুখবর হলো, বার্লিন বাংলাদেশ দূতাবাস নাকি এম, আর, পি মেশিন চলেও আসছে। কিন্তু সম্প্রতি নতুন একটি সমস্যায় নাকি পড়েছেন আমাদের বার্লিন বাংলাদেশ দূতাবাসের মাননীয় কর্মচারী কর্মকর্তা গণ। তারা নাকি এখনো পাসপোর্ট ফি নির্ধারণ করতে পারেন নাই। আমরা আশা করছি অতি দ্রুতই উনারা একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন আর আমরা ডিজিটাল পাসপোর্ট হাতে পাব। ইতিমধ্যে যারা হাতের লেখা পাসপোর্ট টি এম, আর, পি  তে পরিবর্তন করবেন বা নবায়ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের হয়ত আমার লেখাটি উপকারে আসতে পারে।

ঘটনা টি ১৯শে  মার্চ ২০১২ সালের,বার্লিন বাংলাদেশ দূতাবাসে। কাকতালীয় ভাবে তিন বছর পর ২০১৫ সালের ১৯ শে  মার্চ বার্লিন এ ছিলাম, ২০১৫ সালের বাংলাদেশ-ভারত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা দেখছিলাম বন্ধুদের সাথে, আর গল্প হচ্ছিল মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এম, আর, পি ) বা ডিজিটাল পাসপোর্ট এর ব্যাপারে। নাটকীয় ভাবে বাংলাদেশ ভারতের কাছে হেরে গেলেও, ২০১২ সালে বাংলাদেশ দূতাবাসে ঘটে যাওয়া পাসপোর্ট নবায়ন এর খেলায় শেষ পর্যন্ত হারতে হয়নি।

কাহিনীর সুবিধার জন্য আর একটু অতীতে যাওয়া যাক।  ২০১০ সালে কোনো এক দুর্ঘটনায় আমার প্রথম পাসপোর্টটি হারিয়ে যায়, নতুন পাসপোর্ট এর জন্য যখন আবেদন করি, আমাকে জানিয়ে দেয়া হয় কোনভাবেই পাসপোর্ট এর মেয়াদ এক বছর এর বেশি  দেয়া যাবে না।  কারণ জানতে চাইলে বলা হলো  আগামী বছর থেকে ডিজিটাল পাসপোর্ট দেয়া হবে, এই জন্য এখন কোনো পাসপোর্ট এর মেয়াদ এক বছরের বেশি দেয়া হচ্ছেনা ।  আমি তখন মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টার এর ছাত্র, অনেক অনুরোধ করে বললাম – “দেখেন আমার পাসপোর্ট এ ২ বছরের ভিসা দেয়া আছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হতে এখনো এক বছরের বেশি সময় বাকি। এখন আপনারা যদি আমাকে এক বছরের পাসপোর্ট ইস্যু করেন তাহলে আমি এক বছরের বেশি ভিসা পাবনা। আপাতত পাসপোর্ট এর মেয়াদ  তিন বছর অথবা ৫ বছর দেন, আপনারা যখন ডিজিটাল পাসপোর্ট ইস্যু করতে পারবেন আমি পরিবর্তন করে নেব”। শেষ পর্যন্ত আমাকে ২ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট দিতে উনাদের মর্জি হয়. যার বৈধতার মেয়াদ শেষ হয় জুলাই ২০১২ সালে। কিন্তু ভিসা সংক্রান্ত কারণে আমি মার্চ ২০১২ সালে পাসপোর্ট নবায়ন এর জন্য পুনরায় আবেদন করি, যদিও ২০১২ সালে ও কোনো ডিজিটাল পাসপোর্ট ইস্যু করার নাম-গন্ধ পাওয়া যায়নি।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য , একটানা কয়েক মাস দিনের বিভিন্ন সময়ে ওয়েবসাইট এ দেয়া নম্বরে  ফোন করেও আমি কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি। অবশেষে, ৮ই ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে, বাংলাদেশ  দূতাবাসের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া ইমেইল [email protected] বরাবর ইমেইল পাঠাই। কিন্তু এক মাসের ও বেশি সময় অপেক্ষা করে ও কোনো উত্তর পাইনি।  অগত্যা কোনো উপায় না পেয়ে ১৯শে মার্চ সরাসরি বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসে যাই। টাকা ট্রান্সফার এর যামেলা এড়ানোর জন্য আগেই ওয়েবসাইট দেখে পাসপোর্ট নবায়নের নির্ধারিত ফি সহ ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট এর জন্য জরুরি ফি ১৪৫ ইউরো ট্রান্সফার করি। আর সেই টাকা ট্রান্সফার হয়ে যায় যত সমস্যার কারণ।

(চলবে )

#passport renew #BSAAG

এম, আর, পি বা ডিজিটাল পাসপোর্ট করবেন যারা পর্ব ২

প্রবাসী বাংলাদেশীদের MRP পাসপোর্টের সাতকাহন