আজকের গেয়ানের বিষয় হইলো ‘ভিসা ইন্টারভিউ’। এই ইস্যুতে সবার আলাদা আলাদা অভিজ্ঞতা হয় তাই জেনারালাইজড কিছু বলাটা আসলে কঠিন। তো যেটা করা যাইতে পারে আমার নিজের এক্সপেরিয়েন্স আমি শেয়ার করি।

ভিসা ইন্টারভিউ নিয়া সবারই কম-বেশি ভয় কাজ করে কিন্তু এইটা আসলে কিছুই না, একটা ফরমালিটি। ট্রাস্ট মি, ইটস নাথিং বাট আ ফরমালিটি। ভিসা ইন্টারভিউয়ের আসল পার্ট কিন্তু ইন্টারভিউটা না, কাগজ-পত্রগুলা চেক করা ঠিকমতো।

ভোরবেলায় গিয়া লাইনে খাড়াবেন, তারপরে একজন কইরা কইরা আরামে দাড়াও-সোজা হও স্টাইলে চেক কইরা ভিত্রে ঢুকাবে আপনারে। ‘চুলা চাইয়া তাওয়া গরম’ বইলা যে একটা বিষয় আছে, এইটা টের পাবেন ঢুকার পরপর যে দুইজন গার্ড থাকে(একজন মহিলা ছিলো) তাদের আচরণে। কোনো এক অজানা কারণে এরা নিজেদের (প্রায়)ওবামা লেভেলের ইম্পর্টেন্ট ভাবে। তবে যেহেতু আপনে যাচ্ছেন জার্মানি তাই ওবামারে গুনার টাইম নাই(ওবামা কিন্তু মার্কেলরে ভাও দিয়া চলে! মাইন্ড ইট!), এগো ভাব ইগনোর করেন এবং নিজের কাম করেন।

ভিসা এপ্লিকেশনের নতুন নিয়ামাবলী

প্রথমে সব পেপার সিরিয়ালি(সিরিয়াল দেয়া থাকে ঐখানে) সাজায়ে ক্লিপ দিয়ে আটকায়ে জমা দিবেন(রিচেক কইরেন একবার) তারপরে ওয়েটিং রুমে গিয়া অনন্ত প্রতীক্ষা। অনেককে ইন্টারভিউয়ের আগে, অনেককে পরে টাকা পে করতে বলে, যখন বলবে করবেন। এই টাইমে পরিচিত হবেন, গল্প-গুজব করবেন আশে-পাশের লোকজনের সাথে[সুন্দরী(এবং অবিবাহিত) কেউ থাকলে চামে জাইনা নিতে পারেন কই যাচ্ছে, আফটার অল দুইজনই তো জার্মানি যাচ্ছেন ], চুপচাপ বইসা থাকবেন না। বাকিদেরও আপনার মতোই অবস্থা, সো তারাও ইজি হবে। আমি গিয়া রীতিমতো চায়ের দোকানের মতো আড্ডা বসায়ে দিসিলাম, সবাই হাসিমুখে ইন্টারভিউ দিতে গেসিলাম এবং একজন বাদে(সরি ফর হিম) ঐখানকার সবাই ভিসা পাইসিলো। টেনশনের টাইমে লোনলি থাকা কিন্তু উল্টা ফল দেয়, মাইন্ড ইট। বি ইজি।

তো আপনের ডাক আসলে যান ভিতরে। গিয়ে দেখবেন একটা চিপা রুম, তার ‘এই কূলে আমি ঐ কূলে ইন্টারভিউয়ার, মাঝখানে কাচ ঐ বয়ে চলে যায়’ সে আপনাকে কিছু প্রশ্ন করবে কাচের ঐপাশ থেকে, আপনে সেগুলার এ্যান্সার দিবেন এপাশ থেকে, শুনতে না পারলে বলবেন যে শুনতে পাচ্ছেন না(হাতের বামপাশের চিপা রুমের সাউন্ডে কি যেনো সমস্যা আছে, আমি শুনতে পাইসিলাম না দুইবার। এতো জোরে ‘সরি!! ক্যান ইউ প্লিজ রিপিট দ্যা কোয়েশ্চেন’ কইসি যে বেচারা ভয় পাইসে )। নরমালি প্রশ্নগুলা হয়- কই পড়তে যাচ্ছেন, কি পড়তে যাচ্ছেন(অফার লেটারে লেখা কোর্সের নাম), দেশে কই পড়সেন, চাকরি করসেন নাকি, কেন জার্মানি যাচ্ছেন পড়তে, পড়া শেষ হলে কি করবেন, টেকাটুকা কে দিচ্ছে(যাদের ব্লক এ্যাকাউন্ট লাগে), গিয়ে থাকবেন কই ইত্যাদি। ইন্টারভিউ লেংথ ভ্যারি করে; কারো ৩ মিনিট, কারো আবার ১০ মিনিট।

এখন কিছু সাজেশান দেই।

১) দেখেন!! আপনি জার্মান একটা ইউনিতে যোগ্যতাবলে চান্স পাইসেন, আপনার সমস্ত কাগজপত্র ঠিক আছে সো লিগ্যালি আপনাকে আটকানোর কোনো ওয়ে নাই অতএব ভয়ের কিছু নাই। যা প্রশ্ন করবে উত্তর ঠিকমতো দিবেন, তাহলেই হবে। নার্ভাস হওয়া যাবে না।

২) মনে রাখবেন, ইন্টারভিউয়ার যা প্রশ্ন করবে সবগুলার উত্তর আপনি জানেন, দ্যা থিং ইজ, আপনি কিভাবে প্রশ্নটা হ্যান্ডল করতেসেন সেটা। ভয় পাওয়ার কিছু নাই।

৩) এইটা দ্বিতীয় মাস্টার্স হলে প্রথম মাস্টার্সের কাগজ শো করবেন না ইন্টারভিউয়ে, আই রিপিট দ্বিতীয় এমএস করতে গেলে প্রথম এমএস’র পেপার শো করবেন না। মনে রাখবেন ইন্টারভিউ আর ভার্সিটিতে চান্স পাওয়া, দুইটা বিষয় পুরোপুরিই মিচ্যুয়ালি এক্সক্লুসিভ, একটার সাথে আরেকটা রিলেটেড না। দ্বিতীয় মাস্টার্সের জন্য গেল ত্যানা প্যাচায় খুব, আমি যেদিন দিলাম ঐদিন উপমা আপুকে এইজন্য ৩বার ডাকসে ইন্টারভিউ রুমে।

৪) ড্রেসকোড কিছু নাই ইন্টারভিউতে। আমি জিন্সের প্যান্ট আর ইন-ছাড়া শার্টের হাতা গুটায়ে ইন্টারভিউ দিসি, আমার সাথে যারা দিসে সবাই সুট্যেড-বুটেড ফরমালি না গেলে সবাইরে দেইখা নিজের আনইজি লাগতে পারে সো ফরমালি যাওয়া ভালো।

লাস্ট বাট নট দ্যা লিস্ট, জার্মানির আপনাকে দরকার। আপনার মতো এতো কম দামে এতো মেধা ওরা এশিয়া ছাড়া কোথাও থেকে পায় না। সো বি ব্রেভ এ্যান্ড ফেইস দ্যা ইন্টারভিউ নরমালি। ভিসা না দিয়ে যাবে কই?

শুভকামনা

Rafiul Sabbir

ভিসা এপ্লিকেশনের নতুন নিয়ামাবলী