This post is originally written by Imrose Muhit( Doing Ph.D. in Civil Engineering at The University of Newcastle, Australia) vaia. I am just copied his writing here with his permission.

আমি খুব সফল কোন মানুষ নই। তাই Inspirational পোস্ট লিখতে একটু ভয় লাগে। তবে সামনাসামনি কথা হলে উৎসাহ-ব্যঞ্জক অনেক কথাই বলি। যাই হোক, বেশ কয়েকদিন ধরে একটা কিছু লিখা দরকার বোধ করছিলাম। তাই আজ লিখা, তবে এই পোস্টটিতে বিস্তারিত কিছুই থাকছে না, কেবল একটা হাল্কা আলোচনা। আশা করি পরের পোস্টগুলোতে বিস্তারিত থাকবে – যদি আপনারা চান।

চুয়েট এর প্রথম দুই বছরে ঘুণাক্ষরেও স্বপ্ন দেখিনি উচ্চ শিক্ষার। সেটা না হয় মানা গেল, কিন্তু স্বপ্ন ছিল খুবই সাদাসিধে। পাশ করে একটা চাকরি, তারপর আস্তে আস্তে প্রমোশন হলে বেতন বাড়বে, চলে যাবে – এই আর কি। কিন্তু, শুধুমাত্র এই কাজটুক এর জন্য আমি পৃথিবীতে জন্মাইনি – এই উপলব্ধিটুক ভেতরে ছিল। কিন্তু, ভেবে নিয়েছিলাম- এভাবেই সবাই করে, আমিও করবো। এই ভাবনার কারণে, রেজাল্ট যা খারাপ করার ততদিনে করে একাকার। সর্বমোট আট সেমিস্টার এর মাঝে চার সেমিস্টারই তখন শেষ। তখন থেকে হঠাত করে ভাবতে লাগলাম, শুধুমাত্র ৯টা-৫টা চাকুরি দিয়ে আমার পোষাবে না। আমি ভিন্ন কিছু করতে চাই। উচ্চশিক্ষার স্বপ্নটা তখন থেকেই। তবে, পারিপার্শ্বিক সহায়তার ছিল বড় অভাব। কেননা, তখন ফেসবুকে এত গ্রুপ ছিল না, থাকলেও এত জমজমাট আলোচনা ছিল না। এক কথায়, সিনিয়র ভাইয়াদের সাথে কমিউনিকেশন গ্যাপ ছিল মারাত্তক রকমের। আমার এক দূর-সম্পর্কের বোন তখন জাপান এর এক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছিল। বহুকষ্টে উনার মেইল আইডি যোগাড় করে উনাকে মেইল দিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজলাম। উনার উত্তরের পর, আবার ভেঙ্গে পড়লাম! উনি নিরুতসাহিত করেন নি বরং কিছু বাস্তবতার কথা বললেন। উনার কথার সারমর্ম ছিল এই, “Scholarship+Funding পেতে হলে CGPA অবশ্যই যথাসম্ভব ভালো হতে হবে। আর যাদের CGPA এর অবস্থা মোটামুটি তাদের অবশ্যই ভিন্ন কিছু থাকতে হবে যেমন, ভালো GRE Score (For Applying at US), Publications। আর আমাদের দেশে যেহেতু Undergraduate লেভেলে পাব্লিকেশন হয় না বললেই চলে, তাই ভালো সিজিপিএ টাই প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে যদি World Ranking এ ৩৫০ এর ভেতর University তে Scholarship এবং Funding পেতে চাই।”

সত্যি কথা বলতে গেলে, আপুর বলা ঐ ‘মোটামুটি CGPA’ ও তখন আমার নেই, বরং ঐ ‘মোটামুটি CGPA’ অর্জন তখন নিতান্তই অসম্ভব মনে হচ্ছিল। তখন চিন্তা করলাম, Publication এর কাজ করা যায় কিনা কেননা GRE দেয়ার মত ধৈর্য্য এবং সময় আমার হাতে ছিল না। আর আমি চাচ্ছিলাম Undergraduate শেষ করার সাথে সাথেই Masters এ যেতে। এক্ষেত্রে USA আমার জন্য রিস্কি চয়েস হয়ে যায়- কেননা, সবকিছুর প্রিপারেশন নেয়া, তারপর পরীক্ষা দেওয়া, তারপর স্কোর পাঠানো, কনফার্মেশন পাওয়া, ভিসা প্রস্তুতি – সব মিলিয়ে কম করে হলেও এক-দেড় বছরের ধাক্কা B.Sc আর M.Sc এর মাঝে। হতাশা আর হতাশা !!!

ভয়ে ভয়ে পাব্লিকেশন এর কাজ হাতে নিলাম তৃতীয় বর্ষের ১ম সেমিস্টারেই। কিছুই জানি না, কিছুই বুঝি না। কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষকের সাথে কথা বলতে গিয়ে হলাম অপমানিত। CGPA কম হবার কারণে, সহায়তা পেলামতো না – পেলাম একরাশ তিরস্কার। ভাবলাম, আমি বোধহয় এটারই যোগ্য। কোন একজন সিনিয়র কাউকে পাইনি যে বলবে, “তুই পারবি”। কিন্তু, সত্যি কথা, হাল ছাড়িনি কখনো। প্রিয় মানুষ, শাম্মা সবসময় উৎসাহ দিয়েছে। ২০১২ তে Civil Department এর ১ম আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে হল দুইটা পাব্লিকেশন!! এরপর জেদ চেপে গেল আরো। ইতিমধ্যেই আরো কিছু কাজ চলছিল। ২০১৩ এর মার্চেই পেলাম প্রথম আন্তর্জাতিক জার্নালে পাব্লিকেশনের স্বাদ। এরপর গবেষণার কাজ যেন আরো ত্বরান্বিত হচ্ছিল। সাথে সাথে শেষ দুই সেমিস্টারে যতটুক ভালো করা যায় চেষ্টা করলাম। আল্লাহ এর রহমতে হল ও। একেবারে ১ম বা ২য় হয়েছি তা না। কিন্তু যেটা হল, সেই রেজাল্ট টা ছিল এতদিন আমার সাধ্যের বাইরে। যাই হোক, খুব ইচ্ছে ছিল – চুয়েটে পাব্লিকেশন নিয়ে একটা Revolution তৈরী করার। “শুধুমাত্র শিক্ষক না, একজন শিক্ষার্থীও চাইলে Undergraduate Level এ পাব্লিকেশন করতে পারে”- এই বোধটুক জাগ্রত করার জন্য। তাই যে জুনিয়র যখন সহায়তা চেয়েছে, পারি আর না পারি – উৎসাহ দিয়ে গেছি, কেননা ঠিক এই জিনিষটারই অভাব বোধ করেছি আমি। খুবই ভালো লাগে এখন, যখন দেখি ০৯ কিংবা ১০ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা Publication নিয়ে অনেক Interested. তবে কিছু তরুণ শিক্ষক যেমনঃ সজীব স্যার, শরীফ স্যার, রিফাত স্যার, আসিফ (আফতাব) স্যার, ডঃ সাদি স্যার, ডঃ আয়েশা ম্যাডাম প্রচন্ড রকমের উৎসাহ দিয়েছেন আমাকে আজ এই পর্যন্ত আসতে।

আমার B.Sc শেষ হয়েছে ২০১৩ এর নভেম্বরে। তার ঠিক তিন মাসের মাঝে আমি Scholarship+Funding নিয়ে এখন দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অবস্থিত প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় Chung-Ang University তে মাস্টার্স এবং গবেষণার জন্য আসি। তবে এর জন্য করতে হয়েছে অমানুষিক শারীরিক এবং মানসিক পরিশ্রম। তবে আল্লাহ এর রহমতে, আমার ইচ্ছেটাই পূরণ হল। বড় কোন Gap পড়লো না B.Sc আর M.Sc এর মাঝে।

শেষ কথা এই যে, কতটুক Gap পড়লো এটা বড় কথা না, কথা হল কতটুক ইচ্ছে আপনার আছে। ইচ্ছে থাকলে ৫ বছর পরেও আপনি যেতে পারেন আর ইচ্ছা না থাকলে কখনোই না। তীব্র ইচ্ছাই মানুষের অনেক ‘অসম্ভব’ কাজকে সম্ভব করে তোলে। এই বিশ্বাস রাখুন, প্রত্যেকটা মানুষের মাঝেই Potentiality আছে। আপনার মাঝেও আছে। কিন্তু সেটা বিকশিত করার দায়িত্ব আপনার, আপনি আপনার বর্তমান অবস্থা জানেন, জানেন আপনার সীমাবদ্ধতার কথা। তাই পরিকল্পনার দায়িত্ব আপনার। সবার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের রাস্তা এক নয়। আপনারটা কেমন হবে আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে বিশ্বাস রাখুন, আপনি পারবেনই। তবে আমি মনে করি, কোন কিছু পাবার ইচ্ছা থাকলেই হবে না, বরং কিভাবে পেতে হবে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ইচ্ছা থাকতে হবে। আমার মত একজন পেছনের সারির স্টুডেন্ট পারলে, আপনি কেন নয়? আমি নিশ্চিত আপনি আমার চেয়েও এগিয়ে আছেন। একবার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু করুন, সফলতা আসবেই – ইনশাআল্লাহ।

যাই হোক, কথা না বাড়িয়ে চলে যাচ্ছি আজকের আলোচনায়। আমার কাছে সবচেয়ে বেশি যে ব্যাপারটি জানতে চাওয়া হয়েছে তা হল “গবেষণা এবং পাবলিকেশন”। বেশিরভাগ মানুষই জানতে চেয়েছেন- এটি কি? কিভাবে শুরু করব? কিভাবে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবো? কিভাবে পেপার লিখবো? ইত্যাদি। এই ব্যপারটি আসলে খুব কঠিন বিস্তারিত আলোচনা করা, কেননা Civil Engineering এর গবেষণার ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবার যা ধারা, তা কিন্তু দর্শন বা আইন বিষয়ের মত না। তারপরেও আমি চেষ্টা করবো, সমন্বিত একটা ধারণা দিতে। আলোচনার সুবিধার্থে এবং পোস্ট এর সাইজ মাঝারি রাখতে, আমি “গবেষণা এবং পাবলিকেশন” এই বিষয়টি নিয়ে চার/পাঁচ পর্বে আলোচনা করবো। আশা করি, আপনারা সাথে থাকবেন এবং উৎসাহ দিবেন আমাকে।

যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম এবং ২য় বর্ষে আছে, তাদেরকে আমি বলবো “গবেষণা এবং পাবলিকেশন”এর চিন্তা এখন না করে, মনোযোগ দিয়ে আগে নিজের অধ্যয়নের বিষয়টি আয়ত্ত করুন। এরপর দিন যেতে যেতে আপনি বুঝবেন, আপনার আগ্রহ কোথায় বা আপনি কি ধরনের চিন্তা করেন। আর যারা ৩য় বর্ষের ১ম অথবা ২য় সেমিস্টারে আছেন, আমি মনে করি আপনাদের চেষ্টা শুরু করা দরকার। তবে গবেষণা করার আগে যেই ব্যপারগুলো দরকার তা আমি পরিষ্কার করে নিচ্ছি। আপনি যদি এই ব্যপারগুলো আয়ত্ত করতে পারেন অথবা আপনি যদি মনে করেন আপনার এই বিষয়গুলোতে অভ্যস্ত হওয়া সম্ভব তাহলে কাজ শুরু করতে পারেন। কেননা, অনেকেই বিরক্ত হয়ে মাঝপথে ছেড়ে দেয় (যেহেতু আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে গবেষণা সম্পূর্ণই নিজের ইচ্ছাতেই করা)। যে বিষয়গুলো আপনাকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে তা হলঃ

[১] দৃঢ় ইচ্ছা
[২] দৃঢ় ইচ্ছা
[৩] দৃঢ় ইচ্ছা
[৪] পরিশ্রম করার মানসিকতা
[৫] দীর্ঘক্ষন টানা পড়ার অভ্যাস
[৬] ধৈর্য্য
[৭] ধৈর্য্য
[৮] ধৈর্য্য

বুঝতেই পারছেন, দৃঢ় ইচ্ছা এবং ধৈর্য্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিশ্চিত আপনি মনে করছেন, আপনার দুটোই আছে – তাই আমার এই বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা খুব একটা জরুরী বলে আপনার মনে হচ্ছে না। তবে জেনে রাখুন, এই দুটো জিনিষের অভাবেই অনেক গবেষণার কাজই অসমাপ্ত থেকে যায়। আমার নিজেরও প্রথম কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল “ধৈর্য্য” হারানোর কারণে একটা পর্যায়ে। দেখা গিয়েছিল, প্রথম নয় মাস পরিশ্রম করে যে ফলাফল আমি দাড় করালাম তা মোটেও গ্রহনযোগ্য নয়। স্বভাবতই ধৈর্য্য হারিয়ে কাজই বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে দৃঢ় ইচ্ছার বলে আবার শুরু করে মাত্র ২২ দিনেই সফলতা লাভ করি। তার মানে, আমি যদি ধৈর্য্যহারা হয়ে কাজটা বন্ধ করে দিতাম, তাহলে ওখানেই ওইটা শেষ হয়ে যেত। কিন্তু, পরে আর অল্প কিছুদিন পরিশ্রমেই কাজটা হয়েছিল। তাই আবারো বলছি, চরম পর্যায়ের দৃঢ় ইচ্ছা এবং ধৈর্য্য রাখতে হবে। কোনভাবেই যাতে, আপনাকে হতাশা গ্রাস করতে না পারে।

এরপর আসি, কিভাবে শুরু করবেন? দু’ধরনের পেপার পাবলিকেশন পদ্ধতি আছে মূলত – গবেষণাভিত্তিক পেপার এবং রিভিউ পেপার। সত্যি কথা বলে গেলে, গবেষণাভিত্তিক পেপার এর মূল্য অনেক বেশি কেননা, গবেষণাভিত্তিক পেপার করতে হলে আপনাকে অবশ্যই অন্য পেপারও রিভিউ করতে হবে। গবেষণাভিত্তিক পেপার মূলত ল্যাবভিত্তিক ডাটা (ল্যাবে কাজ করে যে ডাটা পাবেন) অথবা ফিল্ডভিত্তিক ডাটা (কোন একটি নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে পাবলিক ইন্টারভিউ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পরিদর্শন এর মাধ্যমে যে ডাটা পাবেন) অথবা ল্যাবভিত্তিক এবং ফিল্ডভিত্তিক ডাটার সমন্বয়ে তৈরি হয়।

আপনাকে এক্ষেত্রে সিধান্ত নিতে হবে, গবেষণাভিত্তিক পেপার করবেন নাকি রিভিউ পেপার করবেন। যদি এই পাবলিকেশনের ক্ষেত্রে আপনি একেবারেই নতুন হোন, তাহলে রিভিউ পেপার দিয়ে শুরু করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে আপনাকে ল্যাবভিত্তিক এবং ফিল্ডভিত্তিক ডাটা নিয়ে খুব একটা ভাবতে হবে না। তবে এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ব্যপার হল, আপনাকে প্রচুর পেপার পড়ার অভ্যাস রাখতে হবে।

সাধারণত, একেবারেই নতুনদের ক্ষেত্রে যে সমস্যাটা হয় তা হল, “সবই তো বুঝলাম! কিন্তু কোন বিষয় নিয়ে কিভাবে শুরু করবো। এপ্রোচটা কেমন হবে টপিক নির্ধারণের ক্ষেত্রে?” এক্ষেত্রে আমার একটা সোজা-সাপ্টা সাজেশন হচ্ছে, যেহেতু আপনাকে কোন প্রফেসর বা কোন সুপারভাইজর গাইড করছে না, তাই আপনাকে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আপনি আপনার প্রিয় বিষয়ের উপর যে কোন একটা ভালো এবং অধিক রেফারেন্স সমৃদ্ধ একটা টেক্সট বই বের করুন। এরপর বই এর সূচিপত্র থেকে আপনার ভালো লাগে এবং জানার আগ্রহ আছে এমন দুই/তিনটা বা চারটি অধ্যায় আলাদা করুন যে অধায়গুলো পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত। এরপর ঐ অধ্যায়গুলো সম্ভব হলে ফটোকপি করে ফেলুন, কেননা “ঐ অধ্যায়গুলো”র উপরে শীঘ্রই আপনি এমন অত্যাচার চালাতে যাচ্ছেন যে পুরো বই নষ্ট হয়ে যাবার আশঙ্কা থাকে। এরপর, ঐ অধ্যায়গুলো খুব মনযোগ সহকারে পড়তে শুরু করুন এবং প্রয়োজনীয় লাইনগুলো দাগাঙ্কিত করুন। রিভিউ পেপার এর ক্ষেত্রে অধিক পড়ার কোন বিকল্প নেই। যত পড়বেন, তত বেশি তথ্য সন্নিবেশ করতে পারবেন। এরপর প্রত্যেকটা অধ্যায় ভালভাবে শেষ করার পর, ঐ অধ্যায়ের শেষে যে রেফারেন্স লিস্ট আছে ঐ লিস্ট ধরে পেপারগুলো সংগ্রহ করতে চেষ্টা করুন। Google Scholar এর মাধ্যমে OAJ (Open Access Journal) গুলোতে আপনি কিছু পেপার পাবেন। কিছু ক্ষেত্রে আপনার কাঙ্খিত পেপার সরাসরি না পেয়ে কাছাকাছি আরেকটা পেপার পেতে পারেন। আমি বলবো, ওইটাও ডাউনলোড করে রাখুন। আর বিশেষ কিছু পেপার (যে গুলো আপনি অনলাইনে বা ডাউনলোড করে পড়তে পারছেন না কিংবা আপনাকে টাকা খরচ করে কিনতে হচ্ছে) ডাউনলোড করার ক্ষেত্রে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর বা সিনিয়র ভাইয়া যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষা নিচ্ছেন বা সম্পন্ন করেছেন, তাদের সহায়তা নিতে পারেন। এরপর পেপার যোগাড় করার পর, ঐ পেপার গুলো পড়া শুরু করে দিন। এই ক্ষেত্রে আমি মনে করি, একেকটা পেপার পড়া শেষ করে দুই পেজের একটা সারমর্ম লিখে ফেলার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। সারমর্ম লিখার ক্ষেত্রে পুরো পেপারটিকে চার ভাগ করে নিয়ে লিখবেন। ভাগগুলো হল, Objective, Method, Results এবং Meaning। এভাবে করে আপনার বইয়ের প্রত্যেক অধ্যায় থেকে ৫/৬ টি করে মোট তিন/চার অধ্যায় থেকে ১৬/১৮ টি পেপারের সারমর্ম যদি আপনি দাড় করাতে পারেন তাহলে আপনার কাজ অনেকটুক সহজ হয়ে যায়, রিভিউ পেপার লেখার ক্ষেত্রে। এরপর আসবে, পেপার লিখার কাজ। সেটা নিয়ে আলোচনা হবে পরবর্তী পোস্ট এ।

গত পর্বে আলোচনা করেছি, কি করে প্রত্যেক অধ্যায় থেকে ৫/৬ টি করে মোট তিন/চার অধ্যায় থেকে ১৬/১৮ টি পেপারের সারমর্ম কিভাবে আপনি দাড় করাবেন। আর এই পর্বে আলোচনা করবো, রিভিউ পেপার কি করে লিখবেন। বিশেষত Introduction অংশ নিয়ে। এই পর্ব বোঝার জন্য আগের পর্ব আপনাকে পড়ে আসতেই হবে। আপনার কাছে তো প্রায় ১৬/১৮ কিংবা তারো বেশি পেপারের সারমর্ম রেডি! চেষ্টা করুন এই সারমর্ম গুলো কয়েকবার পড়তে এতে আস্তে আস্তে আপনার মাথায় গেঁথে যাবে কোন সারমর্মে কোন ব্যপারে আলোচনা করা হয়েছে। এই কাজটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং উপকারীও বটে। কিন্তু, বাস্তবে দেখা যায় এই কাজটা খুব সহজে হয় না। না হোক, হতাশ হবেন না, কেননা এটা আসলে অভিজ্ঞতার উপরে নির্ভর করে। আপনি যেহেতু অত অভিজ্ঞ না সেহেতু যতটুক মনে থাকে তাই যথেষ্ট। দয়া করে ধৈর্য্য হারাবেন না, প্রয়োজনে কিছু শর্ট নোট দিয়ে ট্যাগ করে রাখতে পারেন।

পেপার লিখার ক্ষেত্রে প্রথমে আসে Abstract, কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে এটি সবার শেষে লিখা পছন্দ করি। এর পরে আসছে, Introduction। কি লিখবেন এই অংশে এটা বলার আগে বলে রাখি কি থাকে সাধারণত এই অংশে? কি থাকে, এটার কোন “বাঁধাধরা” নিয়ম এক্কেবারে নেই তবে বেশিরভাগ বড় মাপের গবেষক যেভাবে পেপার লিখেন আমিও সেটা আলোচনা করছি। Introduction এ সাধারণত আপনি যে বিষয়ের উপর পেপার লিখছেন সেটা সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা দেয়ার পাশাপাশি ঐ বিষয়ের Research Background আলোচনা করবেন। এই Research Background সাধারণত Introduction এর ৭০% জুড়ে থাকে। আর এই Research Background কিন্তু আপনার সারমর্ম করা ঐ পেপারগুলোর মাঝে Objective, Method & Results অংশে আছে। কিন্তু যেহেতু এটা রিভিউ পেপার তাই সবটুক Introduction এই লিখে ফেলবেন না। তবে রিভিউ পেপার হোক আর সম্পূর্ণ Experiment & Simulation Based Paper হোক, Introduction লিখার ধরণ কম-বেশি এক থাকে। যদিও একেকজন একেকরকম লিখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। আমি একেবারে আমার মত Amateur Level এ যারা আছেন তাদের জন্য বলছি। যে বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখবেনঃ
[১] বার বার পড়ে সারমর্ম করা পেপারগুলোর মাঝে একটা “সম্পর্ক” তৈরী করার চেষ্টা করুন।
[২] চেষ্টা করুন পরের লাইনের সাথে আগের লাইনের একটা Sequence আনতে।
[৩] সবচেয়ে কঠিন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হলো, এমনভাবে Introduction এ পেপারগুলোর রেফারেন্স দিয়ে তথ্যগুলো সন্নিবেশিত করবেন, যেন পড়ে মনে হয় এটি একটি লাইন (যদিও আপনি এই লাইনটি তৈরী করেছেন ৩/৪ টা পেপার থেকে)। এই প্রসঙ্গে উদাহরণ দেয়া ছাড়া বুঝবেন না, মনে হয়। আমি আমার তিনটা পেপারের (প্রত্যেকটিই International Journal এ পাবলিশ করা হয়েছে এবং আমার Legal Copyright আছে। তাই অনুমতি ছাড়া ব্যবহার নিষেধ!) কয়েকটা লাইন এখানে উদাহরণ হিসেবে দিচ্ছি- যেখানে আপনারা খেয়াল করবেন কোন একটা নির্দিষ্ট বিষয়কে বোঝানোর জন্য আমি কয়েকটা পেপার থেকে কিছু তথ্য নিয়ে এক লাইনে সন্নিবেশ করেছি এবং প্রত্যেকটি তথ্য পরষ্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এছাড়াও পরের যে লাইনটি আছে সেখানে অন্য পেপার থেকে তথ্য নিয়েছি কিন্তু আগের লাইনের সাথে একটা সুস্পষ্ট Sequence আছে। পাশে যে নম্বরগুলো দেয়া আছে এগুলো রেফারেন্স নম্বর। Citation এর বিভিন্ন নিয়ম আছে, এগুলো পরের কোন পোস্টে আলোচনা হবে। এখানে কেবল কিভাবে ৭/৮টি পেপার থেকে একটা ছোট্ট প্যারা বানানো যায় তা দেখানো হল। (আবারো বলছি এটা কঠিন কাজ না, একটু ধৈর্য্য ধরে চেষ্টা করুন, আপনি পারবেন-আমি নিশ্চিত – হতাশ হবেন না!)

উদাহরণ ১- Microalgae are sunlight-driven cell factories that convert carbon dioxide to potential biofuels, foods, feeds and high-value bio-actives [7, 8]. In addition, these photosynthetic microorganisms are useful in bio-remediation applications [9] and as nitrogen fixing bio-fertilizers [10]. Microalgae can provide several different types of renewable biofuels. These include methane produced by anaerobic digestion of the algal biomass [11]; biodiesel derived from micro-algal oil [12, 13] and photo-biologically produced bio-hydrogen [14, 15].

উদাহরণ ২- Research shows that, there is a relationship between the voids of aggregates and shape, texture and grading of aggregates [3]. In rounded, cubical and well graded particles exhibits lower void content than flaky,elongated and angular aggregates. Roundness and angularity are the important characteristics of aggregates.Roundness is the outline of the particle and it may be measured in terms of convexity where angularity indicates the sharpness of the edges and corners [4, 5].

উদাহরণ ৩- According to SAARC Meteorological Research Council (SMRC) studies, sea level rise in Bangladesh duringt he last 22 years is much higher than last 100 years global trend [13]. But this sea level rise rate is not only due to the climate change it is also due to subsidence of the delta [14]. Actually most of the sea level rise in Bangladesh is due to subsidence of land [15]. But the contribution of sea level rise due to climate change in this region is non-negligible. Three different stations in different locations show different sea-level raises in Bangladesh such as; 7.88 mm, 6 mm and 4 mm [16].Global sea-level rise during the last century’s 1-2 mm per year which is lower than Bangladesh rate [17]

আশা করি এবার বুঝতে পেরেছেন কিভাবে সন্নিবেশ করতে হবে। এক্ষেত্রে একটি কথা বলে রাখা ভালো, আপনি তখনই খুভ ভালো করে সন্নিবেশ করতে পারবেন যখন আপনি মনে করতে পারবেন, আপনার সারমর্ম করা পেপারগুলোর কোথায় কি তথ্য আছে। এজন্য আমি শুরু থেকেই বলছি বারবার পেপারগুলো পড়ে ধারনা নিয়ে ফেলুন কোন পেপারে কি তথ্য আছে।

উদাহরণ ১ এ খেয়াল করুন ৯টি রেফারেন্স দিয়ে চারটি লাইন লিখা হয়েছে যারা পরষ্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং আগের লাইনের সাথে পরের লাইনের রয়েছে সামঞ্জস্য। একইভাবে উদাহরণ ২ এবং ৩ এও দেখুন কি করে অনেকগুলো তথ্য একসাথে সন্নিবেশ করা হয়েছে।

Introduction এর শেষের দিকে অনেকে ‘এই পেপার লিখার মূল উদ্দেশ্য’, ‘এই গবেষণা চালানোর মূল কারণ’, ‘এই পেপার থেকে কি সিদ্ধান্ত দিতে যাচ্ছি’ এমন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। আবার কেউ কেউ “Objective of the Study” অথবা “Aim of this Study” শিরোনামে আলাদা কিছু প্যারা করেন সেখানেও লিখেন। রিভিউ পেপারের ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই কোন একটা নির্দিষ্ট বিষয় ফোকাস করতে হবে এবং ঐটির Background Study/Literature Review পুরো পেপার জুড়ে বেশ ভালোভাবেই আনতে হবে। তবে একটা সাজেশন অবশ্যই দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। অর্থাৎ আপনাকে আগে ক্লিয়ার হতে হবে, আপনার এই রিভিউ পেপারটা থেকে আসলে কি জানা যাবে? কোন সিদ্ধান্তে কি পৌঁছানো যাবে? এসব বিষয় নিয়েই Objective of the Study কাভার করবেন।

এরপর আসবে Main Body এর কাজ। এটি আলোচনা করবো সামনের পর্বে। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন। আপনাদের যে কোন প্রশ্ন থাকলে আমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। তবে উত্তর দিতে একটু দেরি হলে দয়া করে রাগ করবেন না। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করি সবাইকে সহযোগিতা করতে – এই ব্যপারটা আপনাদের একটু বুঝতে হবে। কেননা আমার চেয়ে বয়সে বড় কারো রিপ্লাই দিতে দেরি হওয়াতে আমি কিন্তু অনেক Personal Attack এ
কথা না বাড়িয়ে শুরু করে দিচ্ছি। যারা নিয়মিত এই পোস্ট পড়ছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আসলে এসব ব্যপারে লিখা তেমন একটা সহজ না, যদিও আমার আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে “একেবারে শরবত বানিয়ে খাইয়ে দেয়ার” !!! আরেকটা কথা বলে রাখি, এই বিষয়ে আসলে মোট কতটা পর্ব থাকবে আমি ঠিক এখনই বলতে পারছিনা, তবে যতবেশি ব্যাখ্যা করে বলা যায় আমি বলবো। গত পর্বে Introduction নিয়ে বলেছিলাম। আজকের পর্বেও কিছু অংশ থাকছে, Introduction নিয়ে। তবে গত পর্বের মত অত বিশদ আকারে না, শুধুমাত্র কিছু টিপস দিবো। সাথে থাকছে Materials and Methods কিভাবে লিখবেন তার সম্পর্কে কিছু আইডিয়া।

একটা ব্যপার একটু ভাবুনতো, কেন আসলে Introduction লেখা হয়? একলাইনে বলতে গেলে, The purpose of the Introduction is to stimulate the reader’s interest and to provide pertinent background information necessary to understand the rest of the paper. Introduction সাধারণত ৩০০-৫০০ শব্দের ভিতরেই হয় তবে এটা নির্ভর করে যে জার্নালে আপনি পেপার জমা দিবেন তার উপর এবং আপনার বিষয়বস্তুর উপর।

আমি ১০টি ধাপে কি করে একটা Introduction কে ডেভেলপ করবেন তার সম্পর্কে একটু আইডিয়া দিচ্ছি। কিছু মনে না করলে সহজ ইংরেজিতে লিখছি, আশা করি সবাই বুঝবেন। আর যদি প্রশ্ন থাকে, কমেন্ট সেকশনে জানাতে পারেন।

1. Begin the Introduction by providing a concise background account of the problem studied.
2. State the objective of the investigation. Your research objective is the most important part of the introduction.
3. Establish the significance of your work: Why was there a need to conduct the study?
4. Introduce the reader to the pertinent (প্রাসঙ্গিক) literature. Do not give a full history of the topic. Only quote previous work having direct bearing on the present problem.
5. Clearly state your hypothesis, the variables investigated, and concisely summarize the methods used.
6. Define any abbreviations or specialized terms.
7. Provide a concise discussion of the results and findings of other studies so the reader understands the big picture.
8. Describe some of the major findings presented in your manuscript and explain how they contribute to the larger field of research.
9. State the principal conclusions derived from your results.
10. Identify any questions left unanswered and any new questions generated by your study.

উপরের প্রত্যেকটি যদি আপনি অনুসরণ করতে পারেন, নিঃসন্দেহে ভালো একটা Introduction তৈরী হবে। আপনি Introduction লেখার সময় এই ১০টা পয়েন্ট পড়বেন বারবার আর Introduction লিখতে থাকবেন, এর ফলে আপনার লেখার মাঝে উপরের বিষয়গুলো দেখবেন চলে এসেছে। তবে প্রত্যেকটা পয়েন্ট আনতে না পারলেও সমস্যা নেই, চেষ্টা করবেন যত বেশি আনা যায়, এই আর কি। কেননা, আমি নিজেও মাঝে মাঝে সব আনতে পারি না 😛
তবে যে ব্যপারটা মাথায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, আপনি কি কাজ করেছিলেন বা কি ফলাফল পেয়েছেন ঐ আলোচনা লিখবেন Past Tense এ, এছাড়া পুরো Introduction অবশ্যই Present Tense এ লিখবেন।

Introduction নিয়ে পেঁচানো শেষ !!!

এবার আসি, Materials and Methods কি করে লিখবেন। Materials and Methods সেকশনে আপনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা করবেন, কিভাবে আপনি কাজ করেছেন, কেননা এতে (১) পেপার পাঠক বুঝতে পারবেন আপনি কি করে এগিয়েছেন (২) পরবর্তীতে অন্য কেউ একই ধরনের কাজ করতে চাইলে আপনার পেপারকে রেফারেন্স ধরে Replicate করতে পারবে।
আপনি ঠিক যা যা করেছেন তা এখানে লিখবেন। অর্থাৎ – What and How experiments were run, What, How much, How often, Where, When, and Why equipment and materials were used. এটা এত বিশদ লেখার উদ্দেশ্য হলো, আপনার findings গুলোকে ভেরিফাই করানো এবং যাতে পরবর্তীতে আপনার কাজটাকে Replicate করানো যায় (বলাতো যায় না, আপনি হয়তো বিশাল কিছু করে ফেললেন, তখন সারা বিশ্বে ঐ কাজটা করতে চাচ্ছে বড় বড় প্রফেসররা 😛 দুষ্টোমি করে বললেও এটা কিন্তু সত্যি!)। তাই বলে ইয়া বড় এক Materials and Methods সেকশন লিখবেন না !! আপনাকে “সংক্ষেপণ” এবং “সম্পূর্ণতা” এর মধ্যে ভারসাম্য করতে হবে। অর্থাৎ, আপনি প্রত্যেকটা টেকনিক্যাল ইস্যু যেমন আলোচনা করবেন না তেমনি আবার আপনাকে পর্যাপ্ত তথ্য দিতে হবে যাতে পাঠক বুঝতে পারে, “আপনি আসলে কিভাবে করেছেন”।

এবার চলে যাই, ডাইরেক্ট একশনে !! ১২টি ধাপে কি করে Materials and Methods লিখবেন।

1. Order your procedures chronologically or by type of procedure and then chronologically within type of procedure using sub-headings, where appropriate, to clarify what you did. It is up to you to decide what order of presentation will make the most sense to your reader.
2. Use the past tense and the third person to describe what you did. For example: “The sample was incubated at 37ºC for 3 days.” – NOT: “I incubate the sample at 37ºC for 3 days.”
3. Describe your experimental design clearly, including the hypotheses you tested, variables measured, how many replicates you had, controls, treatments, etc.
4. Explain why each procedure was done. Reference may be made to a published paper as an alternative to describing a lengthy procedure.
5. Identify the source of any specific type of equipment, a specific enzyme, organism, or a culture from a particular supplier, which is critical to the success of the experiment.
6. Describe in detail any modifications to equipment or equipment constructed specifically for the study and, if pertinent, provide illustrations of the modifications.
7. Precisely quantify measurements (all metric) and include errors of measurement.
8. Describe the dates and the site where your field study was conducted including physical and biological characteristics of the site, if pertinent to the study’s objectives.
9. Identify treatments using the variable or treatment name, rather than an ambiguous, generic name or number (e.g., use “healthy donors” rather than “group 1”).
10. If required by the journal, mention the approval for the study by the relevant ethics committee(s) and the informed consent of the subjects.
11. Describe statistical tests and the comparisons made; ordinary statistical methods should be used without comment; advanced or unusual methods may require a literature citation.
12. Show your Materials and Methods section to a colleague and ask whether they would have difficulty in repeating your study.

আপনাকে প্রত্যেকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে এমনটা মোটেও না। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আপনি আপনার ধাপগুলো অনুসরণ করবেন – এই। তবে একটা কথা, দয়া করে অপ্রয়োজনীয় তথ্য দিবেন না, যেমন- কি রঙের বক্স ব্যবহার করেছেন !! মাথায় রাখবেন, এখানে ফলাফল লিখে ফেলবেন না !! শেষে একটা “চোরা বুদ্ধি (!!)” শিখিয়ে দেই। খুব বেশি ব্যাখ্যা করে ফেলবেন না এই সেকশনে, কিছুটা Discussion অংশের জন্য বাঁচিয়ে রাখুন।

আজ এই পর্যন্ত। পরবর্তী পোস্ট পড়ার আমন্ত্রন রইলো। পোস্ট লিখতে আর প্রকাশ করতে একটু দেরি হয়ে যায় আমি জানি – এজন্য আমি দুঃখিত। আমাকে আসলে অনেকগুলো প্রেক্ষাগৃহে (ফেসবুক গ্রুপে) একসাথে ছবি (পোস্ট) মুক্তি (প্রকাশ) দিতে হয় , তাই একটু দেরি হয় তাছাড়া নিজের তো ব্যস্ত জীবন আছেই। তারপরেও আপনাদের যাতে উপকারে আসে তার জন্য চেষ্টা। আপনাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা, দোয়া আর শুভকামনা চাই। অনেক ভালো থাকুন।

ঠিক আগের পর্বে (পর্ব ৩) আলোচনা করেছিলাম কি করে Introduction এবং Materials & Methods লিখবেন। আশা করি বুঝতে পেরেছিলেন। এরপরেও কোন প্রশ্ন থাকলে পর্ব ৩ এর কমেন্টস সেকশনে জানতে চাইতে পারেন। আজকে প্রথমেই আলোচনা করবো কি করে কার্যকরি Tables and Figures তৈরি করবেন এবং তার সাথে সম্পর্কিত কিছু টিপস! এরপরে আলোচনা করবো Results অংশটুক কি করে লিখবেন এবং ডেভেলপ করবেন।

এই Tables and Figures এত বেশি গুরুত্বুপূর্ণ যে, এগুলোই আপনার পেপারের সামগ্রিক কাজটাকে প্রতিফলিত করে। কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করে কেন Tables ব্যবহার করতে হবে? আমি এক বাক্যে বলি, Tables are used to make an article more readable by removing numeric data from the text। আর Figures কেন? আপনি যখন কোন একটা ছেলে বা মেয়ের প্রেমে পড়েন তখন কিন্তু সে দেখতে কেমন এটা একটু হলেও প্রাধান্য পায় (তার মানে সে সবার কাছে সুন্দর নাও হতে পারে কিন্তু আপনার কাছে নিশ্চয় অনেক সুন্দর)। ঠিক পেপারের ক্ষেত্রেওFigures এর প্রয়োজনীয়তা কে আমি এভাবে দেখি, Figures provide visual impact and therefore they are often the best way to communicatethe primary finding। পরিস্থিতি অনুযায়ী এই টেবল এবং ফিগার গুলো পেপারের যে কোন সেকশনে আসতে পারে অর্থাৎ, Materials & Methods এও আসতে পারে কিংবা আসতে পারে Results অথবা Discusions এও। এইটা নির্ভর করবে কোথায় প্রয়োজন তার উপর। Tables and Figures এর ব্যপারে খুবি সাবধান থাকা উচিত কেননা যে কোন একজন পাঠক Abstract পড়া শেষ করে আগে Tables and Figures গুলো দেখে কাজ সম্পর্কে ধারণা নিতে চেষ্টা করেন, যেটা আমি-আপনিও করি কিন্তু। আপনার ডাটাগুলো কিভাবে পেপারে সাজাবেন তা পেপার (Manuscript) এর প্রথম ড্রাফট লেখার আগেই প্ল্যান করে নেয়া উচিত বলে আমার মনে হয়। এর ফলে যে সুবিধাটা আপনি পাবেন তা হল, আপনার পুরো কাজটি ঠিক আছে কিনা, আরো কিছু ডাটা নেয়ার প্রয়োজন আছে কিনা, আপনার কাছে যে ডাটাগুলো আছে সেগুলো আপনার সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিতে পারছে কিনা এবং সবশেষে কোন ডাটা বাদ পরলো কিনা। কি করে প্রথম ড্রাফট লিখতে হয় Manuscript এর, সেই ব্যপারেও একটা নোট লিখবো কেননা আরো অনেক নির্দিষ্ট বিষয়ে লেখার জন্য আপনাদের অনুরোধ পেয়েছি ইনবক্সে। যাই হোক, Tables and Figures তৈরি করার জন্য কিছু টিপস শেয়ার করি আপনাদের সাথে।

[১] কোন ফলাফলগুলো আপনি উপস্থাপন করতে চান, কোন ডাটাগুলো আপনি প্যারাগ্রাফ আকারে লিখবেন আর কোন ডাটাগুলোকে ছকাকারে লিখবেন আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলুন।
[২] এই ক্ষেত্রে যে ডাটাগুলোকে আপনার মনে হয় যে প্যারাগ্রাফ আকারে লিখলে পরিষ্কারভাবে এবং সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যাবে না সেগুলোকেই কেবল ছকাকারে (টেবল) লিখু্ন।
[৩] আপনার কাজের সাথে তেমন একটা সম্পর্কিত না, এমন কিছু ভুলেও ছকাকারে লিখবেন না।
[৪] প্রত্যেকটা ছক এবং ফিগার এমন হবে যেন, সেগুলো দেখে কিংবা পড়েই যাতে বোঝা যায়- যার জন্য প্যারাগ্রাফ পড়ার প্রয়োজন যাতে না হয়।
[৫] আপনার প্যারাগ্রাফে আলোচনা করার সময় ফিগার এবং ছক এর কথাগুলো যে ক্রমানুসারে এসেছে ঠিক সেই ক্রমানুসারেই প্রত্যেকটা ছক এবং ফিগারকে নাম্বার দিন। যেমনঃ Figure 1, 2, …. Table 1, 2, … তবে মাথায় রাখবেন ফিগার এবং ছকের নাম্বারিং ক্রম বিন্যাস আলাদা হবে অর্থাৎ ধরুন প্রথমে একটি ফিগার দিলেন যার নাম্বার ১, পরে আসলো আরেকটি ছক। ছকটিকে নাম্বার দিবেন ১ কোনভাবেই ২ নয়। পরে আবার ফিগার আসলে যেই ফিগারের নাম্বার হবে ২।
[৬] সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার হল, এমনভাবে যাতে ছক এবং ফিগার গুলো ক্রমানুসারে আসে, তাতে পুরো ব্যপারটি একটি গল্প বলতে পারে আপনার কাজের।
[৭] আপনার প্যারাগ্রাফের মধ্যে যাতে প্রত্যেকটা ফিগার এবং ছকের কথা আসে – এই ব্যপারটি মাথায় রাখবেন।
[৮] আপনি যদি ইতিমধ্যেই পাবলিশ হয়ে গেছে এমন কোন পেপার থেকে কোন ফিগার এবং ছক ব্যবহার করতে চান তাহলে অবশ্যই Copyright Holder (সাধারণত Publisher) থেকে অনুমতি নিবেন।

কি বুঝলেন? খুব কঠিন অথবা থিওরেটিকেল হয়ে গেল? আমি আপনাদের আগেই বলেছি সবগুলো টিপস সব সময় প্রযোজ্য না। তবে চেষ্টা করবেন যত বেশি আপনি অনুসরণ করতে পারবেন। তবে বিশ্বাস রাখুন, প্রথম পেপারের কাজ হলে আপনার হয়তো এসব বিষয়ে অভ্যস্ত হতে একটু সময় লাগবে। পরে দেখবেন এটা আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। শেষ কিছু কথা দিয়ে Tables and Figures এর আলোচনা শেষ করছি। Tables এর ক্ষেত্রে Column Headings এবং Table Notes ঠিকভাবে লিখবেন যাতে পুরো টেবলটি সহজেই বঝা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, প্রত্যেকটি column এর অর্থ বোঝা যেতে হবে যাতে আপনার প্যারাগ্রাফ (text) এর মধ্যে রেফারেন্স না দেয়া হলেও। আর Figures এর ক্ষেত্রে গ্রাফ আঁকার সময় Label each axis including units of measurement and clearly identify the data you are displaying (e.g. label each line in a graph)। Graph আঁকার জন্য Microsoft Office – Excel তো আছেই, তবে DPlot নামে একটা সফটওয়্যার আছে, ব্যবহার করতে পারেন – অনেক সুন্দর গ্রাফ আঁকা যায়। Figures গুলো যাতে high image quality with minimal pixelization হয় এটি লক্ষ্য রাখবেন। খুব কমন figure format গুলো ব্যবহারের চেষ্টা করবেন, যেমনঃ JPEG/JFIF, PNG এসব।

এইবার আসি, Results অংশটুকু কি করে লিখবেন। যদিও অনেকে Results and Discusions একসাথে লিখে থাকেন। তবে আমি মনে করি, Results এবং Discusions একসাথে না লেখাই ভালো, যদি না একমাত্র যে জার্নালে আপনি জমা দিবেন সেই জার্নাল থেকে এটাকে একসাথে লিখতে না বলে। আমি Discusions কেমনে লিখবেন সেই ব্যপারেও আলোচনা করবো, তবে আলাদাভাবে।
আপনি যে ফলাফল লিখতে যাবেন, তার জন্য অবশ্যিই গ্রহনযোগ্য মেথড আপনি Methods সেকশনে আলোচনা করে এসেছেন। এখন শুধু লেখা শুরু করার আগে একটি মাত্র গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা হল, আপনি এই Results অংশে এমনভাবে Tables and Figures গুলোকে আনুন, যাতে এগুলো আপনার কাজ সম্পর্কে একটি সুবিন্যস্ত গল্প বলতে পারে। কিছু টিপস দেই এইবার।

[১] আপনার কাজের সাথে প্রাসঙ্গিক, যে ফলাফলগুলো উপস্থাপন করলে আপনার কাজ সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যাবে শুধু সেগুলোই এখানে লিখবেন। কেননা, আপনার প্রাপ্ত সব ডাটা Results অংশে লিখতে হবে এমনটা ভাবা ভুল।
[২] ডাটা গুলোকে এমনভাবে সাজাবেন যাতে Methods এর chronological order অনুযায়ী হয় অথবা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ এই অর্ডারে হয়।
[৩] Results অংশ লিখতে গিয়ে আপনার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত যেটি নিতে হবে তা হল, কোনগুলো আপনি প্যারাগ্রাফ (text) আকারে লিখবেন আর কোনগুলো figures, graphs, অথবা tables আকারে দিবেন।
[৪] আপনার findings এবং point গুলোকে summarize করে লিখুন যাতে শুধুমাত্র প্রাসঙ্গিক ডাটা থাকে text, figures এবং/অথবা tables এ। একি ডাটা যাতে বারবার না আসে – এই ব্যপারটি মাথায় রাখবেন। Stanford University, CA, United States এর Professor Dr. Sarah Billington এর সাথে পেপার লেখা নিয়ে যখন গল্প করছিলাম, তখন উনি একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিলেন। তিনি বললেন, যে ডাটাগুলো গ্রাফে দেখানো হয়েছে তা ছকাকারে লেখা অপ্রয়োজনীয়। আবার যেগুলো ছকে দেখানো হয়েছে সেগুলো গ্রাফে দেখানোর দরকার নেই, তবে গ্রাফ ব্যবহার করায় ভাল। যদিও অনেক গবেষকই অনেক সময় উভয়েই ব্যবহার করেন, তারপরেও শেখার তো শেষ নেই।
[৫] কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোন গ্রাফ বা ছবিকে বিস্তারিত বর্ণণা করতে পারেন এই অংশে, তবে প্লিজ চর্বিত চর্বন করবেন না।
[৬] পুরো manuscript জুড়েই ডাটা গুলো সঠিক এবং consistent আছে – এই ব্যপারটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ধরুন, প্যারাগ্রাফ (text) এ লিখলেন Pressure-Impulse ratio 1.5, কিন্তু ঠিক ঐ বিষয়ের ডাটা দিতে গিয়ে ছকে ভুলে লিখে ফেললেন Pressure-Impulse ratio 0.5 !! এই ভুলগুলো আপাত দৃষ্টিতে ছোট্ট , কিন্তু মারাত্মক ইমেজ নষ্ট হয় পেপারের কেননা এতে Reviewer সন্দেহ করতে পারে। আর Reviewer এর মনে একবার সন্দেহ ঢুকে গেলে খুব নামি দামি জার্নালে পেপার পাবলিশ করানো খুবই কঠিন হয়ে পরে, কেননা Reviewer তখন নানা ভুল খুঁজে বেড়ায়।
[৭] যখন results লিখবেন প্যারা আকারে তখন অবশ্যই past tense ব্যবহার করবেন।
[৮] প্রত্যেকটা figure এবং table এর একটা প্রাসঙ্গিক heading (নাম) দিন।
[৯] আলোচনার সুবিধার্থে Results অংশকে আপনি কয়েকভাগে ভগ করে নিবেন ৪/৫ টি Sub-headings দিয়ে। এই কাজটা আমি প্রায়ই করি, এতে আপনার পেপারের আউটলুকটি অনেক স্মার্ট হয় !

যাই হোক, থিওরেটিকেল কথা অনেক বললাম। ছোট্ট একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছি [শুধুমাত্র প্যারাগ্রাফ (text) এর]।
[বিনা অনুমতিতে নিচের প্যারাগ্রাফ থেকে আংশিক/পুরো তথ্য ব্যবহার করা আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। Association of Civil and Environmental Engineers (ACEE) থেকে ০৫/১১/২০১৩ তারিখে আমার নামে (I. B. Muhit) Legal Copyright আছে]

5. RESULTS
5.2 Effects on Water Permeability of High Performance Concrete
The water permeability (maximum penetrated water depth) of concrete for SF study group (for different replacement levels of OPC with silica fume) and for FA study group (for different replacement levels of OPC with fly ash) is represented at Fig. 1 and 2 respectively. From Fig. 1 it is very clear that very low penetration of water is allowed in SF-V type specimen where 10% OPC was replaced with silica fume. Without any silica fume, the penetration depth was 28mm and with 10% silica fume it was 11mm, which shows that, more than 60% reduction of water penetration can be achieved by mixing 10% silica fume. Silica fume contains fine size particles which fill the little spaces between the cement particles and it results denser concrete than the concrete without silica fume. Consequently, optimum dosage of silica fume decreases the permeability significantly but excessive silica fume can’t.

আশা করি, বুঝতে পেরেছেন কি করে লিখতে হবে। অনেক সময় লাগলো এই একটি লেখা লিখতেই (:P), যদি আপনাদের লাজে লাগে তাহলেই হল। কি করে পেপারের Central Message এর উপর ফোকাস করা যায়, কি করে প্রথম ড্রাফট লিখতে হয়, কি করে একটি Effective Outline দাঁড় করানো যায়, জার্নাল কিভাবে পছন্দ করবেন, Impact Factor কি, সাবমিশন চেকলিস্ট, Responding to Reviewers, কি করে পেপার প্রমোট করা যায়, ইত্যাদি নিয়ে ক্রমাগত ইনবক্সে মেসেজ পাচ্ছি। ধন্যবাদ আপনাদের আমাকে আইডিয়া দেয়ার জন্য। একটু সময় দিন, আমি প্রত্যেকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। আমার জন্য দোয়া করবেন। সবাই ভালো থাকবেন, আপনাদের কেমন লেগেছে জানাবেন সাথে সাথে অন্যদের কাছে শেয়ার করবেন।