আসুন ব্যর্থ মানুষদের গল্প শুনাই। একসময় উচ্চশিক্ষায় অষ্ট্রেলিয়া নিয়ে অনেক লেখালেখি করতাম ।এইসময় অনেকে যোগাযোগ করতো। যা হোক, পরবর্তীতে ব্যক্তিগত কারণে লেখালেখি করা বাদ দিয়ে দি । কিন্তু আজ আর না লিখে পারলাম না। শুনুন কিছু গল্প –

গল্প -১: ছেলেটি আমার জুনিয়র ছিল । কিন্তু উচ্চশিক্ষায় তার যাওয়ার ইচ্ছা ছিল অদম্য। কিন্তু কোন কারনে তার হচ্ছিল না । চুয়েটে টিচার হওয়ারও কথা ছিল। কিন্তু তাতেও সে ব্যর্থ । জিআরইতেও ভাল স্কোর। কিন্তু কোন কারনে তার চুয়েটের কারিকুলাম abroad এর কারিকুলামের সাথে মিলছিলো না বলে মোটামুটি সে প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রিজেক্ট খেত। যা হোক সেই ছেলেটির আজ কোথায় ? সে এখন University of British Columbia (UBC), কানাডা এর একজন postgraduate স্টুডেন্ট।

গল্প-২: চুয়েটের একজন বড় ভাই । কোরিয়াতে মাস্টার্স করা । অষ্ট্রেলিয়ার মোটামুটি সব ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ের     প্রফেসরকে উনার Knock দেওয়া। একের পর এক রিজেক্টশন। সেই রিজেক্টশনের হতাশার নীরব সাক্ষী মনে হয় আমি । ব্যাচেলরের সিজেপিএ ৩.০০ এর নিচে যতদূর মনে হয়। কিন্তু থেমে থাকে নি উনার অধ্যবসায়। আজ উনি RMIT, Australia এর পোষ্টগ্রাজুয়েট Researcher ।

গল্প-৩: এই গল্পের সাথে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে মানুষটির গল্প বলবো সে আমার আপন বড় ভাই । নূন্যতম সাদামাটা টাইপের রেজাল্ট। নোবিপ্রবি থেকে ব্যাচেলর, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যাষ্টার্স । সেই ম্যাষ্টার্সের আবার মাত্র ৪০% গবেষণা। এই ধরনের সাদামাটা প্রোফাইল নিয়ে বাঘা বাঘা প্রফেসর ম্যানেজ হলেও কেন জানি বার বার স্কলারশিপ নামক সোনার খনি যেন দূর্বাশার আলো । থেমে থাকেন নি । উনার একের পর এক রিজেক্টশনের যন্ত্রণার সেই মেইলগুলো সবসময় আমাকে পড়তে হতো । ৩ বছর ধরে চেষ্টা। শুধু ব্যর্থতা আর ব্যর্থতা । গতকাল উনার সেই final scholarship এর রেজাল্ট পেয়ে আমার চেয়ে দ্বিতীয় মানুষটি খুশি হয় নি।

উচ্চশিক্ষা নিয়ে ব্যক্তিগত লেখালেখি জীবনে আমি আলহামদুল্লিয়াহ সফল। এই পর্যন্ত যাদের সাথে আমি্ উচ্চশিক্ষা নিয়ে কথা বলেছি সবাই উপরওয়ালার ইচ্ছায় সফল হয়েছেন । শুধু একটা কথাই বলবো সফল হওয়ার জন্য লাগবে অধ্যবসায় এবং Right hit on right time । আমাদের কাছের পরিবেশ (যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা এবং দুর্বল  যোগাযোগ) বাহিরে আসার ব্যপারে আমাদের Confidence লেভেলকে এত নীতে নামিয়ে দিয়েছে যে আমরা বড় স্বপ্ন দেখতে পারি না অথচ আমাদের পাশ্ববর্তীদেশ ইন্ডিয়া, পাকিস্তানের কাছে শুধু মামুলি ব্যপার । যদিও কথাটা অনেকের কাছে কটু শোনাবে ।

উচ্চশিক্ষার পরবর্তী জীবন সম্পর্কে না বলি। সবই মরিচীকার ধোয়াশা । মুদ্রার ওপিঠ। তবুও ভালো, যে জাতি গুনির কদর বোঝে না, সে জাতি কিভাবে বুঝবে তার স্বর্ণগুলো প্রতিনিয়ত তার অগোচরে পাচার হয়ে যাচ্ছে।

পরিচয়ে,
সায়েদুল মোরসালিন
মানসিক কামলা