সরকারি কর্মকর্তাকে দিয়ে ছবি বা সনদ সত্যায়িত করার অভিজ্ঞতা নিশ্চয় আছে আপনার? নোটারিও সত্যায়িত করার ব্যাপার, তবে ছবি নয়, আপনার বিভিন্ন দলিল বা ডকুমেন্ট সরকারিভাবে সত্যায়িত করাকেই নোটারি বা নোটারি পাবলিক বলা হয়। আমাদের দেশে সাধারণত নোটারি পাবলিকের কাজ অনুমোদিত আইনজীবীরাই করে থাকেন। এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হয় নোটারিস অর্ডিন্যান্স এবং নোটারিস রুলস-১৯৬৪ দ্বারা।  গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে ডকুমেন্ট উপস্থাপন করতে হলে সাধারণত নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সত্যায়িত করে জমা দিতে হয়। জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে  উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে এই সত্যায়িত করা অনেক ক্ষেত্রেই বাধ্যতামূলক।

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নোটারি করার পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন হলেও সব দেশেই একটা সাধারণ গাইডলাইন ফলো করে। ইউনিভার্সিটিগুলো এসব নিয়ম তাদের ওয়েবসাইটে স্পষ্ট করে উল্লেখ করে দেয়। জার্মানিসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের ইউনিভার্সিটির নোটারি করার  নিয়মগুলো এখানে বিশ্লেষণ করা হলো।

ডকুমেন্ট সঠিকভাবে নোটারি করার জন্য মূলত তিনটা জিনিস অনুসরণ করতে হবে, নিচের ছবিটি দেখুন-

 

১। Statement of attestation: এখানে উকিল সাহেবের স্টেটমেন্ট বা স্বীকৃতি থাকবে যে তিনি কপিগুলো অরিজিনাল ফাইল থেকে করেছেন বা অরিজিনাল ডকুমেন্ট এর সাথে কপিগুলো মিলিয়ে নিয়েছেন। অনেকটা এরকম, আপনি আপনার প্রয়োজনমতো এডিট করে নিবেন-

On this 25th day of September, 2017, I, Md Saifuddin Khaled, a notary public (whole of Bangladesh)  certify that the preceding or attached  documents are true, exact, complete, and unaltered photocopies made by me from the original documents (academic certificates, transcripts, and language certificates), presented to me by the documents’ custodian, Md Abdus Sattar. Attached documents (academic certificates, transcripts, and language certificates) are complete and true copies of original documents. Number of documents is 6 (six).

 

২। সত্যায়নকারীর নাম ও স্বাক্ষরঃ স্টেটমেন্ট এর নিচে উকিল সাহেবের নাম এবং অরিজিনাল সিগনেচার থাকবে।

৩। Emblem এবং সীলমোহরঃ Emblem হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের স্বীকৃত এক ধরণের লাল রাবারের জিনিস যা ডকুমেন্টের সাথে প্রেসিং মেশিন দিয়ে লাগাতে হয়। আর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গোল সীল এবং উকিল সাহেবের নিজের নাম ও ঠিকানা সংবলিত সীল থাকতে হবে। উল্লেখ্য যে, তিন নম্বরের এই জিনিসগুলো ভিতরে ডকুমেন্টের উপরেও ব্যবহার করা হয়, যদিও তা জরুরী নয়।

 

উপরের তিনটি রুলসহ একটি আলাদা কাগজ সব ডকুমেন্টের উপরে রেখে স্ট্যাপলার করতে হবে। এরপরে গোল সীলমোহরটি এমনভাবে মারতে হবে যাতে এর অংশ সব ডকুমেন্টে দেখা যায়।

উপরের পদ্ধতি অনুযায়ী আমি আমার ডকুমেন্ট নোটারি করেছিলাম, নিচে ছবি দেখুন-

 

কোথায় করবেন এবং খরচঃ

নোটারী পাবলিকের দোকানগুলোতে নোটারি করা হয়। ঢাকার নীলক্ষেত এরিয়ায় এবং মোহাম্মাদপুর টাউন হলে বেশ কম খরচে নোটারি করা যায়। খরচ ডকুমেন্ট প্রতি সর্বোচ্চ ২০ টাকা। কেউ কেউ তারও বেশি রাখে। তবে ডকুমেন্ট বেশি হলে এবং দামাদামি করলে বেশ কম খরচে করা যায়।  আমি মোহাম্মাদপুরের টাউন হলে (ঠিকানা নিচে দেওয়া হলো) প্রতি ডকুমেন্ট ১২ টাকা করে করেছিলাম। সেই সাথে দোকানদারকে উপরের তিনটা পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিয়েছি। তার কাছে আমি যে স্টেটমেন্ট তৈরি করে ছিলাম তার একটা কপিও আছে। দোকানীকে আমার নাম বলতে পারেন, আপনাকে সহযোগিতা করবে।

ঠিকানাঃ

রাসেল এন্টারপ্রাইজ।

শহীদপার্ক মসজিদ মার্কেট, দোকান নং ৮৯।

মোহাম্মদপুর টাউন হল।

ফোনঃ 01819089351

আমি আমার সব ডকুমেন্ট এখানেই নোটারি করিয়েছিলাম, কোনো সমস্যা ছাড়াই কাজ হয়েছে এবং আমি এখন জার্মানি অবস্থান করছি। ধনব্যাদ।