ধন্যবাদ  জার্মান প্রবাসে সবসময় পাশে থাকার জন্য, সকল সমস্যার সমাধান কয়েক ক্লিকেই চোখের পলকে দেওয়ার জন্য। সকল আপু ভাইয়া যারা কষ্ট করে সময় ব্যয় করে ব্লগ লিখেছেন আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, ভালবাসা আর অনেক ধন্যবাদ রইল।

আমার ভাষাগত জ্ঞ্যান অনেক কম সেটা ডয়েচ হোক আর বাংলা (*স্কুলে সবসময় বাংলাই কম মার্ক্স পাইতাম 😀 ) তাই সকল ভুল ত্রুটি বিচ্যুতি ক্ষমা করে দিবেন আশা রাখি 🙂 ।

জার্মানির ভূত মাথায় চড়ে  এইচএসসি সেকেন্ড ইয়ার ২০১৬। তখন থেকে আস্তে আস্তে জার্মান শিখা ,ঘন্টার পর ঘন্টা জার্মান প্রবাসের ব্লগ গুলো পড়া। HSC পরিক্ষার পরপরই জুলাই মাসে Goethe Institut এ A1 পরিক্ষা দিয়ে আগস্ট,২০১৬ A2 কোর্স এ ভর্তি হই। উদ্ভাস এ ভর্তিযুদ্ধের কোচিং আর গোয়েথে তে A2 কোর্স একসাথে চলছিল। এটা শুনতে অনেক সহজ মনে হলেও আমার জন্য একটু কঠিন ই ছিল বটে।মন বলে জার্মান পরো,মাথা বলে অঙ্ক করো।এভাবেই কোনমতে অক্টোবারে A2 পরিক্ষা দিয়ে কোনমতে পাস করি তারপর  B1.1 কোর্স এ ভর্তি হয়।

Goethe B1: 

এই কোর্সটার দুই ভাগ

  1. B1.1 + B1.2 = 3 Months + 3Months = 6 Months. আমাদের কোর্স সন্ধ্যায় হতো আর ছিলাম মাত্র ৬ জন। B1 চারটা পার্ট ১।রিডিং ২।রাইটিং ৩।লিসেনিং ৪।স্পিকিং আলাদা আলাদা ভাবে দেওয়া যায় সেঅনুপাতে পরিক্ষা ফি নেয়া হয়।মানে শুধু একটা পার্টের জন্য ফি চার ভাগের এক ভাগ।
  2. বি১ পরিক্ষার জন্য কোর্সের মেইন বই ছাড়াও আরও কয়েকটা বই থেকে মডেল টেস্ট করলে এক্সাম এর প্রিপারেশন ভাল হয়।যেমন: Prüfungstraining goethe b1, Fit für zertifikat b1, Zertifikat b1 Neu 15 Übungsprüfungen ইত্যাদি।এই বইগুলো গোয়েথের লাইব্রেরিতেই সব পাওয়া যায়।
  3. এছাড়াও যাবতীয় সব ইনফরমেশন  Goethe website  এ দেওয়া আছে। আর অন্য সব কিছুর জন্য গুগল।

সাধারনত বি১ কোর্স ৬ মাস করে  অথবা ২ টা পার্ট করে দুই বারে পরিক্ষা দেওয়ায় ভাল। কিন্তু আমি মহান আল্লাহ র নাম করে বি১,১ করেই চারটা পার্টই পরিক্ষা দিই আর কোনমতে পাশ করি। পরিক্ষা ছিল জানুয়ারি,২০১৭ এ।

ও হ্যা। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগে ভর্তি হয়। ভার্সিটির ক্লাস করতে থাকি আর বিভিন্ন জায়গায স্টুডেন্টকলিগ এর জন্য আপ্লাই করতে থাকি মানে Aufnahmeprüfung এর invitation জন্য।

আমি মদন  নোটারি কি এটাই জানতাম না । আমার ভার্সিটি থেকে সত্যায়িত করে কাগজপত্র পাঠাইছিলাম । তাই সব জায়গাই থেকেই না বোধক রিপ্লাই আসে। আমি সাথে সাথে জার্মান এম্ব্যাসি থেকে  সত্যায়িত করে আবার আপ্লাই করি।

এম্ব্যাসি থেকে সত্যায়িত করার সব তথ্য এই পোস্ট এ পাবেন

কিভাবে বাংলাদেশে অবস্থিত জার্মান দূতাবাস থেকে আপনার সার্টিফিকেট ও মার্কশীট সত্যায়িত করবেন

আমি সত্যায়িত করার কাগজপত্র জমা দেয়ার পর প্রায় ১০ দিন পর নির্দিষ্ট তারিখে যেতে বলছে ।আমি ওইদিন গেছি আমি যেরকম ফাইল জমা দিই ওইটাই ফেরত দেয় ,আমি বলি  সত্যায়িত তো করে নাই। ওরা বলে “ওহ সর‍্যি সর‍্যি আমরা তো খেয়াল ই করিনাই । কালকে আসেন  প্লিজ আপনার ফাইল রেডি হলে আমরা ফোন দিব “(ANGRY imo হবে)

পরেরদিন সকালে এম্ব্যাসি থেকে কয়েকবার ফোন আসে কিন্তু আমি ক্লাশে থাকার কারনে ধরতে পারিনি। তবে পরে কল ব্যাক করলে বলে আপনার ফাইল রেডি এসে নিয়ে যেতে পারেন। তারপর সেদিন গিয়ে নিয়ে আসি।

তারপর কয়েকটা ভার্সিটি TU Darmstadt, kiel, Bochum, Konstanz থেকে invitation পাই। আরও কয়েটায় আমার বি২ না থাকার জন্য পাইনি।

এর মাঝে আমি  এর জন্য IELTS preparation নেই। যদিও স্টুডেন্টকলেগ এর জন্য  IELTS লাগে না।

IELTS Preparation :

1.জার্মান প্রবাসের ওয়েবসাইট এ নিয়ে অনেকগুলো পোস্ট আছে ওগুলোই মেইনলি ফলো করেছি । link

2.নীলখেত থেকে পুরানো কয়েকটা Cambridge এর বই কিনেছিলাম।

3.  এছাড়াও Google ,youtube থেকে কিছু প্র্যাকটিস করেছি। ieltsliz  website এর writing গুলো ভাল।

সময় কম দেয়ার জন্য, আর যথাযথ প্রস্তুতির অভাবে আমার রেজাল্ট আশানুরূপ না হলেও চলার মত ছিল আর কি।

 

ওখে এখন

ভিসা সমাচার নিয়ে আলোচনা হবে 

স্টুডেন্টকলেগ এর ভিসার জন্য মেইনলি কয়েকটা ডকুমেন্ট লাগে।

  • B1 certificate
  • Aufnahmeprüfung  Invitation
  • Block Account/Sponsorship
  • HSC Certificate
  • Health insurance

এম্বাসির ওয়েবসাইট এ সব ডিটেইলস দেওয়া আছে।আর এখানে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কি কি লাগবে তার লিস্ট।

আমার বড় ভাই্‌  ডার্মস্টাড এ বাস করে।তিনি আমাকে স্পন্সর করতে চেয়েছিল কিন্তু ডার্মস্টাড শহরে  স্পন্সরসিপ দেয়া একটু কঠিন তাই আমার কাজিন অন্য একটা শহর থেকে স্পন্সরসিপ দিয়েছিল তাই আমাকে আর ব্লক একাউন্ট করতে হয়নি।শুধু স্পন্সরশিপ এর কাগজ দেখাতে হয়েছে।

আর ভিসার  ছবি  ওয়েবসাইট এ দেয়া নিয়ম অনুসারে যেকোন স্টুডিও থেকে প্রিন্ট করে নিতে পারেন।

এরপর ভিসা ফর্ম পুরনের পদ্ধতি জার্মান প্রবাসে দেয়ায় আছে সেভাবে পূরন করে ২ কপি প্রিন্ট করে সাইন করতে হবে। আর অন্য সব ডকুমেন্টগুলোও ২ সেট করতে হবে।

স্টুডেন্ট ভিসা ফর্ম (visa form) যেভাবে পূরণ করবেন (উদাহরণ)

এছারাও সব ইনফরমেশন , পদ্ধতি, নিয়মকানুন আমাদের জার্মান প্রবাসে খুব সুন্দর করে দেয়া আছে।তাই আমার বাড়তি কিছু বলার প্রয়োজনই নেই, তবুও আমার অভিজ্ঞতা খুব সংক্ষেপে শেয়ার করি।

আমি অনলাইনে ৩০মে,২০১৭ ভিসা আপয়েন্টমেন্ট নিই।আপয়েন্টমেন্ট নেয়ার পদ্ধতি এখানে  দেখে নিতে পারেন।

যেভাবে কাজ করে জার্মান এমব্যাসি ঢাকা online student visa appointment পদ্ধতি

৩০ এপ্রিল নির্দিষ্ট সময়ের আগে এম্বাসিতে পৌছিয়ে বাইরে অপেক্ষা করতে থাকি।এম্বাসির আপুটা নাম আর পাসপোর্ট নাম্বার দেখে , একে একে পা থেকে মাথা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে , ব্যাগট্যাগ রেখে দিয়ে ভিতরে ঢুকায়। ভিতরে ঢোকার পর একটা লিস্ট দেয় এবং সে সিরিয়ালে ডকুমেন্টস গুলোসাজাতে বলে। সেভাবে সাজিয়ে দিলে সেগুলো  তিনি নিয়ে নিয়ে আমাকে  ওয়েটিংরুমে অপেক্ষা করতে বলেন।ঘন্টাখানিক বসে থাকার পর আমার ইন্টারভিউ এর জন্যে ডাক আসে।

Me: Good morning, sir

VO: Good morning! Jannatul ferdous?

ME: ya

VO: what are doing now?

Me: I’m currently studing Electrical and Electronics Engineering at Dhaka University.

VO: Ow !!! EEE?

Me: yes

VO:  1rst Semester?

Me: yes

(তিনি একটা কাগজে dhaka versity, eee, 1st semester লিখে নিল জানিনা কেন )

Vo: Why are you going to Germany as you are studing Dhaka university?

Me: answered

এরপর থেকে ইন্টারভিউ পুরা জার্মান লাঙ্গুয়েজ এ হয়েছে।স্টুডেন্টকলেগ এর ইন্টারভিউ সবসময় জার্মান ভাষাতেই হয়ে থাক। আমি সবার বুঝার সুবিধার জন্যে বাংলাতে বলি কি কি জিজ্ঞেস করেছিল।

VO: studienkolleg কত semester থাকে ,কত সময়  টোটাল?

Me: 1 year, 2 semester.

VO: কি কি  subject থাকে?

Me: Answered

VO: কোন ভার্সিটি তে পরিক্ষা দিব?

Me: TU Darmstadt.

VO: darmstadt e keu thake kina?

Me: bruder

VO: eigene bruder?! (নিজের ভাই?)

Me: yes

VO: স্পন্সরসিপ লেটার এর দিকে তাকিয়ে স্পন্সর কে দিয়েছে?

Me: cousine

VO: eigene cusin?( নিজের কাজিন?)

Me: yes

VO: germany গিয়ে কোথায় থাকব?

Me: answered

এরপর আমার ফিংগারপ্রিন্ট নিয়ে আসল ডকুমেন্ট গুলো দিয়ে দেয়। আর ব্যাংক এ গিয়ে টাকা জমা দিয়ে আসতে বলে।

আমি ব্যাঙ্ক এ গিয়ে প্রায়  ৬০০০ টাকা জমা দিয়ে এসে আবার রসিদ টা জমা দিয়ে দিই আর আমার অংশটা নিজের কাছে রাখি।

এরপর অপেক্ষার পালা শুরু । প্রায় সাতদিন পর হঠাত করে অনেক সকালে প্রায় ৮.৩০ এর দিকে এম্বাসি থেকে ফোন আসে । এবারও আমি  কল ধরতে পারিনাই তাই আবার কলব্যাক করেছি।আমার নাম শুনে নেওয়ার পর আমার সাথে এক ভদ্রলোক কথা বলে।

কথোপকোথন:

O: আপনার সার্টিফিকেট এ তো আপনার বয়স আঠারো হয়নি। এটা তো আমরা খেয়াল করিনাই, সেক্ষেত্রে তো আপনার আব্বু আম্মুর সাইন লাগবে। আপনি কি আগামিকাল আপনার আব্বু আম্মু সহ এম্বাসি তে আরেকবার আসতে পারবেন?

Me: হ্যা আমার তো আঠারো হয়নি তাই ইন্টারভিউ এর দিন আমি আব্বু আম্মু র পাসপোর্ট নিয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু আমাকে কিছুই বলে নি সেদিন।

O:হুম আসলে আমরা খেয়াল করিনি এরকম আগে ১৮ বছরের কম কেউ স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আপ্লাই করেনি তাই। আপনার বাবা মা কি ঢাকাতে থাকে?

Me: না ঢাকাতে থাকে না তবে কোন সমস্যা নাই আমি আগামিকাল আব্বু আম্মু সহ আবার যেতে পারব

O: আচ্ছা ঠিক আছে । সাথে আরেকটা ভিসা ফর্ম প্রিন্ট করে নিয়ে আসবেন আর ব্যাঙ্ক রসিদ আর আপনার বাবা মার পাসস্পোর্ট এর কপি।

Me:ok

 

পরেরদিন আব্বু আম্মু সহ এম্বাসিতে যায়।অনেকক্ষন অপেক্ষার পর ভিতরে ঢুকে আবার অপেক্ষা করি। তারপর শুধুমাত্র আব্বু আম্মুর সাইন নেই ভিসা ইন্টারভিউ এর ফর্ম এ আর কিছুই জিজ্ঞাসা করেনাই।তাই ১৮ বছরের কম কেউ আপ্লাই করলে এম্বাসি তে আগে থেকে মেইল এ জানানো ভাল।

এরপর আবার অপেক্ষা । ২৪/২৫ দিন হয়ে গেলেও এম্বাসি থেকে কোন ফোন/মেইল আসে না তাই না পেরে আমিই মেইল দিই।রিপ্লাই আসে আমার সবকিছু রেডি কিন্তু আমার ভার্সিটি থেকে কোন কনফার্মেশন আসে নি। তখন আমার ভার্সিটিতে মেইল দিলে ওরা এম্বাসি তে মেইল দেয়। পরেরদিন সকালে এম্বাসি থেকে ফোন দিয়ে বলে পাস্পোর্ট নিয়ে যেতে।।

৩০ মে আমি সময়মত যায় গিয়ে পাসপোর্ট জমা দিয়ে আবার অপেক্ষা করতে থাকি। এবার আমাকে আর ডাকেই না আমার পরে অনেকে এসে সবাই ভিসা নিয়ে চলে গেছে ।লাস্ট এ আমি একা বসে আছি। অতপর আমার ডাক আসলো। আমাকে দেখে ,আপনার বয়স ১৮ র কম? আপনি কি ৬০০০ টাকা জমা দিয়েছিলেন?(অন্য একজন ভিসা অফিসা্‌ , দেখে আমার পরিচিত মনে হইছে মেই বি গোয়েথের শিক্ষক ছিল)

আমি: হ্যা

অফিসার:  আপনি তাহলে কিছু টাকা ফেরত পাবেন। আঠার বছরের কম হলে ভিসা ফী কম হয়।

আমি: 😀

তিনি আমাকে  ২৮০০ টাকা ফেরত দেন আর একটা কাগজে সাইন নেন যেখানে লিখা আমি আমার টাকা ফেরত পাইছি।আর আমার ভিসা সহ পাসপোর্ট ফেরত দেন। আর আমি তো টাকা আর ভিসা পেয়ে চরম খুশি ।

আর টিকেট কাটি ১৫ জুন এর কাতার এয়ারলাইন্স এর।

সেই জুন মাসে ভিসা পেয়েও আমি এতদিন পরে আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি কারন জার্মানি এসে অনেক জায়গায় পরিক্ষা দিলেও কোথাও চান্স পাচ্ছিলাম না তাই লিখার সাহসও পাচ্ছিলাম না। এই পরিক্ষা আসলেই অনেক অনেক কঠিন আর কম্পিটিটীভ।স্টুডেন্টকলেগ নিয়ে আরেকদিন বিস্তারিত লিখব ইনশাল্লাহ!  শেষ পর্যন্ত  এই september এ Karlsruhe Institut of Technology(KIT)  ভার্সিটি তে চান্স পাই । এখানেই ইনশাল্লাহ এখন স্টুডেন্টকলেগ করব।

 

 

 

বি:দ্র: জার্মানি তে স্টুডেন্টকলেগ করে ব্যাচেলর করা অনেক অনেক কঠিন। তাই মাস্টার্স এর জন্য এখানে আসা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।