অদ্ভুত হলেও সত্য যে গ্রুপে এতো রথী- মহারথী থাকতে ও এমন একটা বিষয় নিয়ে কেউ লিখে নাই। এমন নাহ যে কেউ এই প্রক্রিয়ার মাঝে দিয়ে যায় নাই। যাই হোক, কি আর করার, আমি অধম ই নাহয় এইবার কিছু বলি। আমার সীমিত নলেজ দিয়ে লিখতেছি এন্ড কিছুটা বাস্তব অভিজ্ঞতা। ভুল ত্রুটি হলে ধরাই দিলে সংশোধন করে দিবো  🙂

যাই হোক এইবার কাজের কথায় আসি। প্রথমে ই ভয়ের কথা বলি। ২০১৪ সালের জন্য ট্যাক্স রিটার্ন করতে গিয়েছিলাম, বিশাল একটা ফরমুলা ধরাই দিয়েছিলো ট্যাক্স অফিস। যেই ফর্মুলার ১০০% ই জার্মান এন্ড এতো বেশি ডিটেলস যে ভয়ে ই টাকা ফেরত নেয়ার কথা আর চিন্তা করি নাই। আসলে তখন জার্মান ভাষা টা এতো ভালো জানতাম নাহ, তাই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।

#২০১৬ সালে হাল্কা পাতলা জার্মান পারি, তাই এইবার গেলাম নিজের অধিকার আদায় করতে। প্রথমে ই ট্যাক্স অফিসে চলে গেলাম সকাল সকাল। টোকেন নিয়ে বসে থাকলাম কিছুক্ষণ। নিজের নাম্বার আসার পর নির্দিষ্ট রুমে গেলাম। তারপর ওদের জানালাম আমি কি জন্য এসেছি। বললাম যে আমি ২০১৪ সালের ট্যাক্স রিটার্ন এর জন্য আবেদন করতে চাই। যথারীতি ওরা আমাকে সেই বিশাল ফর্ম টা ধরাই দিলো। আমি ওদের বললাম এটা অনেক বিশাল ফর্ম এন্ড এর সব কিছু অনেক জটিল, সিম্পল কিছু আসে কিনা। ওরা আমাকে সেই ফর্ম এর একটা সিঙ্গেল পেজ দেখাই বলল যে শুধু মাত্র এটা ফিল আপ করলে ই হবে। সত্যি বলতে কি এটা এতো সিম্পল যে স্কুলের বাচ্চা ও এটা করতে পারবে।

#তেমন কিছু ই নাই ওই ফর্মে। আপনার ট্যাক্স নাম্বার, টিন নাম্বার, নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখ, এড্রেস আর কোন বছরের ট্যাক্স রিটার্ন করবেন আর সবার শেষে নিচে আপনার সিগনেচার।

ব্যাস!

খালি এই টুকু ফিলাপ এর ভয়ে ই আমি ২ বছর ওই দিকে পা বাড়াই নাই। তবে ফর্মের উল্টা পিঠে আরও কিছু হাবিজাবি আছে, ওগুলো পূরণ না করলে ও চলবে। আর কনফিউসান থাকলে ওদের জিজ্ঞাসা করলে ই ওরা আপনাকে বুঝাই দিবে, তেমন জটিল কিছু নাহ।

#এইবার আসি আপনি কত টাকা ব্যাক পাবেন।

আসলে এটা ডিপেন্ড করে আপনি কোন ক্যাটাগরি ট্যাক্স ক্লাসে আছেন। যদি আপনি অবিবাহিত হন এন্ড ট্যাক্স ক্লাস-১ থাকেন, তাহলে ১০০% ই ট্যাক্স ব্যাক পাবেন।  ২০১৪ সালে আমি ট্যাক্স ক্যাটাগরি-১ ছিলাম, তাই পে করা সব ট্যাক্স ই ব্যাক পেয়েছিলাম।

এই ক্ষেত্রে আপনার বুঝতে হবে আপনি আসলে কোন টাকা টা ব্যাক পাবেন। আপনার সেলারি স্টেটমেন্ট দেখলে ই বুঝবেন আপনি মোট ৪  জায়গায় পে করছেনঃ

১।রেন্টাল/ সামাজিক ,

২।ফ্লিগে ,

৩।ক্রাঙ্কেন,

৪।স্টয়ার।

আপনি ট্যাক্স রিটার্ন হিসেবে শুধু মাত্র ৪ নাম্বার টা ফেরত পাবেন এই মুহূর্তে। ১ নাম্বার টা ফেরত পাবেন যদি আপনি ডিক্লেয়ার করেন যে আপনি আর জার্মানি তে থাকতে চান না ( আর জার্মানি তে থাকলে এই টাকার বিনিময়ে সোশ্যাল অনেক বেনিফিট পাবেন)। ২,৩ হচ্ছে আপনার হেলথ ইন্সুরেন্স এন্ড তার রিলেটেড সুবিধাদি।

রিসেন্টলি ২০১৬ সালের ট্যাক্স রিটার্ন করলাম, যেহেতু আমি অলরেডি ঝুলা ভিসার ক্যাটাগরি তে চলে গেছি মানে ট্যাক্স ক্যাটাগরি ৩/৪/৫, তাই আমি যা আশা করেছিলাম তার থেকে মাত্র ১০০ ইউরো কম পেয়েছি। এটা আসলে আপনি কত টাকা ফেরত এর জন্য ওটার উপর নির্ভর করে।

#আর আপনি প্রতি বছর ই ইচ্ছা করলে ট্যাক্স রিটার্ন করতে পারবেন অথবা একসাথে কয়েক বছর এর জন্য। তবে অবশ্যই আবেদন করতে হবে বছর শেষ হওয়ার পর। সাধারণত পরের বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ই আগের বছরের জন্য আবেদন শুরু করা যায়। মনে করুন আপনি ২০১৬ এর টেক্সট রিটার্ন করতে চান, তাহলে ২০১৭ এর ফেব্রুয়ারি থেকে ই আবেদন জমা দিতে পারবেন। তবে যদি ২০১৫ এর ট্যাক্স রিটার্ন করতে চান, তাহলে ২০১৬/ ১৭ এর যেকোন সময় ই আবেদন করতে পারবেন।

#সাধারণত আবেদন করার ৪-৬ সপ্তাহ পর আপনি বাই পোস্টে একটা চিঠি পাবেন ফিনাঞ্জামট থেকে যে আপনি কত টাকা ফেরত পাচ্চেন। ওখানে ডিটেল থাকবে আপনি কত টাকা কি ভিত্তি তে ফেরত পাচ্চেন। নিজের হিসেব করার টাকার সাথে ফেরত পাওয়া টাকা না মিল্লে ওদের কে কল করে অথবা সরাসরি দেখা করে জিজ্ঞাসা করতে পারেন সমস্যা কোথায়।

# আমি যখন ২০১৪ এর জন্য ট্যাক্স রিটার্ন আবেদন করেছিলাম তখন আমাকে আমার সেলারি স্টেটমেন্ট জমা দিতে হয়েছিল, ওখানে উল্লেখ ছিল যে আমি কত টাকা ট্যাক্স পে করেছি। তবে ২০১৬ সালের জন্য কিছু জমা রাখে নাই, এখন নাকি ওদের সিস্টেমে সব চলে আসে আপনার ইলেট্রনিক সিস্টেমের টিন নাম্বারের কারণে। মানে আপনার চাকরি দাতা প্রতিষ্ঠান বছর শেষে অটোম্যাটিক ওদের কাছে সেন্ড করে দিবে যে আপনার জন্য কত টাকা ট্যাক্স ওরা পে করেছে। তারমানে কেউ যদি ইলিগালি বেশি টাকা ইনকাম করে থাকে, তাইলে কিন্তু ধরা ( সো সাধু সাবধান! )

# এইবার আসি শেষ কথায়, অনেকে ই বলে যে ট্যাক্স রিটার্ন করে ফেললে নাকি জার্মানির নাগরিক হতে সমস্যা হয়। আমি আসলে এই ব্যপার টা সিউর নাহ। কারন আমার জানা মতে ওটা ডিপেন্ড করে সোশ্যাল/ রেন্টাল এর উপর ( ৫বছর ফুল টাইম সোশ্যাল পে করলে সিটিজেনশিপ এর জন্য আবেদন করা যায় ) । কেউ এটা ক্লিয়ার জানলে শেয়ার করতে পারেন।  তবে এটা অনেক টা আপনার সেভিংস ব্যাংক ডিপোজিট হিসেবে কাজ করবে, কেউ চাইলে ৫-১০ বছর পর সব একসাথে রিটার্ন করলে ভালো একটা এমাউন্ট ফেরত পাবেন অথবা বিপদের সময় ভালো কাজে দিবে। তবে ওটা আপনাদের নিজেদের মর্জি।

# আর সবার শেষে একটা সফটওয়্যার শেয়ার করবো, এটার নাম হচ্ছে ব্রুনো। প্লে ষ্টোরে ই পাবেন। এটা দিয়ে আপনি কত টাকা কামাইলে কত টাকা ট্যাক্স, সোশ্যাল বা অন্যান্য খাতে দিতে হবে ওটা ট্যাক্স ক্যাটাগরি অনুযায়ী চেক করতে পারবেন। সো আগে থেকে ই গেস করতে পারবেন মাস শেষে কত টাকা বাম্বু খাবেন :প

সো, আজকের মত বয়ান এখানে ই শেষ! শুরু হয়ে যাক ফিক্স ডিপোজিট ভাঙ্গার মিশন। আর কারো নতুন কিছু জানা থাকলে কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন।

ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য 🙂

 

 

ট্যাক্স(Income Tax) হিসাব করা – চাকরি এবং জার্মানি – পর্ব – ০৫

চাকরি সাক্ষাৎকার প্রশ্নঃ আপনার প্রত্যাশিত বেতন কত? – চাকরি এবং জার্মানি – ০৬

ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগতদের জন্য “সাহায্য ভাতা”র নতুন নিয়ম – The Local