আপডেটঃ

**সুজনের মরদেহ পাঠানোর আপডেট- মঙ্গলবার (07/02/17)**

আজকে ঘন্টাখানেক আগ পর্যন্ত চিন্তায় ছিলাম সবাই। কেননা সকালে সুজনকে রওয়ানা করিয়ে দিতে পারিনি। অনেক কিছুর মাঝে শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যায় ফ্লাইট গেছে এবং ৯ তারিখ ভোরে ঢাকায় থাকবে বলে আসা করা যাচ্ছে। আমাদের প্রিয় এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট ভাই এর সাথেও যোগাযোগ করছি যেহেতু আমরা কেউই নিয়ম কানুন সম্পর্কে অবগত না…ভাইয়া চিরাচরিত ভাবেই ধৈর্য ধরে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রবাসী কল্যাণ এর সহকারী পরিচালক মহোদয়ের দৃষ্টিগোচর করেছেন বিষয়টি এবং বলাই বাহুল্য সবাই আন্তরিকতার সাথেই আমাদের সহায়তা করছেন। একবারের জন্যেও কোথায় সাহায্যে চেয়ে পাচ্ছি না এমনটি হয়নি। মানুষের ভালবাসা ভাষায় প্রকাশ করবার ক্ষমতা আমাদের নেই…
আমরা সেই সাথে জানিয়ে রাখছি কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা আজকে পর্যন্ত যে টাকা আমাদের হাতে এসে পৌছেছে তার পরিমান এবং দাতাদের নামের লিস্ট প্রকাশ করে দিচ্ছি জার্মান প্রবাসের ওয়েবসাইট এ।…আপনার নাম যদি লিস্টে না থাকে তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ রইলো। এর পরে যদি কোনো কারনে নাম না পান তবে সরাসরি আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন এবং কাকে টাকা পাঠিয়েছেন আমাদের জানান।

**সুজনের মরদেহ পাঠানোর আপডেট- সোমবার (06/02/17)**

লাশ পাঠানোর কোম্পানি এবং ব্রেমেন হতে কিছু ছাত্র হামবুর্গের হাসপাতালে গিয়ে আজকে সারাদিনে কাগজপত্রের ঝামেলা অধিকাংশ শেষ করে ফেলেছে। ডেথ সার্টিফিকেটটা এই মাত্র বিকেল ৪:১৫ মিনিটে হাতে এসেছে আমাদের এবং আরও কিছু মুখ্য/গৌণ পেপারস ম্যানেজ করার প্রচেষ্টা চলছে।

***সর্বশেষঃ আগামীকাল সকাল ৭:৫৫ মিনিটে সুজনের লাশ ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে তুর্কি এয়ারলাইন্সে উড়াল দেবে এবং পরদিন অর্থাৎ ৮ই ফেব্রুয়ারি সকাল ৫:৫৫ মিনিটে বাংলাদেশে পৌঁছবে।***

একদিনের মধ্যে এত দ্রুততার সাথে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কারণে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই বার্লিনে বাংলাদেশ এম্ব্যাসিকে। এম্ব্যাসি থেকে তারা নিজেরাই আজকে যোগাযোগ করেছে এবং বেশ ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে তারা। এত দ্রুত সব হয়ে যাবে লাশ পাঠানোর কোম্পানিও অবাক হয়েছে। তাদের সহযোগিতায় আমরা মুগ্ধ। বুক ভরা ভালবাসা তাদের জন্য।

এবার আসি টাকা পয়সার ব্যাপারে। আমাদের উত্তোলিত টাকার মোট পরিমাণ এযাবৎ কত হয়েছে ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ হিসাবাদী না পাওয়া পর্যন্ত বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমাদের মুল খরচের টাকা উঠে গেছে। এছাড়া আমেরিকা অস্ট্রেলিয়া ফ্রান্স অস্ট্রিয়া স্পেন পর্তুগাল সহ বিভিন্ন দেশ থেকেও বিচ্ছিন্নভাবে ছোট খাট এমাউন্ট আমরা পেয়েছি যার প্রোসেসিং সময়সাপেক্ষ। অপরদিকে লাশ পাঠানোর কোম্পানিকে আমরা টাকা পরিশোধে কয়েকদিন বিলম্ব করবো আগেই কথা হয়েছে।
মানহাইমে কিছু বাংলাদেশি ভাই এটা দেখভাল করছে।

সব মিলিয়ে আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আপনাদের নিজ নিজ কমিউনিটিতে যোগারকৃত অর্থ আজকের মধ্যেই পাঠিয়ে দিন এবং ব্যক্তিগতভাবে যারা এখনও পাঠাননি তাদের পাঠানোর আর প্রয়োজন নেই অর্থাৎ অফিসিয়ালি আমরা আর টাকা পাঠাতে আপনাদের অনুরোধ করছি না এবং আজই তার শেষদিন। তদুপরি আমাদের হাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে অর্থ থাকবে বা এরপরও কেউ কিছু পাঠালে তার সবই সুজনের পরিবারকে প্রদান করা হবে যা এর আগেও ঘোষিত হয়েছে। ধন্যবাদ পরে দিব।

যেকোন তথ্য বা পরামর্শের জন্যঃ
[email protected]

মোবাইলঃ
১। +49176 23536388 (হাসনাইন- ব্রেমেন)
২। +4917621206417 (রাকিবুল ইসলাম রানা- ব্রেমেন)
৩। +491722976422 (জাহিদ কবীর হিমন- হ্যানোভার)

ছবিঃ বাংলাদেশের পতাকায় মোড়ানো আমার ভাইয়ের কফিন
সংগ্রহঃ Md Hasnain Mustafizur Rahman

**সুজনের মরদেহ পাঠানোর আপডেট- রবিবার (05/02/17)**

মন্ত্রীর স্ট্যাটাস নিয়ে গতকাল ব্যাখ্যা দেয়ার পরও অনেকের অনেক প্রশ্ন, আপত্তি সন্দেহ যায়নি। স্পষ্ট করে আবারো বলছি, মন্ত্রীর সাথে আমাদের কোন ধরণের যোগাযোগ ঘটেনি। সুজনের দেহ পাঠানো নিয়ে যা হচ্ছে সবই আমজনতার পয়সায় হচ্ছে। সব আয়োজনের পরও সরকারীভাবে যদি কিছু করা হয় তা একান্তই তাদের কৃপা এবং তাকে আমরা স্বাগত জানাবো।

জার্মানিতে বাংলাদেশের দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ হয়েছে। ডকুমেন্টস রেডি করা নিয়ে যত হেল্প লাগবে তারা আন্তরিকতার সাথে করবে। কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে আসার কোন এখতিয়ার বা সুযোগ তাদের নেই তারা বলেছে।

http://www.germanprobashe.com/ সাইটে, আমাদের বিসাগ গ্রুপে পোষ্ট দেয়ার পর এবং ব্রেমেনবাসীর কদিন যাবৎ প্রচেষ্টায় অসংখ্য মানুষ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন, সহানুভূতি জানিয়েছেন, অর্থ পাঠিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঠিক কত টাকা উঠেছে বলা সম্ভব হচ্ছে না। এর কয়েকটি কারণ। প্রথমত বিভিন্ন শহর হতে কয়েকজন মিলে আমরা টাকা তুলছি যার সমন্বয় এখনও হয়নি, দ্বিতীয়ত এবং সবচেয়ে বড় কারণ অনেকেই আমাদের ব্যাংকে টাকা পাঠিয়েছেন কিন্তু সেটি সপ্তাহান্তের (শনি-রবি) কারণে এখন অব্দি জমা হয়নি। তাই মোট টাকার পরিমাণ এই মুহুর্তে আপাতত বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পেপালের টাকা যেহেতু তাৎক্ষণিক জমা হয় তাই সেটা জানা আছে আমাদের। তবে মোট টাকার হিসাব আমাদের ব্যাংক একাউন্টে জমা হওয়ার পর জানানো হবে এবং তার জন্য আরও কয়েকদিন লেগে যেতে পারে।

তবু আমাদের অনুমান এই যে, এখন পর্যন্ত যত টাকা হাতে পেয়েছি, যত টাকার প্রতিশ্রুতি(!) মিলেছে, আর যত টাকা আসার পথে আছে (অনেকে যারা বলেছেন পাঠিয়ে দিয়েছি কিন্তু এখনও জমা হয়নি) তাতে করে লাশ পাঠানোর টাকা উঠে যাওয়ার কথা। এবং লাশ পাঠানোর পর (যদি) যত টাকা থাকবে তার সবই সুজনের পরিবারকে প্রদান করা হবে। নানা সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি সুজনকে জার্মানিতে পাঠাতে গিয়ে তার পিতার বেশ ঋণ হয়েছে। আশাকরি আমাদের মত হাজারও সুজনের সহায়তায় তার কিছুটা লাঘব ঘটবে। অনিশ্চিত পরিমাণ অর্থ আর অন্যান্য সব মিলিয়ে আমরা আজও অর্থ যোগার বন্ধ করছি না। আগামীকাল অব্দি চলবে সংগ্রহ।

মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো নিয়ে মানহাইম থেকে এক বাংলাদেশি ভাই নিজে থেকে ফোন করে আড়াই হাজার ইউরোয় তারা ব্যবস্থা করবে কথা দিয়েছে। আমরা সেভাবেই এগুচ্ছি। আগামীকাল আপডেটে পরিষ্কার হবে সবকিছু।

আমাদের অর্থ সাহায্য চাওয়ার পোষ্টটি অনেকেই কপি করে আমাদের ব্যাংক হিসাব মুছে দিয়ে নিজেদের হিসাব নম্বর বসিয়ে নানা গ্রুপে পোষ্ট করে অর্থ তুলেছে। এ নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি তৈরি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। তা রোধে সবাইকে অনুরোধ করবো http://www.germanprobashe.com/ তে প্রকাশিত পোষ্ট দেখতে, এবং আমাদের ফেসবুক গ্রুপ https://www.facebook.com/groups/BSAAG/ তে কমেন্ট করে প্রতিনিয়ত আপডেট দেওয়া হয় সেগুলু দেখতে। তাই কেউ কপি করতে চাইলে পুরোটা করার অনুরোধ রইল।

যেকোন তথ্য বা পরামর্শের জন্যঃ
[email protected]
মোবাইলঃ
১। +49176 23536388 (হাসনাইন- ব্রেমেন)
২। +4917621206417 (রাকিবুল ইসলাম রানা- ব্রেমেন)
৩। +491722976422 (জাহিদ কবীর হিমন- হ্যানোভার)

**সুজনের মরদেহ পাঠানোর আপডেট**শনিবার (04/2/17)**

অসংখ্য মানুষের আর্থিক সহায়তা, ফোন, মেসেজ ভোর হতে আমাদের সবাইকে আপ্লুত করে রেখেছে। তবে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা পরে খুঁজবো, তার আগে কিছু আপডেট, কিছু কনফিউশন দূর করা জরুরী মনে করছি। বিশেষ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে।

প্রতিমন্ত্রীর সাথে জার্মানিতে থেকে যোগাযোগের পর তিনি আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন এটুকু পর্যন্ত আমরা জানি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কোন মেসেজ বা কল পাইনি। একারণে আমাদের পক্ষে কোনকিছু না করে বসে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।

তাই আমরা বিভিন্ন কোম্পানি যারা লাশ পাঠায় দেশে দেশে তাদের সাথে যোগাযোগ করছি। টাকা পয়সা নিয়ে দেনদরবার হচ্ছে। কোন কোন বাংলাদেশি ভাই লাশ পাঠানোর জন্য টাকা যা উঠেছে তার সাথে বাকিটা ভুর্তুকি দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। সম্ভবত মন্ত্রীর থেকে কোন আপডেট না পেলে আজ সন্ধ্যার মধ্যেই আমরা কোন একটা কোম্পানির সাথে চুক্তি করে ফেলব।

তাই আমাদের পক্ষে টাকা তোলা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ ‘রাজনীতিক’ মন্ত্রীমহোদয় যদি এগিয়ে না আসেন তবে আমাদের সবাই মিলেই তা করতে হবে এবং একারণে টাকার প্রয়োজন। এরপর যদি তিনি সুজনের লাশ নিতে প্রশাসনিক আর আর্থিক সহায়তা করেন তাহলে আমাদের উত্তোলিত সকল অর্থ সুজনের পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে। এটিও একটি জরুরী কাজ কারণ আমাদের জানামতে তার পরিবারের আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন।

তাই আপনি বা আপনারা নিজেরা এগিয়ে আসুন, বন্ধুবান্ধব সবাইকে বলুন এগিয়ে আসতে।

গত রাতে টিম জার্মান প্রবাসে ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দেবার পরে অনেকেই বিভিন্ন ভাবে তথ্য দিয়ে সাহায্য করছেন 

গ্রুপের অনেকেই মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়  Md Shahriar Alam MP সাথে কন্টাক্টের কথা বলেন এবং Abu Sayeed Mahin ভাই মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলেন

তার কিছুক্ষন পরই মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় তার ফেসবুকে একটি পোস্টে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানের কথা ও সাহায্যের কথা জানান

 

————————————————————————————————————–

দুর্ভাগ্য কখন এসে দুয়ারে কড়া নাড়ে বলা দুরহ। দুর্ভাগ্যের মাত্রা কতখানি তা হয়ত আপেক্ষিক। নখ কাটতে গিয়ে কারো আঙ্গুল কাটলে সেটিই তার জন্য দুর্ভাগ্য। কিন্তু এ কোন নাটকীয় দুর্ভাগ্যের কাহিনি নয়, আজকের এ ভাগ্যাহত তরুণের কাহিনি জীবনের এক অতিনাটকীয়, চরম বাস্তবতার কাহিনি।

সুজন চন্দ্র সরকার ( https://www.facebook.com/sujanchandrasarker.sujan )। বাংলাদেশের চাঁদপুরের ছেলে, ষোলদিন পূর্বে তার বয়স হয়েছে মোটে ২৬, গত এপ্রিলে জার্মানির ব্রেমেন শহরে এসেছে উচ্চশিক্ষার্থে। আসার পর হতেই জন্ডিস আর দুর্বলতা, পরবর্তীতে যকৃতে টিউমার। অপারেশনে সেটি সারলেও সেখান থেকেই উৎপত্তি হয়েছে মরণব্যাধী ক্যান্সারের। এবং এত দ্রুত তার পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে যে সে নিজেও কল্পনা করতে পারেনি কী নিদারুণ ভবিতব্য সামান্য তফাতে দাঁড়িয়ে দাঁত কেলিয়ে হাসছে।

কথা না বাড়িয়ে বরং চরম সত্যের দিকে ধাবিত হওয়াই উচিত। সুজন এখন জাগতিক সকল চিকিৎসার উর্ধ্বে। কদিন আগেই ডাক্তার বলেছিল তার বেঁচে থাকার শেষ আশাটিও আর অবশিষ্ট নেই। যত দ্রুত সম্ভব দেশে গিয়ে যেন পরিবারের সাথে শেষ সময়টুকু অতিবাহিত করে। কিন্তু মানুষের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত পৃথিবীর সকল দুয়ার বন্ধ হয়ে গেলেও আশা কখনো মরে যায় না। শেষ আশা হিসেবে সুজন হোমিওপ্যাথির শরণাপন্ন হতে চেয়ে হয়ত দেশে ফিরতে সামান্য বিলম্ব করতে চেয়েছিল। সেটি সম্ভব নয় আর। বর্তমানে হামবুর্গের এপেনডর্ফ হসপিটালের ২২৩ নম্বর রুমে লাইফ সাপোর্টে ছিল সে। শল্যচিকিৎসার ধ্রুপদী ভাষায় যাকে বলে ক্লিনিক্যালি ডেড। আজ ৪ঠা ফেব্রুয়ারি সকাল ৯ টার দিকে সুজন আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহিণী সুজনের মাকে ঘটনা জানানো হয়েছে মাত্র। জার্মানির আমরা সকল বাংলাদেশি এখন এই মায়ের সন্তান। এই মায়ের আবেদন যে করেই হোক সন্তানের লাশটা যেন দেশে পাঠানো হয়, তিনি নিজ হাতে চিতায় তুলে দিবেন।

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহিণী সুজনের মাকে ঘটনা জানানো হয়েছে মাত্র। জার্মানির আমরা সকল বাংলাদেশি এখন এই মায়ের সন্তান। এই মায়ের আবেদন যে করেই হোক সন্তানের লাশটা যেন দেশে পাঠানো হয়, তিনি নিজ হাতে চিতায় তুলে দিবেন।
মায়ের আকুতির কাছে বাস্তবটা বড় নির্মম। এই লাশ পাঠাতে গুনে গুনে ৬৫০০ (সাড়ে ছয় হাজার ) ইউরোর প্রয়োজন। তবে হিন্দু রীতি অনুযায়ী লাশ পুড়িয়ে ছাই পাঠাতে লাগবে ৪৫০০ (সাড়ে চার হাজার) ইউরো। সুজনের দূরতম সম্পর্কের কোন বন্ধু বা স্বজনও জার্মানিতে নেই। আমরা যারা সুজনের দেহ দেশে পাঠানো নিয়ে ভাবছি তাদের সকলের কাছে উক্ত দুটি এমাউন্টই এক অসম্ভব ব্যাপার। গত কদিন ধরেই ভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল অফিস, আস্তা, এবং এখানে সেখানে বহু দৌড়াদৌড়ির বহু পরামর্শ মিলেছে, আশ্বাস মেলেনি।

কিন্তু ওই যে বললাম, আশা কখনো মরে যায় না। কারণ জার্মানিতে হাজারো সুজন রয়েছে। আমরা তাই প্রতিজ্ঞা করেছি সুজনের দেহভষ্ম নয়, পুরো দেহটাই পৌঁছাবে মায়ের কাছে।

বিসাগের পক্ষ হতে আমরা কখনো অর্থ সাহায্য চাইনা। কিন্তু আজ অন্য কারো জন্য নয়, আমার আপনার মতই একজনের জন্য আকুল আবেদন, আপনারা জার্মানির প্রতি শহরে নিজ নিজ দায়িত্বে অর্থ সংগ্রহ করে অতি দ্রুত সেটি আমাদের কাছে পাঠান।

আমরা জানি আপনারা গতর খেটে দুটো পয়সা উপার্জন করে পড়ালেখা করেন, হয়ত ভাবছেন ৫/১০ ইউরো কিভাবে পাঠানো যায়, লজ্জার ব্যাপার। কিন্তু বিশ্বাস করুন যেকোন পরিমাণ অর্থই ধীরে ধীরে সাড়ে ছয় হাজারের ঘরে পৌঁছবে।

সুজনের ভাইদের সাথে আমরা কেউ কেউ কথা বলি, টেলিফোনের তরঙ্গে হাউমাউ শব্দ শোনা যায়, তবু সুজনের গর্ভধারিণী মা, প্রিয়তম পিতার সাথে কথা বলার সাহস আমাদের হয় না। সুজনের এই সকরুণ পরিণতি পরিবারের সবাইকে চিরদিনের জন্য শোকাহত করে রাখবে সন্দেহ নেই, তবু আমাদের অচেনা অজানা এই ভাইটির জন্য আমাদের হৃদয়ও বিদীর্ণ হয়ে যায়, আমাদের চোখও চিকচিক করে উঠে ভেজা জলে।

যেভাবে সাহায্য পাঠাবেনঃ
Name: MD HASNAIN
IBAN: DE58 2904 0090 0170 7256 00
BIC: COBADEFFXXX

Name: Muhammad Jahid Kabir
IBAN: DE93690400450271504300
BIC: COBADEFF690

পেপালঃ
Email: [email protected]
Name: Muhammad Jahid Kabir

বাংলাদেশে কেউ এগিয়ে আসলে চাইলেঃ
নামঃ সত্যেন্দ্রনাথ
+8801713722861 (বিকাশ নাম্বার)

যেকোন তথ্য বা পরামর্শের জন্যঃ
[email protected]

মোবাইলঃ
১। +49176 23536388 (হাসনাইন- ব্রেমেন)
২। +4917621206417 (রাকিবুল ইসলাম রানা- ব্রেমেন)
৩। +491722976422 (জাহিদ কবীর হিমন- হ্যানোভার)

(যেকোন ধরণের আর্থিক সহায়তা আগামী সোমবার সকালের মধ্যে করার জন্য অনুরোধ করছি, এরপরে হলে আমাদের পক্ষে তা গ্রহণ করা সম্ভব হবে না।)