প্রথম জার্মানি তে অনলি জার্মান ভাষা ইজ রিয়েল, এ ভাষা ছাড়া জার্মান জব মার্কেটে টেকা একটু কষ্টকর। আপনি যেকোনো জার্মান কোম্পানিতে ইংরেজি জব ব্যাতিত যে কোন জবে আবেদন করতে হলে, আপনাকে জার্মান ভাষায় cv বানাতে হবে ও পাঠাতে হবে, নয় আপনার ইংরেজি সিভি পাওয়ার সাথে সাথে কোম্পানির হিউম্যান রেসোর্স থেকে আপনার cv প্রথমেই বাতিল করে দিবে। আপনাকে জব অ্যাপ্লাই এর জন্য কভার লেটার লিখতে হবে (জার্মান ভাষায় অবশ্যই), সেখানে আপনি কেন এই জবের জন্য একজন suitable বা দক্ষ, সেটা আপনাকে কভার লেটারে লিখে প্রমাণ করতে হবে।

তারপর আপনি প্রথম থাপে সিলেক্ট হয়ে গেলে আপনাকে ইন্টারভিউয়ে ডাকা হবে। চ্যালেঞ্জ শুরু হয় এখান থেকেই।

আপনি আপনার জীবনে কোথায় কোথায় কাজ করেছেন , কি কাজ করেছেন সব আপনাকে জার্মান ভাষায় ব্যাখ্যা করে বলতে হবে। কোন কোন প্রজেক্টে কাজ করেছেন এবং কি কি কাজ করেছেন সব আপনাকে জিজ্ঞেস করা হবে এবং আপনাকে উত্তর দিতে হবে জার্মান ভাষাতেই। আপনাকে কনফিডেন্টলি সবকিছুর উত্তর সাবলীল ভাবে দিতে হবে। সার্টিফিকেট সব নিয়ে যাবেন , আপনার সার্টিফিকেট এর scanned copy ইমেইলে পাঠালেও তারা সরাসরি দেখতে চাইবে, এবং আপনার সার্টিফিকেট সম্পর্কে আপনাকে ব্যাখ্যা করতে হতে পারে যে, কোন কোর্সে আপনি কি কি কাজ শিখেছেন ও বা কি কাজ করেছেন।

আমাকে যখন ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়, তিন-জন মিলে আমার ইন্টারভিউ নিয়েছিলো, আমার আগের কাজ, প্রজেক্ট ও দেশের internship/job এর কথা জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো । আমি মাষ্টার থিসিস কোন ফিল্ডে করতে চাই এবং কেন সে ফিল্ড আমার এত প্রিয় সব এসব জিজ্ঞাসা করা হয়। আপনি আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কি কি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স করেছেন ইত্যাদি সব। আমি জার্মান ভাষা টুকটাক পারলেও টেকনিক্যাল কাজ গুলো করেছিলাম ইংরেজিতে, কারণ আমার মাস্টার্স ইংরেজিতে, তাই টেকনিক্যাল টার্ম গুলো শিখে গিয়েছিলাম। সব সময় মুখে হাসি নিয়ে ফ্রেন্ডলি কনভারসেশন করবেন চোখে চোখ রেখে, যদি আপনার কিছু জিনিষে ব্যাখ্যা করতে একটু সমস্যা হচ্ছে, আপনি তাদের রেকুস্ট করতে পারেন, যে এটা আপনার জন্য জার্মান ল্যাঙ্গুয়েজে বলা একটু কঠিন তাই ইংরেজিতে বলার অনুমতি চেতে পারেন।

আমারো হয়েছিলো, অনুমতি চাওয়াতে না করেনি, বলতে দিয়েছিলো। আমার কাজ ছিলো নেটওয়ার্কিং নিয়ে, তাই বিষয়টায় ইংরেজি অনেক টার্ম চলে আসে, যেগুলো জার্মান ভাষায় বলা আমার জন্য কষ্টসাধ্য ছিলো।

ইন্টারভিউ শেষেও আমি তাদের সাথে অনেক কথা বলেছিলাম, তারা প্রথমত আমাকে মনে করেছিলো আমি ইন্ডিয়ান। তখন আমি তাদেরকে বাংলাদেশের ইতিহাস খুলে বললাম, কিভাবে দেশের জন্ম হলো আর কিভাবে আমরা আমাদের স্বাধীনতা পাই, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত। তারা ব্যাপারটাকে অনেক ইন্টেরেস্ট সহ করে শুনতে ছিলো। তারা আমার পরিবার সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করলো, আমার স্ত্রীও কি আইটি নিয়ে পড়েছে কিনা ইত্যাদি।

আমাকে বলা হয়েছিলো, জার্মানিতে কোথাও কাজ করেছি কিনা, আমি বললাম আমি লজিস্টিক্সে কাজ করেছি। পালটা প্রশ্ন আসলো, আইটি তে কেন করো নি, আমি একটু পার্ট নিয়ে জোক্স হিসেবে বললাম ” অ্যাপ্লাই তো অনেক জায়গাতেই করেছিলাম, আমি যে skilled সেটা তারা বুঝতে পারেনি। :p ” তারাও এইটা শুনে আমার সাথে হাসলও বটে। তারপর নানান কথায় হাসি ঠাট্টা করে আমি চলে আসি তাদের বিদায় দিয়ে।

১ মাসের মত সময় তারা নিলো, তারপর আমাকে ফোনে জানানো হল, আমি সিলেক্ট হয়েছি, আমি কাজ করতে ইচ্ছুক কিনা, আমি রাজি হয়ে গেলাম (হমুনা কিল্লাই!!!!!) , তারপর তারা বলল , একটু ধৈর্য ধরো, কারণ আমাদের সেন্টার বার্লিন থেকে কাগজপত্রের কাজ করতে হবে, এটায় একটু সময় লাগবে, যখন সব পেপার রেডি হয়ে যাবে ও কোলনে আসবে, তোমাকে আবার কল করা হবে কন্ট্রাক সাইন করার জন্য। আজ সাইন করে কাজ সেরে আসলাম। কাল থেকে অফিসে বসবো । কোম্পানির নাম Interseroh, a company of ALBA GROUP.

সবাই আমার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করবেন ।