তোমরা যারা অনার্সে ইউরোপ/আমেরিকায় পড়তে আসতে চাও তাদের জন্য। এক বাবা আজকে তার ছেলের জন্য ম্যাসেজ দিছেন।

Sabbir, my son, who is at the moment studying EEE in AIUB 2nd year, now wants to study automobile engineering in Germany. Can you suggest me a way out?

ভদ্রলোকের সাথে অনেকক্ষণ কথা হলো। উনি নিজেও এখন ছেলেকে বাইরে পাঠাতে চান না কিন্তু ছেলের মাথায় কেউ ঢুকাইছে যে অটোমোবাইল পড়তে হলে জার্মানিতে যেতে হবে এবং সে জিদ ধরে আছে। বললাম কোন ইজি ওয়ে বলতে পারবো না তবে ইংলিশ স্পিকিং দেশে যাওয়া উচিত অনার্সে গেলে। আর যদি আমার অনেস্ট সাজেশান চান তাহলে বলবো অনার্স করে তারপরে বাইরে আসতে। ২ বছর যেহেতু পড়েই ফেলছে, আর তো মাত্র ২টা বছর; তাহলেই গ্র্যাজুয়েশান কমপ্লিট। বিদেশে আসলে এই ২ বছরতো নষ্টই সাথে নতুন করে আন্ডারগ্র্যাড শুরু করা, নতুন ভাষা শেখা, নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়ায়ে নেয়া, নতুন লেখাপড়ার সিস্টেমে নিজেকে এ্যাডাপ্ট করা ব্যাপারগুলা একটা ২০/২২ বছর বয়সী ছেলের জন্য কঠিন হবে। উনি বললেন বাবা সবই তো বুঝি, ছেলে তো বোঝে না। 🙁

অনার্সে বাইরে যাবো, ভালো ইউনিতে ভালো সাবজেক্টে অনার্স করবো তারপরে ভালো চাকরি করবো বা নিজেই কিছু করবো; ২০/২২ বছরের সব ছেলেমেয়ের মাথায় এই ধরনের চিন্তাভাবনা আসেই, এটা স্বাভাবিক। ঐ বয়সে আমারও আসতো। কিন্তু তুমি দেশ থেকে ‘বিদেশ’ যেমন দেখো, বিদেশ আসলে তেমন না। বিদেশ মানেই চাইলেই যা ইচ্ছা করা যায়, অনেক সুযোগ-সুবিধা, চারপাশে অনেক সুন্দরী মেয়ে <3 ; এসব দেশ থেকে ভাবা ইজিয়ার কিন্তু আসল ঘটনা ভিন্ন। এইখানে সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা নাই সেটা হলো ‘মা’। বাইরে যাওয়ার সময় খাবার রেডি, বাসায় ঢুকলে চা রেডি, রাতে সময়মতো খাবার রেডি; এই সিস্টেম একমাত্র দেশেই সম্ভব কারণ দেশে একটা ‘মা’ আছেন। এইখানে সেই জিনিস পাবা না, সব নিজের করা লাগবে। ব্যাপারটা তোমার কাছে ‘কইরা ফেলবো, ব্যাপার না!!’ মনে হলেও আসলে এতোটা সহজ না, অন্তত আমরা যে পরিবেশে বড় হই সেখান থেকে এসে না।

যারা বাইরে পড়ালেখা করতে আসে তাদের মধ্যে রেয়ার ২/৩জন ভাগ্যবান বাদে সবাইকেই কাজ করতে হয় মাসের খরচ বাসা থেকে না নেয়ার জন্য। এটা অনার্স না খালি মাস্টার্সের স্টুডেন্টদের জন্যও সত্য। ভাষা শেখা, কাজ করা, লেখাপড়া করা, রান্না করা; সব মিলায়ে এই লাইফটা খুব সুখের না। এর উপরে আছে কাছের মানুষেরা না থাকার কষ্ট। বন্ধু-বান্ধবেরা নাই, মামার টংয়ের দোকানের চা-সিগারেট নাই, স্টারের বিরিয়ানি নাই, রাস্তায় দেখা হইলে ‘আরে মাম্মা!! কতোদিন পর……’ বইলা জড়ায়ে ধরার কেউ নাই। রুমে আইসা দরজাটা বন্ধ করলে এই দুনিয়াতে তুমি একা। তুমি যদি একটা নরমাল মিডল ক্লাস ফ্যামিলির ছেলে/মেয়ে হও এবং ২০/২২ বছর বয়সে দেশে ইউনিভার্সিটিতে ১/২ বছর পড়ে বাইরে আসো তাহলে যে জীবনটা তুমি পাবা ঐটা খুব সুখের না। আমি তোমাকে/তোমাদের ডিসকারেজ করতেছি না অনার্সে বাইরে আসতে, আমি বাস্তবতাটা বলতেছি। অনার্সের পরে আসলে বা দেশে কিছুদিন চাকরি করে আসলে তুমি বাস্তবতাটা ভালো বুঝবা, তখন তোমার জন্য লজিক্যলি চিন্তা করা ইজিয়ার হবে।

আর মা-বাবা/বড় ভাই-বোনদের বলবো যে এইসব সিচুয়েশানে উত্তেজিত হওয়া যাবে না। আপনার ভাই/বোন না হয় ছোট কিন্তু আপনি তো ছোট না। আপনি ঝাড়ি দিলেন, দেখা গেলো সে বইলা দিলো ‘বিদেশ যাইতে না দিলে *লের লেখাপড়াই আর করবো না।’ 😛

তার যা বয়স তাতে এই আবেগ আসা স্বাভাবিক কিন্তু আপনি তো সেই বয়স পার করে আসছেন। আপনি তো বোঝেন যে ঐ বয়সে আপনার যা চিন্তা-ভাবনা ছিলো সবই “ঐ সময়ে” ঠিক মনে হইতো কিন্তু এর ৬০/৭০%ই আসলে ‘হেন করবো তেন করবো’ টাইপের ফ্যান্টাসি।

এই বয়সের ছেলে-মেয়েদের কেয়ারফুলি হ্যান্ডল করতে হবে। সেটা শুধু এই বিষয়ে না, সব বিষয়েই। ঝাড়ি দিয়ে এই বয়সের ছেলে/মেয়ে ঠিক করা যায় না, এই বয়সে দরকার পাশে বসে কাঁধে হাত রেখে আস্তে আস্তে এই কথাগুলা বোঝানোর মতো কাউকে।


আরো পড়তে পারেনঃ