আমাদের দেশে বাড়ির বাইরে টয়লেট এ যাওয়া অনেক বড় বিড়ম্বনা বিশেষ করে মেয়েদের।

আমি যে মুভিটা অনুবাদ করছি নাম আনডিউন । ( মুভি লিঙ্ক https://vimeo.com/136765705 পাসওয়ার্ড 23%bu&/nd ওয়েবসাইট http://www.undune.de/en/undune-the-movie) সেটা আসলে ইকো টয়লেট নিয়ে। আমাদের দেশে সুয়ারেজ ওয়াটার রি-সাইকেল না করে সরাসরি নদীতে ফেলে পানি দূষণ হয়। হাতির ঝিল এই সুয়ারেজ লাইনের পানির আধার।

বিল গেটস ফাউন্ডেশন হাই-টেক সুয়ারেজ ওয়াটার রি-সাইকেল করছে। ভারতেও এই ইকো টয়লেট শুরু হয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে এখনো হয়নি। বাংলাদেশে কিছুদিন আগে একটি ভিডিও খুব প্রচার হচ্ছিলো যেখানে দেখানো হয়েছিল রাস্তায় বা দেয়ালের গায়ে আরবি লেখা দিয়ে মানুষ কে যেখানে সেখানে টয়লেট না করার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঢাকা শহরে প্রায় দু-কোটি মানুষের বাস সেখানে হাজার হাজার রিকশাচালক, পথচারী যাদের সারাদিন বাইরে থাকতে হয় কোন বিকল্প বা সমাধান না দিয়ে তো এদের বিরত রাখা সম্ভব না।আর রি-সাইক্লিং না হলে রাজধানী ঢাকা শহরের প্রায় দু কোটি মানুষের সুয়ারেজ লাইনের পানিতে নদী দূষণ হতেই থাকবে।

জেলা শহর গুলোতে আগে বাড়িতে সেপটিক ট্যাংক ব্যবহার করা হত। কিন্তু বাড়িগুলো দিন দিন ছোট হয়ে আসছে বলে দেড় দু কাঠার বাড়িতে সেপটিক ট্যাংক বানানোর জায়গা পাওয়া দুষ্কর। জেলা শহর গুলোতে এখন প্রায় বাড়িতে দেখা যায় টয়লেট থেকে পাইপ লাইন সরাসরি খোলা ড্রেনে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। যেটা খুব অস্বাস্থ্যকর আর খুব নোংরা । জার্মানিতে আমাদের হোয়েনহেইম ইউনিভার্সিটি থেকে একটা “বায়ো গ্যাস ফর ডেভেলপিং কান্ট্রি” এর উপরে একটা ওয়ার্কশপ এ যারা আগ্রহী তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে নেদারল্যান্ড ইউনিভার্সিটি থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসে। তাদের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের স্যানিটেশন এর এই ভিডিও দেখে আমি লজ্জা, এবং ঘৃণা নিয়ে বসে ছিলাম পুরোটা দেখতে পারিনি। ভিডিও এর লিংক http://www.snv.org/theme/urban-water-sanitation-hygiene

কিছুদিন আগে এক একটা সংবাদ দেখেছিলাম কোন এক বাড়িতে ত্রুটিপূর্ণ সেপটিক ট্যাংক এর উপরে শোবার ঘর বানানো হয়েছিল। পরে গভীর রাতে ট্যাংক গ্যাসের চাপে বিস্ফোরণ এর ফলে বাবা মেয়ে মারা যায় সাথে সাথে আর বাড়ির অন্য সদস্যরা আহত হয়।সুতরাং এই সমস্যাগুলো এখন আর কোনভাবে অগ্রাহ্য করার উপায় নেই।

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে বা অন্য বড় শহর গুলোতে এই ইকো টয়লেট বানানো হচ্ছে খুব কম খরচে এবং পাবলিক প্লেসে জন সাধারণের জন্য। আমাদের ইউনিভারসিটিতেও বানানো হয়েছে।মজার ব্যাপার যারা এই টয়লেট ব্যবহার করছে তাদের উল্টো টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে কেননা তারা এই সেখান থেকে যে বায়োগ্যাস হচ্ছে তা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। আর পানি রি-সাইকেল করে নদীতে দেওয়া হচ্ছে। সব প্যাথজেনিক ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ক্লিন করে জৈব সার যেটা খুব বাজে মাটি যেমন পাহাড় বা মরুভূমির মত অনুর্বর মাটিকে উর্বর বানানো হচ্ছে।

মূলত যখন পৃথিবী বসবাসের অনুপযোগী হবে তখন মঙ্গল গ্রহে মানুষ যখন যাত্রা শুরু করবে তখন তো বার বার চাল ডাল বা খাবারের জন্য মানুষ পৃথিবীতে আস্তে পারবে না। কিন্তু বিকল্প চাই মানুষের চাষাবাদ করে খাবার উৎপাদন করে বেঁচে থাকতে তো থাকতে হবে। কিন্তু মাটিকে চাষাবাদ এর উপযোগী করতে তো মাটির জৈব উপাদান বা organic matter দরকার।

সেই ধারণা থেকে এই মুভি আনডিউন। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির টয়লেট নিয়ে গ্রুপে খুব আলোচনা দেখি । বাংলাদেশে দু একটা প্রাইভেট কোম্পানি এই ইকো টয়লেট বা সুয়ারেজ ওয়াটার রি-সাইক্লিং এ বিনিয়োগ করতে বেশ আগ্রহী।

সিনেমায় যে প্রফেসর কে দেখা যাবে তিনি মূলত ওয়েস্ট ওয়াটার রি-সাইক্লিং ইঞ্জিনিয়ার। ভারতে এবং আফ্রিকার দেশগুলোতে ইকো-টয়লেট প্রজেক্ট শুরু করেছেন।

বুয়েট এর একজন আপু যিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভাড ইউনিভার্সিটি থেকে ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট এর উপর পিএইচডি করেছেন। তিনি বাংলাদেশে ঢাকা-সিটির দুই মেয়র মহোদয়ের সাথে বেশ কয়েক দফা বসেও তাদের এই ইকো-টয়লেট এর ধারণা বোঝাতে পারেননি। জার্মানিতে একজন আর্কিটেক্ট আপু আরবান-প্লানিং এ পিএইচডি করছেন, প্রবল ইচ্ছা শক্তি নিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন কিন্তু দেশে আসলে সব কিছুতে অনেক অনেক বাধা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে ছেলেমেয়েদের সারাদিন থাকতে হয় সেখানে টয়লেট খুব জরুরি একটা বিষয়। বুয়েট টিএসসি ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে এই সব ইকো-টয়লেট শুরু হলে ওয়েস্ট ওয়াটার ইঞ্জিনিয়ার এবং বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট এ বিশেষজ্ঞ পরামর্শ এবং ফান্ডিং পাওয়া সহজ হতো। শিক্ষার্থী ছেলেমেয়েগুলো উপকৃত হতো, কিন্তু জানিনা কিভাবে কোথায়?

রাশা মহিউদ্দিন
স্টুডেন্ট অফ ইনভাইরনমেন্ট প্রটেকশন এন্ড এগ্রিকালচারাল ফুড প্রোডাকশন,
হোয়েনহেইম জার্মানী।