আজ থেকে এক বছর আগে শুরু হয়েছিলো এই কাহিনী। গ্রুপের খুব ই পপুলার কাহিনী- মেহেদীর খপ্পরে পরা মুরগীদের দুঃখের কাহিনী।
হুম আমিও সেই মুরগীদের দলের একজন, যে বিশ্বাস করে নিজে মুরগী হয়েছিলাম। সেই খবর জার্মান প্রবাসের অ্যাডমিনরা বুঝতে পারছিলো আর ঘন্টার পর ঘন্টা আমার পেচাল শুনছে তারা, কি করা লাগবে না লাগবে সেই নিয়ে মিটিং এর পরে মিটিং।
তারপর কেটে গেছে একবছর।
দেখা হয়েছে অনেক বাঙ্গালির সাথে, চেনা হয়েছে কেন আমরা আসলে ই বাঙালি। কেন আমাদের *টকি কাটা বলা হয়। যে কোন টপিকে আমরা ২ ভাগ হয়ে যাই। মিটিং মিছিল হয়েছে অনেক। তখন চেনা হয়েছে অনেক হেডাম ওলা বড় ভাইদের সাথে, যারা পাদ দেয়ার আগে ই নিজের আসল রুপ দেখাই লেজ গুটাই পালাই গিয়েছে। যার যার আখের গুছিয়ে নিয়েছে। যদিও অ্যাডমিনরা সবাইকেই অনেক সময় দিছে, কথা বলছে এবং তথ্যগুলা একসাথে একত্রিত করছে-সবাই সময় খেয়ে পালাইছে। সবকয়টা মীরজাফরের জাত।
তারপর দেখা হয়েছে কিছু ছাগলের ৩ নাম্বার বাচ্চাদের সাথে, যারা ম্যা ম্যা করে সারাদিন, তবে কাজের সময় দৌড় দিয়েছে উল্টা দিকে। নিজেদের সার্টিফিকেটই নকল তারা আবার গলাবাজি করবে কোন মুখে!
দেখা হয়েছে কিছু এমন মানুষের সাথে, যারা কথা দিয়ে কথা না রাখার ক্ষেত্রে পারদর্শী। আর কিছু মানুষের সাথে যারা কয় ভাই, আমার সে দোষী কিন্তু আমার তো কোনো ক্ষতি করেনাই! হ নিজে না বাস খাইলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যায় না।
অনেক প্ল্যান, অনেক কিছু হওয়ার পর বলির বকরা হিসেবে আমি ই একমাত্র বাকি ছিলাম। প্রচণ্ড জিদ এন্ড অনেক কষ্টের টাকার মায়া ছাড়তে পারি নাই বলে। হালাল টাকা গুলো ফেরত পাবো বলে।
আজ আমি পুরাপরি সফল না হলেও রাতে ঘুমাতে গেলে বলতে পারবো যে হারার আগে হেরে যাই নাই। অন্তত ওইসব মানুষদের মত কাপুরুষের মত পালাই যাই নাই, পিছন থেকে অবিশ্বাসের ছুরি মারার পর অন্তত কুনোব্যাঙের মত গর্তে পালাই যাই নাই।
আমি কেস করেছিলাম মেহেদীর নামে, যদিও কেস হওয়ার কথা ছিল ৭ টি। কিন্তু ওই যে বললাম কথা দিয়ে কথা রাখতে না পারার সেই মাত্রার গুণ নিয়ে আমরা বাঙালি হয়েছি।
এক বছর মেহেদি কে শান্তির ঘুম ঘুমাতে দেই নাই। সে ভিসা বাড়াতে পারে নাই আমার কেসের কারণে। তার ব্যাংক আকাউন্ট ব্লক। আর উকিলের দরজায় ঘুরতে ঘুরতে তার হুস হয়েছে যত সহজে সবাই কে মেনেজ করেছে, তত সহজ হয় নাই আমাকে মেনেজ করা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৪০০ ইউরো এর মত খরচ হয়েছে ওর উকিলের পিছনে।
আজ আমি টাকা পেয়েছি।
আমার কাজ শেষ। বাকি যাদের নাকের ডগায় মেহেদি মূলা ঝুলাই রেখেছে ওদের কথা বাদ দেই। বাকিদের যদি টাকা পাওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে অতিসত্বর কেস করতে বলছি ( যদি টাকা পাওয়ার ইচ্ছা থাকে) । কেস করতে কোন টাকা লাগে নাহ, সব সত্যি কথা বললে নিজের কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ও নাই। কি উপায়ে মুরগী হয়েছেন এন্ড কি প্রুফ আছে আপনার কাছে, ওটা ই ইনাফ।
আমার কেস এখন ও রানিং, এই মুহূর্তে আপনারা যদি কেস করেন, তাহলে কোর্ট থেকে ই আপনার টাকা তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করবে ( গ্যারান্টি )।
আর যেসব মুরগীরা দেশে আছেন এন্ড অদূর ভবিষ্যতে জার্মানি আসবেন, তাদের জন্য বলছি দেশে একটা জিডি করেন ( বেশি হলে ১০০-২০০ টাকা লাগবে), পারলে একটা কেস ও করেন ( বেশি হলে ১০০০-২০০০ টাকা লাগবে)। ওই সব কাগজের কপি রাখেন নিজের কাছে। তারপর জার্মানি আসলে ওই সব কাগজ দিয়ে কেস করেন। সব সত্যি কথা বলবেন, তাহলে কোন ভয় নাই, নাহলে প্রমাণ করতে ঠেলা বের হয়ে যাবে।
দশের লাঠি একের বোঝা বলে একটা কথা আছে। সবাই যদি এই মুহূর্তে কেস করেন, তাহলে চরম একটা কেস হবে, নাহলে আমার মত একা একা ফাইট করতে হবে।
শেষ কথাঃ
> কাও কে টাকা ধার দেয়ার আগে লিখিত একটা ডক রাখবেন, সে যত ই ক্লোজ হোক নাহ কেন। ( ক্লোজ মেহেদি গুলো ই আপনার ক্ষতি করবে সব থেকে বেশি)
> গ্রুপের গণ্ডার চামড়ার সবাই কে বলছি, মাঝে মাঝে একটু কঠোর হতে হয়, নিজের পারসোনালিটি ধরে রাখার জন্য হলেও, নাহলে সম্মানের জায়গা টা নড়বরে হয়ে যায়।
> সেই সব বাঙ্গালিদের বলতে চাই, ভাই সাহায্য করতে না পারলে মুখের উপর না করে দিয়েন, তাও নাকের সামনে মূলা ঝুলাই রাইখেন নাহ। আর কতকাল বাঙালি থাকবেন, এইবার একটু মানুষ হন।
> সেই সব কুনোব্যাঙ দের বলছি বাপের টাকার মায়া কম থাকে বলে পিঠ দেখানু উচিৎ নাহ, কারন সবার বাপের টাকা নাও থাকতে পারে, কিছু কিছু মানুষের নিজের ঘামের টাকা ও থাকে।
@মেহেদি, আজ তোমার চোখে কোন অপরাধ বোধ দেখলাম নাহ। তোমাকে যতটা খারাপ ভেবেছিলাম, তুমি তার থেকে ও জঘন্য। কোনদিন তোমার ক্ষমা হবে নাহ, দেখা হবে শেষ বিচারে। আর তার আগে যদি আমার টাইমে দেখা হয়, তাহলে ওইদিন ই হবে তোমার কেয়ামত।
ধন্যবাদ সবাই কে 🙂

মেহেদী হাসান a name of shame-৩

Agency: এজেন্সি/দালাল – মেহেদি হাসানের প্রতারণার ফাঁদ থেকে সাবধান – পর্ব – ১

Agency: এজেন্সি/দালাল – মেহেদি হাসানের প্রতারণার ফাঁদ থেকে সাবধান – পর্ব – ২