ঘটনাটা গত ১৩ ফেব্রুয়ারির।

সরস্বতি পূজা উপলক্ষে ক্লাশ বন্ধ ছিল।সকাল ১০/১১টার দিকে এক লোক অফিসে এসেই প্রথমে জিজ্ঞেস করলেন, এই অফিসের ভাড়া কত?

আমি একটু অবাক হলাম।মনে করলাম vat inspector হবেন হয়তো।বললাম, আপনাকে কেন বলব?আপনার পরিচয় দিন। পকেট থেকে একটা visiting card বের করে দিলেন।লেখা আছে, Tito Kumar Chowdhury, Administrative Officer, Ministry of Expatriates Welfare and Overseas Employment.

বললাম, বলুন কী করতে পারি?উনি বললেন,”জার্মান সরকার এবং প্রবাসী কল্যাণ এবং জনশক্তি মন্ত্রনালয়ের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে জার্মানীতে লোক পাঠানোর ব্যাপারে একটা চুক্তি হয়েছে।সেই চুক্তিবলে ঢাকা থেকে অনেকেই জার্মানীতে গেছেন।কিন্তু বাংলাদেশের এই অঞ্চল মানে চট্টগ্রাম থেকে এখনো কেউ যায়নি।আমরা আমাদের কার্যক্রম এদিকে বাড়াতে চাই।আমাদের শুক্র এবং শনিবারের জার্মান ভাষার কোর্সগুলো আপনাদের এখানে করাতে চাই।এর বিনিময়ে আমরা আপনাদের ভাড়া দেব”।

এতটুকু বলে ভদ্রলোক থামলেন।শুরু থেকেই ভদ্রলোকের আচরণ ছিল যথেষ্ট সন্দেহজনক।আর যখনই উনি বললেন, বাংলাদেশ থেকে জার্মানীতে লোক পাঠানোর ব্যাপারে চুক্তি হয়েছে তখনই বুঝলাম লোকটা প্রতারক।কারণ এই রকম কোন চুক্তির কথা কখনো শোনা যায়নি।

আমি বললাম, আমাদের পক্ষে আপনাদেরকে ভাড়া দেয়া সম্ভব নয়, আর আমাদের সঙ্গে জার্মান দূতাবাসের সামান্য সম্পর্ক আছে।উনি সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, embassy তো sensitive ব্যাপার।এই কথা বলেই উনি দ্রুতবেগে অফিস থেকে বেরিয়ে যান।আমি আর কোন কথা বলার সুযোগই পাইনি।Visiting card এ যে নাম্বারগুলো দেয়া আছে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।


মনে হচ্ছে জার্মানীতে লোক পাঠানোর নামে কেউ প্রতারণা শুরু করেছেন।


আজকে জনশক্তি মন্ত্রীর PS কে ঘটনাটা জানিয়েছি।জার্মান দূতাবাসেও ঘটনাটা আগামীকাল জানাব।আপনারা এই সম্পর্কিত কোন তথ্য পেলে আমাদেরকে জানাবেন এবং আপনাদের পরিচিতজনদের এই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলবেন।


আরো পড়তে পারেনঃ